ময়মনসিংহ, , ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ অনলাইন সংস্করণ

সবাই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলে কোনো সংকট থাকবে না : তামিম

  নিজস্ব প্রতিবেদক

  প্রকাশ : 

সবাই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিলে কোনো সংকট থাকবে না : তামিম

ওয়ানডে অধিনায়ক তামিম ইকবাল মনে করেন, এখন করোনার সর্বগ্রাসী রুপে দেশে যে অসহায় মানুষের অর্থকষ্ট ও খাদ্যের অভাব- তাতে সবাই মিলে একটু একটু করে সাহায্যর হাত বাড়িয়ে এগিয়ে আসলেই মোচন সম্ভব।

আজ রাতে এক ফেসবুক লাইভে এসে অনেক কথার ভিড়ে তারকা ক্রিকেটার ও ওয়ানডে অধিনায় তামিম বলেন, ‘এখন এমন এক পরিস্থিতি বিরাজ করছে, যাতে আসলে অনেকের সন্মিলিত প্রচেষ্টাই দরকার। আমি একা নই। অনেককে চিনি, জানি। যারা স্পোর্টসেরই মানুষ। আবার তার বাইরেও অনেকে আছেন, যারা কষ্ঠে থাকা অসহায় মানুষদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন এবং সাধ্যমত চেষ্টা করে যাচ্ছেন। এখন যে সঙ্কটকাল চলছে, সবাই মিলে কাজ করলে এই সঙ্কট আর থাকবে না। আমরা যদি নিজেদের খাবার শেয়ার করি, তাহলে আর কারো খাবার কষ্ট হবে না।’

তিনি যে ৯১ ক্রীড়াবীদকে অর্থ সাহায্য করে তাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। সে চিন্তা মাথায় আসলো কিভাবে? এ প্রশ্নের জবাবে তামিম জানান, আমি যখন অ্যাথলেট সামিউলের সাথে কথা বললাম, তখনই মাথায় এসেছিল। যদিও এখন আসলে এ বিষয়ে তেমন কথা বলতে চাই না। আশা করি আমার উপহার দিয়ে যদি কারো একটা মাস চলে যায়, তাহলে ভাল লাগবে।’

তামিমের দাবি, তিনি একা নন, সমাজের অনেকেই সহযোগিতার হাত প্রসারিত করেছেন। ‘অমি একা নই। আরও অনেকে সাহায্য-সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। আমরা সবাই যদি কম বেশি অপরের পাশে এসে দাঁড়াই তাহলে দেখবেন, ক্রাইসিস থাকবে না। আর আমরা যদি নিজেরা একজন আরেকজনের পাশে এসে দাঁড়াই তাহলে এমন ক্রাইসিস ছয় মাস পর্যন্ত টেনে নেয়া সম্ভব। আসলে দরকার সন্মিলিত প্রচেষ্টা। সবাই একটু একটু করে সহযোগিতার হাত বাড়ালেই দেখবেন আর কোন সমস্যা থাকবে না।’

Tamim

‘আপনি একজন ক্রিকেটার। ব্যস্ত আপনার জীবন; কিন্তু করোনার কারনে এখন কিছুই করতে পারছেন না। খেলা বন্ধ। প্র্যাকটিস করারও কোন সুযোগ নেই। বাসায় আছেন। খেলাধুলার বাইরে আছেন, সময় কিভাবে কাটছে এখন?

তামিম জানালেন, ‘এটাতো অপ্রত্যাশিত একটা ব্যাপার। আমি প্রায় সারা দিনের একটি বড় সময় নিজের রুমে চেয়ারে বসে কাটাই। রমজান শুরুর পর দৈনিক রুটিন একটু পাল্টেছে। না হয় যখন রোজা ছিল না, তখন আমি সকালে ঘুম থেকে উঠেই এক ঘণ্টা রানিং মেশিনে রানিং আর ফিজিক্যাল ফিটনেস ট্রেনিং করে নিতাম। কিছু টুকটাক জিমওয়ার্কও করতাম। রানিং মেশিন আছে। সেটাতে রানিংও করতাম। আর বাচ্চাদের সাথে একটু সময় কাটাই।’

পরক্ষণে বলেন, ‘রোজার দিনে রুটিন পাল্টেছে। ঘুম থেকে উঠে বাচ্চাদের সাথে খেলাধুলা করি। মুভি দেখি। এরপর ঠিক ইফতারের এক ঘণ্টা আগে রানিং করি। ফিজিক্যাল এক্সারসাইজ করি। তারপর গোসল সেরে ইফতার করতে বসি। এভাবেই চলছে।’

ক্রিকেটকে কতটা মিস করছেন? মাঠে ফেরার তাড়া অনুভব করছেন কতটা? এমন প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে তামিম পরিষ্কার বলে দিয়েছেন, ‘আসলে এখনকার প্রেক্ষাপটে ক্রিকেট ও খেলার চেয়ে নিজের পরিবার, আত্মীয়-পরিজনসহ সবার জীবন বাঁচানোই বড়।’

তার ব্যাখ্যা, ‘আসলে এমন অবস্থা যে হবে, তাতো আমরা প্রথম দিকে কেউই বুঝতে পারিনি। এমন এক অবস্থা দাঁড়িয়েছে যে, এখন আর খেলার কথা মাথায়ই আসছে না। সবার জীবনটা আগে। জীবন নিয়ে আগে চিন্তা ভাবনা সবার। আমার মা, সন্তান, ভাই, আত্মীয়-স্বজন, পরিবার-পরিজনদের কথা সবার আগে মনে হয়। সবচেয়ে বড় কথা হলো, আমার কাছে এখন আমার নিজ পরিবারটাই অগ্রাধিকার পাচ্ছে। সবার আগে চাই তারা যেন সুস্থ ও নিরাপদ থাকেন। তাই সত্যি কথা বলতে কি, এখন খেলাধুলার কথা তাই সেভাবে ভাবতে চাই না। ভাবার মত অবস্থাও নেই। এখন সবার সচেতনতা আর সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে বেশি করে। কেয়ালফুল থাকার কথাই ভাবছি বেশি। সরকার থেকে এবং বিভিন্ন এক্সপার্টরা যেভাবে চলার কথা বলছেন, যা যা করতে বলা হয়েছে এবং যে সব নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে, সেগুলো যথাযথভাবে মেনে চলার চেষ্টাই থাকছে। জানি, যখন করোনামুক্ত পরিবেশ-পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটবে, তখন আবার খেলাধুলা স্টার্ট হবে।’

  • সর্বশেষ - খেলাধুলা