, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩০ অনলাইন সংস্করণ

ময়মনসিংহ জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন ঘিরে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা

  শাহ মোহাম্মদ রনি

  প্রকাশ : 

ময়মনসিংহ জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন ঘিরে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা

ময়মনসিংহ জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের বহুল কাঙ্খিত ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন আগামী ৩ ডিসেম্বর শনিবার। এ নিয়ে পদপ্রত্যাশীদের মধ্যে চলছে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা। জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের সম্মেলনে ৩ ডজনের বেশি পদপ্রত্যাশী থাকলেও চোখে পড়ার মতো প্রচারণা ও নিজের শক্তির জানান দিচ্ছেন ২ জন। কেন্দ্রীয় নেতাদের স্বাগত জানানো তাদের পিভিসি, প্যানা, ফেস্টুন ও পোস্টারে ছেয়ে গেছে নগরীর সড়কদ্বীপ, প্রধান সড়ক, ময়মনসিংহ-গাজীপুর চারলেন সড়কের চরপাড়া মোড় থেকে চুরখাই পর্যন্ত অংশের আইল্যান্ড ও বিলবোর্ড। অন্যরাও নজরকাড়ার জন্য কম-বেশি প্রচারণা চালাচ্ছেন। অর্ধশত গেট নির্মাণ করা হয়েছে বিভিন্ন পয়েন্টে। পদপ্রত্যাশীরা ময়মনসিংহ বিভাগের দায়িত্বে থাকা সাংগঠনিক টিমের কাছে তাদের বায়োডাটা জমা দিয়েছেন। গোয়েন্দা সংস্থা তাদের সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়ে ঢাকায় প্রতিবেদন দিয়েছে। অনেকের বিরুদ্ধে রয়েছে নানান অভিযোগ। জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের বর্তমান কমিটির পদে থাকলেও  বিভিন্ন সময় তারা নিস্ক্রিয় ছিলেন। নিজেদের নিয়েই ব্যস্ত ছিলেন অধিকাংশ নেতা। কয়েকজন জয়নুল উদ্যানে বসে বিভিন্ন তদবির নিয়ে ব্যস্ত থেকেছেন। সংগঠনকে গতিশীল করতে ব্যর্থ হয়েছে মহানগর আওয়ামী লীগ। একই অবস্থা জেলা আওয়ামী লীগেরও। এদিকে মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের জননন্দিত মেয়র মোঃ ইকরামুল হক টিটু অনেকটা এগিয়ে রয়েছেন বলে নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে। শেষ পর্যন্ত সব কিছু ঠিক থাকলে তিনিই হবেন মহানগর আওয়ামী লীগের পরবর্তী সভাপতি।
জানা যায়, সম্মেলনের ৫ দিন আগে গত ২৮ নভেম্বরও মহানগর আওয়ামী লীগের ৪টি ওয়ার্ড কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। এভাবেই গত ৬ মাসে মহানগরের ২১টি ওয়ার্ডে কমিটি দেওয়া হয়েছে। তবুও সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ কয়েকটি পোস্টে। শুরুতে সম্মেলন অনুষ্ঠানের পর ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে কমিটি ঘোষণা করা হলেও পরবর্তীতে দীর্ঘ দিন পর পর কমিটি দেওয়া হয়। এ নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ এবং উৎকণ্ঠা সৃষ্টি হয়েছিলো। অন্যদিকে জেলার নিয়ন্ত্রণে থাকা উপজেলা কমিটি নিয়েও রয়েছে নানান অভিযোগ। কেলেঙ্কারীর মধ্য দিয়ে ৯টি উপজেলার সম্মেলন সম্পন্ন হলেও এখনও বাকি ৪টি। ১ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হবে নান্দাইল উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন। আলাদা আলাদা কারণে সম্মেলন করা সম্ভব হয়নি সদর, ফুলপুর ও ভালুকা উপজেলা আওয়ামী লীগের। ৩০ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিলো শিল্পাঞ্চল ভালুকা উপজেলা আওয়ামী লীগের বহুল কাঙ্খিত সম্মেলন। নেতা-কর্মীরা তাকিয়ে ছিলেন সম্মেলনের দিকে। তারা চরমভাবে হতাশ হয়েছেন। দীর্ঘ ১৯ বছর পর সম্মেলন ঘিরে নেতা-কর্মীদের মধ্যে প্রাণ ফিরে এসেছিলো। ত্যাগী, বঞ্চিত ও যোগ্যরা ভেবেছিলেন উপজেলার পরই ইউনিয়ন এবং ওয়ার্ড কমিটির সম্মেলন হবে।


আগামী ৩ ডিসেম্বর শনিবার ঐতিহাসিক সার্কিট হাউজ মাঠে অনুষ্ঠিত হবে জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপি সম্মেলনে প্রধান অতিথি থাকবেন। সম্মেলন উদ্বোধন করবেন প্রেসিডিয়াম সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী এমপি। প্রেসিডিয়াম সদস্য কৃষিমন্ত্রী ড. মোঃ আব্দুর রাজ্জাক এমপি সম্মানিত অতিথি থাকবেন। সম্মেলনে কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দিপু মনি এমপি প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। বিশেষ অতিথি থাকবেন কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা আলহাজ্ব অধ্যক্ষ মতিউর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, মির্জা আজম এমপি ও শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল, সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল এমপি, কেন্দ্রীয় সদস্য মারুফা আক্তার পপি ও উপাধ্যক্ষ মি. রেমন্ড আরেং, গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী মোঃ শরীফ আহমেদ এমপি, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে.এম. খালিদ এমপি, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মোঃ আশরাফ আলী খান খসরু এমপি, জাতীয় সংসদের হুইপ আতিউর রহমান আতিক এমপি, ফুলবাড়িয়া আসনের এমপি অ্যাডভোকেট মোঃ মোসলেম উদ্দিন, গৌরীপুর আসনের এমপি নাজিম উদ্দিন আহমেদ, ভালুকা আসনের এমপি আলহাজ্ব কাজিম উদ্দিন আহম্মেদ ধনু, গফরগাঁও আসনে এমপি ফাহ্‌মী গোলন্দাজ বাবেল, সংরক্ষিত আসনের মহিলা এমপি মনিরা সুলতানা মনি, ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মোঃ ইকরামুল হক টিটু প্রমুখ। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট জহিরুল হক খোকা সম্মেলনে সভাপতিত্ব এবং মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এহতেশামুল আলম স্বাগত বক্তব্য রাখবেন। জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল ও মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোহিত উর রহমান শান্ত সম্মেলন পরিচালনা করবেন।
সূত্র জানায়, ১৭-০৯-২০১৮ তারিখে ময়মনসিংহ জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের ৭৫ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। নির্বাচন কমিশনের আরপিও এবং আওয়ামী লীগের গঠনতন্ত্র বাস্তবায়ন না করায় দীর্ঘদিন কমিটি ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিলো। তবুও মহানগর কমিটিতে স্থান পান বিতর্কিত এবং অনুপ্রবেশকারীরা। এরা দীর্ঘ ৪ বছর ঘাপটি মেরে থেকে নিজেদের আখের গুছিয়েছেন। জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের বহুল কাঙ্খিত ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন ঘিরে নেতা-কর্মীদের মধ্যে চলছে উৎসব-আমেজ। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পদের জন্য বর্তমান সভাপতি অ্যাডভোকেট জহিরুল হক খোকা, সহ-সভাপতি ফারুক আহমেদ খান, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইউসুফ খান পাঠান, আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট জালাল উদ্দিন খান, জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল (জনশ্রুতি), গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী মোঃ শরীফ আহমেদ এমপি (জনশ্রুতি), সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে.এম. খালিদ এমপি (জনশ্রুতি), শ্রমিক লীগ একাংশের সভাপতি মোঃ আফতাব উদ্দিন প্রমুখ প্রার্থী। সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য বর্তমান সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল (জনশ্রুতি), মহানগরের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক মোহিত উর রহমান শান্ত, জেলার বর্তমান সাংগঠনিক সম্পাদক আহাম্মদ আলী আকন্দ ও শরীফ হাসান অণু, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আহসান মোহাম্মদ আজাদ, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট এবিএম নূরুজ্জামান খোকন, জেলার যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক রেজাউল হাসান বাবু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এমএ কুদ্দুস ও শওকত জাহান মুকুল, অব্যাহতিপ্রাপ্ত যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজী আজাদ জাহান শামীম, জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ড. সেলিনা রশিদ প্রমুখ প্রার্থী।
মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে প্রার্থীতা ঘোষণা করেছেন বর্তমান সভাপতি এহতেশামুল আলম, ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও মহানগরের সহ-সভাপতি মোঃ ইকরামুল হক টিটু এবং জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট সাদেক খান মিল্কী টজু। সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী হয়েছেন মহানগরের সহ-সভাপতি অধ্যাপক গোলাম ফেরদৌস জিলু, মহানগরের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হোসাইন জাহাঙ্গীর বাবু, সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ারুল হক রিপন, সহ-সভাপতি মীর শহীদ উদ্দিন, সাংস্কৃতিক সম্পাদক লিটন চন্দ্র পাল, দপ্তর সম্পাদক শেখ কাজল, আমোকসুর সাবেক জিএস মোতাহার হোসেন লিটু, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সাইয়েদুল আরেফিন রাসেল, মসিকের প্যানেল মেয়র-২ মাহবুবুর রহমান দুলাল প্রমুখ। নির্ভরযোগ্য সূত্র মতে, মেয়র মোঃ ইকরামুল হক টিটুই হচ্ছেন মহানগর আওয়ামী লীগের পরবর্তী সভাপতি। সাধারণ সম্পাদকের বিষয়টি এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে ৩ নেতার মধ্যে চলছে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা। অনেকেই প্রার্থী হয়েছেন মহানগর আওয়ামী লীগের সম্পাদক মণ্ডলীতে স্থান পাওয়ার জন্য।

  • সর্বশেষ - রাজনীতি