, ২৬ মাঘ ১৪২৯ অনলাইন সংস্করণ

শীতের সবজিতে ভরপুর খুলনার বাজার, কমছে দামও

  নিজস্ব প্রতিবেদক

  প্রকাশ : 

শীতের সবজিতে ভরপুর খুলনার বাজার, কমছে দামও

ভারী বর্ষণে জমে থাকা পানি সরে যাওয়ায় খুলনা অঞ্চলের সবজি ক্ষেতগুলো এখন আবার আগের রূপে ফিরেছে। কৃষকরা খুশি মনেই তুলছেন শীতের সবজি। বাজারগুলোতেও বড়েছে সরবরাহ। কমতে শুরু করেছে দামও। যা ক্রেতাদের জন্য একটু হলেও স্বস্তির সুবাস এনে দিয়েছে।

তবে আবারও ভোজ্য তেলের দাম বাড়তে পারে এমন আভাসে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন ক্রেতারা। চাল-ডালের বাজার মোটামুটি স্থিতিশীল আছে। বাজারে মিলছে সামুদ্রিক মাছ।

খুলনার সবজি ভান্ডার হিসেবে খ্যাত ডুমুরিয়া উপজেলার ধামালিয়া, রুদাঘরা, শোভনা, জিলেরডাঙ্গা, খর্নিয়া, আটলিয়া, শরাফপুর, সাহস, বরইতলা এলাকা ঘুরে দেখা যায়, কৃষকদের ক্ষেতগুলো ভরপুর হয়ে উঠেছে ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিম, বিটকপি, লাল শাকসহ বিভিন্ন প্রকার সবজিতে। যারা আগাম সবজি চাষ করেছিলেন তারা আবারও জমি প্রস্তুত করছেন।

kh-10

কৃষকরা বলছেন, সিত্রাংয়ের প্রভাবে বেশ ক্ষতি হয়েছিল। কিন্তু এখন তা কাটিয়ে উঠতে শুরু করেছেন তারা।

শনিবার খুলনার বিভিন্ন বাজারে গিয়ে দেখা যায়, ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে ৫ টাকা কমেছে। প্রতি কেজি ব্রয়লার ১৬০ থেকে ১৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কক মুরগি ২৮০ টাকা, তবে সোনালী জাতের মুরগি আগের মতো ৩১০ থেকে ৩২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৫২ টাকায়। বরাবরের মতো গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৬৫০ টাকা দরে।

বাজারে ফুলকপি, বাঁধাকপি, বিটকপি, শিমের দাম কেজিতে ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। শীতের সবজির পাশাপাশি অন্য সবজির দামও কমেছে।

জোড়াকল বাজারের সবজি বিক্রেতা রবিউল, বাদশা, মাসুম, রানা জানান, কয়েকদিন ধরে বাজারে শীতের সবজির সরবরাহ অনেক বেড়েছে। একই সঙ্গে বিক্রিও বেড়েছে। সকালে সবজি আনলে দুপুরের আগেই শেষ হয়ে যাচ্ছে।

নগরীর ময়লাপোতা সন্ধ্যা বাজারে গিয়ে দেখা যায়, বাজার সামুদ্রিক মাছে ভরে গেছে। তবে দাম হাঁকা হচ্ছে বেশী।

kh-10

এ বাজারের মাছ বিক্রেতা জাফর বলেন, ইলিশ শিকারে নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পর জেলেরা সমুদ্রে নেমেছে। ইলিশের জাল পাতলেও তাতে উঠছে সামুদ্রিক সব মাছ। টুনা, পাঙ্গাস, আইড়, ট্যাংরা, পার্শে, চিতল, ভেটকি, ভোলা, রূপচাঁদা, লইট্টা, দাতিনা, পাবদা, শোলমাছ মাছ পাওয়া যাচ্ছে। ঘের আর পুকুর থেকে যে রুই আর কাতলা আসছে তা চাহিদার তুলনায় খুবই সামান্য।

অন্য ব্যবসায়ীরা জানান, বাজারে প্রতি কেজি চিংড়ি মাছ বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা, পাঙ্গাস ১৫০ টাকা থেকে ৮০০ টাকা, গলদা চিংড়ি ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা, রুই কাতলা ২২০ থেকে ৩৮০ টাকা, বেলে মাছ ৪০০ টাকা, পাবদা ২৫০ থেকে ৪০০ টাকা, দেশী কই মাছ ৪০০ টাকা, শোল মাছ ৬০০ টাকা, সিং ও মাগুর মাছ ৪০০ থেকে ৬০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

ভোক্তা অধিকার দপ্তর খুলনার উপ-পরিচালক শিকদার শাহিনুল আলম জাগো নিউজকে বলেন, বাজারে চাল ডাল তেলের দাম মোটামুটি স্বাভাবিক রয়েছে। টিসিবি আর ওএমএস’র কারণেই এটা সম্ভব হয়েছে। এছাড়া অন্যান্য পণ্যের দামও প্রায় একই আছে।

  • সর্বশেষ - সারাদেশ