, ২১ মাঘ ১৪২৯ অনলাইন সংস্করণ

বিদেশে ঘুস লেনদেন বন্ধে বাংলাদেশের শীর্ষ বাণিজ্য সহযোগীরা ব্যর্থ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

  প্রকাশ : 

বিদেশে ঘুস লেনদেন বন্ধে বাংলাদেশের শীর্ষ বাণিজ্য সহযোগীরা ব্যর্থ

বিদেশে ঘুস লেনদেন বন্ধে বাংলাদেশের শীর্ষ বৈদেশিক বাণিজ্য সহযোগীদের ব্যর্থতায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

দুর্নীতিবিরোধী সংস্থাটি বলছে, বিদেশে ঘুস বন্ধে ব্যর্থ দেশগুলোর সঙ্গে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাংলাদেশের জন্য বিপদসংকেত। বৃহস্পতিবার (১৩ অক্টোবর) সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এই কথা বলে টিআইবি।

২০২২ সালের বৈশ্বিক রপ্তানিতে দুর্নীতির বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে বার্লিনভিত্তিক ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল (টিআই)। যাতে বলা হয়, বৈশ্বিক রপ্তানির প্রায় ৪০ ভাগ যাদের করায়ত্ত, এমন ২০টি দেশ বিদেশে ঘুস প্রদান বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি।

এই বিষয়টি উল্লেখ করে দুর্নীতিবিরোধী সংস্থাটির বাংলাদেশি শাখার নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বিদেশে ঘুস প্রদান বন্ধে ব্যর্থ দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে ভারত, চীন, রাশিয়া, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, হংকং ও সিঙ্গাপুর। যারা বাংলাদেশের শীর্ষ বাণিজ্য সহযোগী। একই সঙ্গে তারা বিনিয়োগ অংশীদার। যা বাংলাদেশের জন্য বিপদসংকেত।

এসময় টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বৈদেশিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগে যে কোনো প্রকার দুর্নীতি প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা নিতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে রপ্তানি ও বিনিয়োগকারী দেশগুলোর ক্রমাগত ব্যর্থতার কারণে আমাদের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ উদ্বেগজনকভাবে দুর্নীতির ঝুঁকিতে পড়ছে, যা হতাশার। পরিহাসের বিষয় হচ্ছে, এই দেশগুলোর অধিকাংশই আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ও বিশ্বাসযোগ্য বেশিরভাগ দুর্নীতির সূচকে বাংলাদেশের চেয়ে ভালো অবস্থানে রয়েছে।

ইফতেখারুজ্জামান বলেন, আমরা আশা করবো, তারা আমাদের মতো দেশে রপ্তানি দুর্নীতি বন্ধে নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী সবকিছু করবে।

টিআইবির নির্বাহী পরিচালক আরও বলেন, টিআইবি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ অংশীদারিদের ব্যর্থতার কাছে বাংলাদেশের জিম্মি হয়ে থাকার যৌক্তিকতা নাই।

টিআইয়ের প্রতিবেদনে বৈদেশিক বাণিজ্যে শুধুমাত্র সুইজারল্যান্ড ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে বিদেশে ঘুস লেনদেন বন্ধে সক্রিয় কার্যকর হিসেবে ধরা হয়েছে। তবে দেশ দুটি এখনো সর্বোচ্চ প্রত্যাশিত মান অর্জন করতে পারেনি।

মূল্যায়নে সর্বনিম্ন কার্যকর দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে বেলজিয়াম, বুলগেরিয়া, চেক-প্রজাতন্ত্র, ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, হাঙ্গেরি, আয়ারল্যান্ড, লিথুনিয়া, লুক্সেমবার্গ, মেক্সিকো, পোল্যান্ড, স্লোভাকিয়া ও তুরস্ক।

সীমিত কার্যকর বা নিচ থেকে দ্বিতীয় ক্যাটাগরিতে থাকা দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে আর্জেন্টিনা, অস্ট্রিয়া, ব্রাজিল, কানাডা, গ্রিস, নেদারল্যান্ডস, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, স্পেন ও সুইডেন।

পরিমিতভাবে কার্যকর দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স, জার্মানি, নরওয়ে ও যুক্তরাজ্য।

  • সর্বশেষ - জাতীয়