, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ অনলাইন সংস্করণ

নৌকাবাইচ দেখে তিতাসের পাড়ে হাজারো মানুষের উচ্ছ্বাস

  নিজস্ব প্রতিবেদক

  প্রকাশ : 

নৌকাবাইচ দেখে তিতাসের পাড়ে হাজারো মানুষের উচ্ছ্বাস

তিতাস নদীর দুই তীরে হাজারো মানুষের উচ্ছ্বাস। মাঝখানে বৈঠার ছলাৎ ছলাৎ শব্দ। বৈঠার ছন্দে যেন উত্তাল হয়ে ওঠে শান্ত তিতাস। রোববার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে এমনই মনোমুগ্ধকর পরিবেশে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বর্ণাঢ্য নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসীর প্রাণের উৎসব তিতাস নদীতে নৌকাবাইচ। তবে করোনা মহামারির কারণে গত দুই বছর বন্ধ ছিল এই প্রতিযোগিতা। এবার করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় নৌকাবাইচের আয়োজন করে জেলা প্রশাসন।

জেলা শহরের শিমরাইলকান্দি থেকে মেড্ডা এলাকা পর্যন্ত তিতাস নদীতে নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ আশপাশের জেলাগুলো থেকে আসা ১৩টি নৌকা অংশ নেয়। দীর্ঘদিন পর নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা দেখতে পেরে আন্দন্দিত সাধারণ মানুষ। নৌকাবাইচ দেখতে দুপুর থেকে নদীর তীরে ভিড় করতে থাকে মানুষজন। প্রতিবছর এই প্রতিযোগিতা আয়োজনের দাবি তাদের। 

আশিকুল আলম নামে এক যুবক জানান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরে বিনোদনের তেমন কোনো জায়গা নেই। প্রতি বছর নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা বিনোদনপ্রেমীদের মনের খোরাক যোগায়। দুই বছর বন্ধের কারণে এবারের প্রতিযোগিতা নিয়ে উচ্ছ্বাস ছিল বেশি।

dhakapost

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সাহিত্য একাডেমির সভাপতি কবি জয়দুল হোসেন জানান, একটি গোষ্ঠীর অপপ্রচারে কয়েক বছর নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা বন্ধ ছিল। এতে করে বিনোদনমূলক এ আয়োজন উপভোগ করতে পারেননি সাধারণ মানুষ। তবে এখন আবারও নৌকাবাইচ শুরু হওয়ায় মানুষজন বিনোদন পাচ্ছেন। প্রতিবছর এই প্রতিযোগিতা আয়োজনে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

জেলা প্রশাসনের তৎপতরায় এবার নদীতে বাইচের নৌকা ব্যতীত অন্য নৌযান চলাচল বন্ধ রাখা হয়। পরে বাইচ শেষে প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা।

পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের সংসদ সদস্য র. আ. ম. উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী। বিশেষ অতিথি ছিলে  বিজিবি-৬০ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল আশিক হাসান উল্লাহ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনিসুর রহমান, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক ফাহিমা খাতুন ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার মেয়র নায়ার কবির প্রমুখ।

জেলা প্রশাসক মো. শাহগীর আলম বলেন, করোনার কারণে বিগত দুই বছর নৌকাবাইচের আয়োজন করা যায়নি। তবে আগামীতে আরও বড় আকারে বর্ণিলভাবে নৌকাবাইচের আয়োজন করা হবে।

 

  • সর্বশেষ - সারাদেশ