, ২১ মাঘ ১৪২৯ অনলাইন সংস্করণ

মাদারগঞ্জের জোড়খালী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান সোজা মিয়া’র বিরুদ্ধে আত্মসাতের অভিযোগ

মাদারগঞ্জের জোড়খালী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান সোজা মিয়া’র বিরুদ্ধে আত্মসাতের অভিযোগ

জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলার ৫ নম্বর জোড়খালী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ সোজা মিয়া’র বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অগ্রাধিকার প্রকল্পসহ বিভিন্ন প্রকল্পের টাকা ও চাল আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের পক্ষে সচেতন এলাকাবাসী মুখ খোলতে শুরু করেছেন। ‘খামার মাগুরা বীর মুক্তিযোদ্ধা আমজাদের বাড়ি থেকে দক্ষিণ খামার মাগুরা প্রাথমিক বিদ্যালয়’ পর্যন্ত সড়ক নির্মাণ প্রকল্পে চলছে টাকা আত্মসাতের পাঁয়তারা। প্রকল্প চেয়ারম্যান ও সদস্য সচিবকে পাশ কাটিয়ে কোনো প্রকার কাজ না করিয়ে চেয়ারম্যান ১৩০ শ্রমিকের টাকা আত্মসাত করার পাঁয়তারা চালাচ্ছেন। এ ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। প্রকল্পের সাথে জড়িত শ্রমিকরা টাকা আত্মসাতের পাঁয়তারার বিষয়ে মুখ খোললেও চেয়ারম্যানের পেশি শক্তির কারণে আতঙ্কে আছেন। এলাকার সবাই তটস্থ থাকেন চেয়ারম্যানের পেটুয়া বাহিনীর জন্য।
সূত্র জানায়, গত ২৯ নভেম্বর বুধবার শ্রমিকরা প্রকল্পে কাজ করতে গেলে চেয়ারম্যান তাদের বাড়ি পাঠিয়ে দেন। এ সময় তিনি বলেন, আপাতত মাটি কাটতে হবে না। কাগজপত্রে গত ২৬ নভেম্বর কাজ শুরু করার কথা উল্লেখ থাকলেও রবিবার পর্যন্ত এক ইঞ্চি মাটিও কাটা হয়নি। নিয়ম অনুযায়ী প্রকল্প চলাকালীন সময়ে ৫ দিন অন্তর শ্রমিকদের মজুরি পরিশোধ করার কথা। শ্রমিকরা শনিবার থেকে বুধবার পর্যন্ত প্রকল্পে কাজ করবেন। তারা বৃহস্পতিবার মজুরি নিবেন। শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটি। এরই মধ্যে ১৩০ শ্রমিকের ৫ দিনের মজুরি ২ লাখ ৬০ হাজার টাকা আত্মসাত করার পাঁয়তারা চালানো হচ্ছে। সূত্র মতে, টাকা তুলে আত্মসাত করার জন্য শ্রমিকদের বিকাশ একাউন্ট খোলা মোবাইল কোম্পানির সিমগুলো চেয়ারম্যান নিজের কাছে রেখে দিয়েছেন। জোড়খালী ইউনিয়নে আলোচিত প্রকল্পসহ মোট ৬ টি প্রকল্প চলছে। ৬ প্রকল্পে সপ্তাহে ৫ দিন ৪৮০ শ্রমিক দিয়ে কাজ করানোর কথা থাকলেও বাস্তবে চলছে বিকাশের মাধ্যমে টাকা হরিলুটের পাঁয়তারা।
জানা যায়, ৫ নম্বর জোড়খালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোঃ সোজা মিয়া এর আগেও বিভিন্ন প্রকল্পের টাকা ও চাল আত্মসাত করেন। গত ঈদুল ফিতরের সময় ৬৯৬৪ ভিজিএফ কার্ডধারীর মধ্যে মাত্র আড়াই হাজার কার্ডধারীকে চাল দেন। তবুও ১০ কেজির স্থলে ৭ কেজি। বাকি চাল আত্মসাত করে বিক্রি এবং নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করেন। ৪৪৬ জন ভিজিডি কার্ডধারীর মধ্যে প্রতিমাসে ৩০ কেজির স্থলে ২৩ কেজি চাল দেওয়ার ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভ বিরাজ করছে। এছাড়া বয়স্ক এবং বিধবা ভাতার কার্ডের জন্য ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। সালিস বৈঠক করার আগে এবং পরে উভয় পক্ষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ব্যাপক জনশ্রুতি রয়েছে। অন্যদিকে আলোচিত চেয়ারম্যান মোঃ সোজা মিয়ার বিরুদ্ধে রয়েছে নারী কেলেঙ্কারীর অভিযোগ। এক নারীর সাথে অশালীন ভিডিও রয়েছে এলাকাবাসীর কাছে।


  • সর্বশেষ - ময়মনসিংহ অঞ্চল