ময়মনসিংহ, , ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ অনলাইন সংস্করণ

তাকওয়া অর্জনের মাস রমজান

  ধর্ম ডেস্ক

  প্রকাশ : 

তাকওয়া অর্জনের মাস রমজান

রোজার আরবি হলো সিয়াম। যার অর্থ বিরত থাকা। সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার ও যৌনাচার থেকে বিরত থাকার নামই রোজা। রোজাদারকে পানাহার থেকে বিরত থাকার পাশাপাশি যাবতীয় গুনা থেকেও বিরত থাকতে হয়। কারণ রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি রোজা রাখার পরও মিথ্যা বলা ও খারাপ কাজ করা থেকে বিরত থাকে না তার পানাহার ত্যাগ করায় আল্লাহর কোনো প্রয়োজন নেই।’ বুখারি।


জৈবিক তাড়না থেকে মানুষকে বিরত রাখার জন্যই রোজার বিধান দেওয়া হয়েছে। আর এই রোজার সার্থকতা তখনই অর্জিত হবে যখন পেটের মতো চোখ, কানসহ প্রতিটি অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ও অনুভূতির সিয়াম পালন করা হবে। অর্থাৎ হারাম কাজ থেকে বিরত রেখে ওইসব অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ও অনুভূতিকে তাদের জন্য নির্ধারিত ইবাদতে ব্যস্ত রাখাই হলো রোজার লক্ষ্য। রোজার আসল উদ্দেশ্যই হচ্ছে বান্দাকে গুনামুক্ত জীবনযাপনে অভ্যস্ত করে মুত্তাকি হিসেবে গড়ে তোলা। 


এ ব্যাপারে আল্লাহতায়ালার ইরশাদ, ‘হে মুমিনগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেভাবে ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর। যাতে তোমরা তাকওয়া অবলম্বন কর।’ সূরা বাকারা, আয়াত ১৮৩। রমজানে পানাহার থেকে বিরত থাকার পেছনে যদি তাকওয়া অর্জিত না হয় তাহলে এই রোজা শুধু দৈহিক রোজাই হবে, দেহের বাইরে এর আলাদা কোনো তাৎপর্যই থাকবে না। কাম, ক্রোধ, লোভ-লালসা ইত্যাদি রিপুর তাড়নায় মানুষ যখন দিশাহারা ও বিপথগামী হয়ে ধ্বংসের মুখোমুখি হয়; তখন রোজা মানুষের এসব কুপ্রবৃত্তি নিয়ন্ত্রণের শক্তি জোগায়। এ কারণেই রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘রোজা প্রবৃত্তির তাড়না থেকে বাঁচার জন্য ঢাল; এর মাধ্যমে বান্দা আগুন থেকে মুক্তি পায়।’ মুসনাদে আহমাদ। তাই রোজার ফজিলত পেতে হলে ক্ষুধা-তৃষ্ণার কষ্ট সহ্য করার পাশাপাশি সব ধরনের খারাপ কাজ থেকেও আত্মরক্ষা করতে হবে। পঞ্চেন্দ্রিয়কে সংযত রাখতে হবে। তা হলেই প্রকৃত রোজাদার হিসেবে পরিগণিত হওয়া যাবে। ধৈর্যচ্যুতি ও ক্রোধ মানুষকে অপূরণীয় ক্ষতির মুখোমুখি করে দেয়। তাই সংযমের মাসে রোজাদারকে দেওয়া হয়েছে সবর ও সহনশীলতার শিক্ষা। 

রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘তোমাদের কেউ যখন রোজা রাখে সে যেন বাজে কথা না বলে, চেঁচামেচি না করে, যদি কেউ তাকে গালি দেয় বা তার সঙ্গে ঝগড়া করে তাহলে তার বলা উচিত, আমি রোজাদার।’ বুখারি। রমজানে রোজাদার নির্দিষ্ট সময় পানাহার থেকে বিরত হয় আবার নির্দিষ্ট সময় পানাহার করে। যার মাধ্যমে তার ভিতরে তৈরি হয় তাকওয়া, আত্মনিয়ন্ত্রণ ও সংযমী মনোভাব। সে খুব সহজেই নিজেকে কুপ্রবৃত্তির হাত থেকে রক্ষা করতে সক্ষম হয়। তাই রোজাদার ইচ্ছা করলে বিড়ি-সিগারেট, নেশা ও জিনা-ব্যভিচারের মতো বদভ্যাস পরিহার করতে পারে অনায়াসে।


লেখক : ইসলামবিষয়ক গবেষক।

  • সর্বশেষ - আলোচিত খবর