, ২৬ মাঘ ১৪২৯ অনলাইন সংস্করণ

দেশের ৩৮টি কারাগারে বন্দীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

  জাতীয়

  প্রকাশ : 

দেশের ৩৮টি কারাগারে বন্দীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান এমপি বলেছেন, যারা পালিয়েছে তারা (জঙ্গি) দীর্ঘদিন ধরে একটা পরিকল্পনা করেই এই জিনিসটা ঘটিয়েছে। যেখানে আমাদের দুর্বলতা ছিল, সেই দুর্বলতার ফাঁক ফোঁকর দিয়ে এরা বেরিয়ে গেছে, এটা যথার্তই। সেজন্যই এ দুর্বলতাটা কে তৈরি করে দিল, কারা এর জন্য দায়ী, কারা এই সুযোগ-সুবিধা ওভারলোক করেছে কিংবা গাফিলতি আছে, সেগুলোর জন্য আমরা দু’টি তদন্ত কমিটি গঠন করে দিয়েছি। এই তদন্ত কমিটির রিপোর্টগুলি আমাদের কাছে এখনো আসেনি। রিপোর্ট আসলে, তদন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী যা ব্যবস্থা নেওয়ার সেই ব্যবস্থা আমরা অবশ্যই নেব। 

তিনি আরো বলেন, কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কারাগারে বেশিরভাগ জঙ্গিরা থাকে। এই জঙ্গিদের নিয়ে আপনারা (সাংবাদিকরা) যেমন উদ্বিগ্ন, আমরাও এ ব্যাপারে উদ্বিগ্ন। 

তিনি মঙ্গলবার সকালে গাজীপুরের কাশিমপুর কারা কমপ্লেক্সের প্যারেড গ্রাউন্ডে ৬০তম কারারক্ষী প্রশিক্ষণ কোর্সের প্রশিক্ষণার্থীদের শপথ গ্রহণ ও সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উজ্জীবিত বর্তমান সরকার মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দিক নির্দেশনায় কারাগারকে সংশোধনাগারে রূপান্তর করতে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করে চলেছে। কারাগারে আটক বন্দিদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে দেশ ও বিদেশের শ্রম বাজারের চাহিদার সাথে সঙ্গতি রেখে দেশের ৩৮টি কারাগারে যুগোপযোগি ৩৯টি ট্রেডে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে দেশের সকল কারাগারকে এ প্রশিক্ষণের আওতায় আনয়নের পরিকল্পনা রয়েছে। কারাগারে আটক কয়েদি বন্দিদের শ্রমে উৎপাদিত পণ্য সামগ্রীর বিক্রয় লব্ধ অর্থ হতে ৫০ শতাংশ লভ্যাংশ বন্দিদের মজুরি হিসেবে প্রদান করা হচ্ছে। যা বন্দিরা তাদের পরিবারের নিকট প্রেরণ করতে পারছেন।

তিনি বলেন, কারাবন্দিদের সংশোধনের বিষয় অন্তর্ভুক্ত করে কারা আইনকে যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ কারাগার ও সংশোধনমূলক পরিষেবা আইন-২০২১ প্রণয়নের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। কারাগারের বন্দি ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি, জীবনমান উন্নয়ন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করণার্থে বিভিন্ন মেয়াদী ৮টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে এবং আরও কয়েকটি নতুন প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কারাগারে নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা আধুনিকীকরণের লক্ষ্যে ঢাকা, ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রাম বিভাগস্থ ৩২ টি কারাগারে বিভিন্ন নিরাপত্তা সামগ্রী সরবরাহ ও স্থাপন করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে দেশের সকল কারাগারে নিরাপত্তা সামগ্রী সরবরাহ করা হবে।

এর আগে নবীন কারারক্ষীদের সশস্ত্র অভিবাদন গ্রহণ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি খোলা জিপে চড়ে প্যারেডস্থল পরিদর্শন করেন এবং মার্চপাস্ট উপভোগ করেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের সচিব মো: আবদুল্লাহ আল মাসুদ চৌধুরী, কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ এস এম আনিসুল হক, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের (জিএমপি) পুলিশ কমিশনার মোল্যা নজরুল ইসলাম, গাজীপুরের জেলা প্রশাসক আনিসুর রহমান, কারা উপ-মহাপরিদর্শক (ঢাকা বিভাগ) এ কে এম ফজলুল হক, গাজীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: গোলাম রব্বানী শেখ, কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার সুব্রত কুমার বালা, কোর্সটির প্রধান প্রশিক্ষক ও কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২ এর সিনিয়র জেল সুপার মো: আমিরুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে নবীন কারারক্ষীদের মধ্যে বেস্ট ফায়ারার হিসেবে প্রধান অতিথির কাছ থেকে পুরস্কার নেন মেহেরপুর জেলা কারাগারের নবীন কারারক্ষী মো: ইমানুর রহমান শিপন, ড্রিলে প্রথম স্থান অধিকার করেন নরসিংদী জেলা কারাগারের কারারক্ষী মো: রনি দেওয়ান, পিটিতে প্রথম স্থান অধিকার করেন খাগড়াছড়ি জেলা কারাগারের কারারক্ষী মো: রবিউল ইসলাম। সব বিষয়ে চৌকস কারারক্ষী নির্বাচিত হন মানিকগঞ্জ জেলা কারাগারের কারারক্ষী  মিন্টু ঘোষ। ছয় মাস মেয়াদি ৬০তম ব্যাচ কারারক্ষীদের এ প্রশিক্ষণ কোর্সে ৩০১ জন কারারক্ষী অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে কাশিমপুর কারাগারে কারা কর্মকর্তা, কর্মচারী ও কারারক্ষীরা অংশ নেন।

  • সর্বশেষ - জাতীয়