, ২৬ মাঘ ১৪২৯ অনলাইন সংস্করণ

৬৪ হাজার বায়োগ্যাস প্লান্ট তৈরি করছি : ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

  নিজস্ব প্রতিবেদক

  প্রকাশ : 

৬৪ হাজার বায়োগ্যাস প্লান্ট তৈরি করছি : ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

চলমান বৈশ্বিক সংকটের কারণে দেশে গ্যাস ও ডিজেল সংকট হচ্ছে। তার প্রভাবে বিদ্যুতের সমস্যাও হচ্ছে। এই সংকট মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় দেশের ৬৪ জেলায় ৬৪ হাজার বায়োগ্যাস প্লান্ট তৈরি করছেন বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ হাসান রাসেল।

বৃহস্পতিবার (১০ নভেম্বর) রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে আয়োজিত ব্র্যাকের স্কিল ট্রেনিং ফর অ্যাডভান্সিং রিসোর্সেস প্রোগ্রামের (স্টার) ১০ বছর পূর্তি উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।

ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, এজন্য প্রধানমন্ত্রী যুব মন্ত্রণালয়কে ১১২ কোটি টাকা দিয়েছে। আমরা একটি প্রকল্পের অধীনে ৬৪ হাজার বায়োগ্যাস প্লান্ট করছি। এই বায়োগ্যাস যদি সঠিকভাবে উৎপাদন করা যায় তাহলে জাতীয় অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখবে। বিদ্যুৎও সাশ্রয় হবে।

জাহিদ হাসান রাসেল বলেন, যুব মন্ত্রণালয়ের অধীনে এখন পর্যন্ত ৬৭ লাখ যুবককে প্রশিক্ষণ দিয়েছি। এর মধ্যে ১০ লাখ যুবককে ২ হাজার ২২৫ কোটি টাকা স্টার্টআপ ক্যাপিটাল হিসেবে দিয়েছি। যুবকদের উদ্যোক্তা বানাতে সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকের সঙ্গে কাজ শুরু করেছি।

তিনি বলেন, এরই মধ্যে কর্মসংস্থান ও এনআরবিসি ব্যাংকের সঙ্গে চুক্তি করেছি। চুক্তি অনুসারে কর্মসংস্থান ব্যাংক বছরে ৩০ হাজার যুবককে স্টার্টআপ ক্যাপিটাল দেবে আর এনআরবিসি ব্যাংক ৫০ হাজার যুবককে স্টার্টআপ ক্যাপিটাল দিয়ে সহযোগিতা করছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকারি ব্যাংকের চেয়ে বেসরকারি ব্যাংকগুলো বেশি সহায়তা করছে। তারা সর্বোচ্চ ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত জামানত বিহীন ঋণ দিচ্ছে আর সরকারি ব্যাংক সাড়ে ৩ লাখ টাকা দিচ্ছে।

দেশের প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি কর্মসংস্থান বাড়াতে বিশ্ব ব্যাংক ও আইএলও এক সঙ্গে কাজ করছে— উল্লেখ করে জাহিদ আহসান রাসেল বলেন, বিশ্ব ব্যাংকের সঙ্গে ৪০০ মিলিয়ন ডলার সহায়তা নিয়ে কাজ করছি। তারা ৫ বছর মেয়াদে এই টাকা সহায়তা করবে। এর মাধ্যমে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর ২০ লাখ যুবককে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের কারণে স্থানীয় লোকজনের অনেক সমস্যা হচ্ছে। স্থানীয় লোকজনের জন্য আইএলওর সহায়তায় একটি বিশেষ প্রকল্প নিয়েছি। তাদের কর্মসংস্থানের জন্য ১০৫ কোটি টাকার সহায়তা দেওয়া হবে।

ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, পদ্মা সেতুর কারণে দুই পাশের অনেক লোকজন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে গৃহহীন ও কর্মহীন হয়ে পড়া ৪ হাজার ৭০০ জনকে প্রশিক্ষণ দিয়েছি। তাদের স্টার্টআপ ক্যাপিটাল হিসেবে ৬ কোটি টাকা সহায়তা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি যেসব উদ্যোক্তা পণ্য তৈরির পরও বিক্রি করতে পারছে না, তাদের জন্য যুব শপ ও যুব কিচেন তৈরি করছি।

সড়ক দুর্ঘটনা বেড়ে গেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশে-বিদেশে গাড়ি চালকের অনেক চাহিদা। তাদের এই চাহিদাকে কীভাবে পূরণ করা যায় তার জন্য প্রধানমন্ত্রী আমাদের নির্দেশনা দিয়েছেন। কীভাবে কর্মসংস্থানের পথে নিয়ে আসা যায়, সেজন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে চার মাস ধরে কাজ করছি। ৪০ জেলায় এক হাজার করে ৪০ হাজার যানবাহনের চালক তৈরিতে কাজ করছি।

জাহিদ আহসান রাসেল বলেন, স্টার ১০ বছর ধরে কাজ করছে, ভবিষ্যতে আরও বড় আকারে কাজ করবে বলে প্রত্যাশা করছি। আমাদের সবার উদ্দেশ্য হচ্ছে মানুষের ঘরে আলো জ্বালানো, মানুষের মুখে হাসি ফোটানো। 

অনুষ্ঠানে ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহ্ বলেন, স্কুলের প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার বাইরে অনেক কিশোর-তরুণ রয়েছে। যারা অন-দ্য-জব ট্রেনিং প্রোগ্রামের অধীনে কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বেকারত্ব দূর করতে পারে। নারী অংশগ্রহণকারীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির ক্ষেত্রে এই কর্মসূচি আরও বেশি কার্যকর ভূমিকা রেখেছে।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-আনুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর যুগ্ম সচিব মু. নুরুজ্জামান শরীফ, সমন্বিত গ্রাম উন্নয়ন কর্মসূচি (সিভিডিপি) প্রকল্প পরিচালক ড. মো. আলফাজ হোসেন এবং কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও অতিরিক্ত সচিব ডা. মো. ওমর ফারুক।

২০১২ সালে ব্র্যাক কারিগরি শিক্ষায় দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে স্কিল ট্রেনিং ফর অ্যাডভান্সিং রিসোর্সেস প্রোগ্রাম (স্টার) কার্যক্রম শুরু করে। এই কার্যক্রমের সঙ্গে ইউনিসেফ, আইএলও এবং উপ-আনুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো যুক্ত রয়েছে। প্রশিক্ষণ কার্যক্রমটির আওতায় এপর্যন্ত দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ১ লাখ ২০ হাজার যুবাকে কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধিতে প্রশিক্ষণ দিয়েছে ব্র্যাক। এই কার্যক্রমে শতকরা ৬০ ভাগ নারী বিশেষভাবে উপকৃত হয়েছেন।

  • সর্বশেষ - জাতীয়