, ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ অনলাইন সংস্করণ

রঙ ছড়াচ্ছে রাবির শারমিনের হাতে আঁকা পোশাক

  নিজস্ব প্রতিবেদক

  প্রকাশ : 

রঙ ছড়াচ্ছে রাবির শারমিনের হাতে আঁকা পোশাক

হ্যান্ড পেইন্ট বা হাতে আঁকা পোশাক বিগত কয়েক বছর ধরে দেশে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। করোনাকালে এই পোশাকের ব্যবসা ও ব্যবহার বেশ বেড়েছে। তৈরি হয়েছে অনেক উদ্যোক্তা। ঠিক তেমনি হ্যান্ডপেইন্টিং ডিজাইনে এখন সফল উদ্যোক্তা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) চিত্রকলা, প্রাচ্যকলা ও ছাপচিত্র বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী শারমিন সুলতানা। 

মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলায় তার বাসা। করোনাকালীন সময়ে বিশ্বে যখন স্থবিরতা বিরাজ করছিল ঠিক সেই মুহূর্তে অবসর সময়টাকে কীভাবে কাজে লাগানো যায় ভাবছিলেন তিনি। তখন দেশীয় পণ্য নিয়ে কাজ করার মনোবাসনা বাস্তবায়ন করার কথা মাথায় আসে তার। শুরু করে তার সুপ্ত ইচ্ছাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার ।

dhakapost.com

প্রথম থেকেই পরিবারের সহযোগিতা পেলেও কটু কথা শুনতে হয়েছে প্রতিবেশীদের কাছ থেকে। কিন্তু অদম্য আগ্রহের কাছে হেরে যায় সব প্রতিকূলতা। মুনাফার কথা চিন্তা না করে শুধু দেশীয় পণ্যকে কীভাবে আরও বেশি নান্দনিক ও সমৃদ্ধ করা যায় সেই চিন্তা তার মাথায়। পাঞ্জাবি, শাড়ি, জামা ইত্যাদি পোশাকের ওপর হ্যান্ডপেইন্ট নিয়ে কাজ করার পাশাপাশি হ্যান্ড স্টিচ, তাঁতের নিজস্ব ডিজাইনের পোশাক তৈরি, খাদি পাঞ্জাবি ইত্যাদি নিয়েও কাজ করেন তিনি। পাটের ব্যাগ তৈরি ও তার ওপর পেইন্টের কাজও করেন এই শিক্ষার্থী।

নিজের অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি বলেন, ছোটবেলা থেকেই ইচ্ছে ছিল দেশীয় পণ্য নিয়ে কাজ করার। আস্তে আস্তে স্বপ্নটাকে বাস্তবায়ন করার জন্য ছোট ছোট পদক্ষেপ নিতে শুরু করি। দেশীয় পণ্যকে তুলে ধরা এবং প্রচারই আমার মূল উদ্দেশ্য। আমার তৈরি প্রোডাক্টগুলোর বিনিময় মূল্য থাকে খুবই সীমিত। যেন শিক্ষার্থীদের বাজেটের মধ্যে থাকে। বিভিন্ন ম্যাটারিয়াল ও কাজের মাত্রার ওপর দাম নির্ধারণ করে ৪৫০ থেকে ৮৫০ টাকার মধ্যে রাখার চেষ্টা করি। 

দেশীয় পণ্য নিয়ে কাজ করার চিন্তাভাবনা অনেক ছোট থেকেই ছিল আমার। নবম-দশম শ্রেণিতে পড়াকালীন বাবার সঙ্গে মেলা দেখতে যায় সে। সেখানে বাঁশের শিল্প, তালের পাখা, জামদানি শাড়ি, স্ট্রিচের কাথা সেলাইয়ের কাজ, মাটির পুতুল দেখে অভিভূত হন এ উদ্যোক্তা। তারপর থেকেই শিখতে থাকেন হ্যান্ডপেইন্টিং এর কাজ। দেশীয় পণ্য নিয়ে কাজ করতে বুটিক হাউজও তৈরি করতে চান তিনি। সেখানে কয়েকজন নারী উদ্যোক্তাকে নিয়ে আরও বড় পরিসরে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন ক্ষুদে এই উদ্যোক্তা ।

রংপুর থেকে অনলাইনে শারমিনের কাছ থেকে হ্যান্ডপেইন্টিং করা একটি পাঞ্জাবি অর্ডার করেন সোহানুরজ্জামান। পাঞ্জাবি হাতে পেয়ে অনলাইনের এমন সেবার সন্তুষ্টি প্রকাশ করে তিনি বলেন, লীলাবতী-পেজটি থেকে আমি দ্বিতীয়বারের মতো হ্যান্ডপেইন্টেড একটি পাঞ্জাবি অর্ডার করি। অর্ডার করে আমি সম্পূর্ণরূপে সন্তুষ্ট। পাঞ্জাবিটি সুন্দর ও মানসম্মত ছিল এবং অনেক কম মূল্যেই পেয়েছি।

এমন উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্টা তারেক নূর বলেন, উদ্যোক্তা হওয়ার কোনো বিকল্প নেই। আমাদের মেয়েরা এখন সকল ক্ষেত্রেই এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশে ভালো ভালো সেক্টরগুলোতে ছেলেদের পাশাপাশি মেয়েরাও কাজ করছে। পড়াশোনার পাশাপাশি শারমিনের এমন উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে বলে জানান এ ছাত্র উপদেষ্টা।

  • সর্বশেষ - শিক্ষাঙ্গন