, ২১ মাঘ ১৪২৯ অনলাইন সংস্করণ

সিলেট-৬ এলাকাবিমুখ নুরুল ইসলাম নাহিদ, ‘জোর’ মনোনয়নপ্রত্যাশী ৩

  নিজস্ব প্রতিবেদক

  প্রকাশ : 

সিলেট-৬ এলাকাবিমুখ নুরুল ইসলাম নাহিদ, ‘জোর’ মনোনয়নপ্রত্যাশী ৩

বিয়ানীবাজার ও গোলাপগঞ্জ উপজেলা নিয়ে সিলেট-৬ আসন। এই এলাকার অধিকাংশ বাড়িতেই আছেন লন্ডনপ্রবাসী। আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জামায়াতের দলীয় অবস্থান প্রায় সমান হলেও টানা চারবারের এমপি সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। জাতীয় রাজনীতিতে সৎ ও বাম আদর্শের রাজনীতিক হিসেবে পরিচিত নাহিদ এলাকায় সময় কম দেন। নেতাকর্মীরা তার ওপর নাখোশ। তাকে মনোনয়ন দিলে জামানত বাজেয়াপ্ত হবে বলেও মন্তব্য অনেকের।

এলাকা ঘুরে জানা যায়, স্থানীয় এমপি আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য নুরুল ইসলাম নাহিদ দীর্ঘদিন এলাকায় সময় দেন না। নিজ দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গেও আছে বেশ দূরত্ব। কেন্দ্রীয় নেতা হিসেবে মনোনয়ন নিয়ে এলে সবাই সমর্থন দিয়ে এমপি বানান। কিন্তু পরে আর তার খোঁজ মেলে না। নেতাকর্মীরা তাকে সুখ-দুঃখে পান না। যে কারণে এবার অনেকে তার ওপর নাখোশ।

তারা বলছেন, তাকে মনোনয়ন দিলে মানবেন না। তার পক্ষে কাজও করবেন না। তিনি প্রার্থী হলে জামানত হারাবেন।

তার এলাকাবিমুখতার সুযোগ নিয়ে কাজ করছেন একাধিক প্রার্থী। তারা নেতাকর্মীদের পাশাপাশি এলাকার মানুষের কাছেও যাচ্ছেন, কাজ করছেন।

জানা যায়, এই আসনে ফের আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চাইবেন দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। তবে তার এলাকা বিচ্ছিন্নতার সুযোগে মনোনয়নের জন্য জোর চেষ্টা করবেন কানাডা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি সরওয়ার হোসেন, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নাসির উদ্দিন খান ও বিয়ানীবাজার উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কাশেম পল্লব।

কানাডা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি সরওয়ার হোসেন বলেন, ‘করোনার সময় থেকে এলাকা ছাড়িনি। কিন্তু আমার বর্তমান এমপিকে বাইরে থেকে অনেকে মনে করে খুব ভালো মানুষ, সৎ মানুষ, কত কিছু, কত উপাধি! এলাকায় গেলে খোঁজ-খবর নিয়ে জানতে পারবেন। করোনা গেলো, বন্যা গেলো, কত কিছু হলো- কিন্তু গত তিন বছর তিনি এলাকায় নেই। তিন বছর কেন, পাঁচ বছর না থাকলেও তার তকদিরে দেয়, এমপি হন, মন্ত্রী হন, বারবার মনোনয়ন পান। সেটা হলো ভিন্ন। আমি কাজ করে যাচ্ছি, যেটা হওয়ার হবে। তবে শতভাগ মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে। কেউ তাকে চায় না।’

তিনি বলেন, ‘আমি মনোনয়ন পেলেও আছি না পেলেও আছি। যতদিন কাজ করার বয়স আছে, ভবিষ্যতেও কাজ করে যাবো।’

বিয়ানীবাজার উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কাশেম পল্লব বলেন, ‘আমি গত দুবার মনোনয়ন চেয়েছি। এবারও চাইবো। আমিই এখানে একমাত্র ছাত্রলীগ থেকে আসা প্রার্থী। এছাড়া কেউ নেই।’

দলের অবস্থা কী জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এখানে নৌকার ভোট দুই-তৃতীয়াংশ। আমাকে যদি দেয় আমি বিপুল ভোটে পাস করবো। বর্তমান এমপি নুরুল ইসলাম নাহিদ সাহেবকে নৌকা দিলে জামানত বাজেয়াপ্ত হবে।’

গোলাপগঞ্জের বইটিকরবাজারে কথা হয় ঠিকাদার হারুন অর রশিদের সঙ্গে। তিনি বলেন, এখানে প্রবাসী বেশি। এলাকার কেউ কারও ওপর নির্ভরশীল নয়। সবাই টাকাওয়ালা। আমাদের এমপি এলাকায় তেমন আসেন না।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সম্প্রতি বন্যায় বেসরকারিভাবে ক্ষতিগ্রস্তদের বেশি সহায়তা করা হয়েছে। সরকারি সহায়তাও এসেছে, তুলনামূলক কম।

দলগুলোর অবস্থান জানতে চাইলে বয়োজ্যেষ্ঠ রুহুল আমিন বলেন, উপরে তো মনে হয় আওয়ামী লীগ। ভেতরে ভেতরে বিএনপির কাজ বেশি চলে। তবে যেই রাষ্ট্রের দায়িত্বে থাক, আমাদের সমস্যা নেই। প্রয়োজন সুষ্ঠু নির্বাচন। এখন তো মানুষ ভোটকেন্দ্রে যায় ভয়ে ভয়ে। সেই ভয় দূর করতে হবে।

স্থানীয়দের দাবি, এখানে আওয়ামী লীগ, বিএনপি এবং জামায়াতের অবস্থান প্রায় সমান। বিএনপি-জামায়াতের দূরত্বের ফলে আওয়ামী লীগ থেকে এমপি হন। কিন্তু এখন তো আওয়ামী লীগেই দূরত্ব দেখা দিয়েছে। আওয়ামী লীগের কোন্দলের কারণে এখন সুবিধাজনক অবস্থায় বিএনপি-জামায়াত জোট।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আওয়ামী লীগের কর্মী বলেন, এখানে নুরুল ইসলাম নাহিদ সাহেবকে নৌকা দিলে সরওয়ার সাহেবসহ অনেকে কাজ করবেন না। বরং ভেতরে ভেতরে বিরোধিতা করবেন। নৌকা ফেল করার আশংকা থাকবে। এমনকি আওয়ামী লীগে বিদ্রোহী প্রার্থীও হয়ে যেতে পারে কেউ।

বিয়ানীবাজার ও গোলাপগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত জাতীয় সংসদের ২৩৪ নম্বর আসন সিলেট-৬। মোট ভোটার ৩, লাখ ৯৩ হাজার ৮৮৫, পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৯৫ হাজার ৭১৬, নারী ভোটার ১ লাখ ৯৮, হাজার ১৬৯।

এখানে ১৯৯১ সালে কাঁস্তে প্রতীক নিয়ে জাতীয় পার্টির কাছে পরাজিত হন সিপিবির নুরুল ইসলাম নাহিদ। পরে বাম এ নেতা আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে ১৯৯৬ সালে নৌকা প্রতীক নিয়ে জাতীয় পার্টিকে হারান। পরাস্ত জাতীয় পার্টি এরপর আর এ আসনে চোখ দেয়নি। ২০০১-এ বিএনপির বিদ্রোহী ছাড়া বাকি সময়ে নির্বাচিত হয়েছেন বাম থেকে আসা আওয়ামী লীগের নাহিদ। দুবার শিক্ষামন্ত্রীও ছিলেন। গত বার আওয়ামী লীগ তাকে প্রেসিডিয়াম সদস্যও করেছে। কিন্তু মন্ত্রিত্ব হারানোর পর রাজনীতির মাঠে দেখা মেলেনি নাহিদের। এমনকি তিনি তার নির্বাচনী আসনেও যান না। যে কারণে স্থানীয় আওয়ামী লীগ তাকে আর সুযোগ দিতেও চায় না।

  • সর্বশেষ - ইলেকশন স্পেশাল