ময়মনসিংহ, , ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ অনলাইন সংস্করণ

নবিদের যে তিন ঘটনা ও উপদেশ পড়া হবে আজ

  ধর্ম ডেস্ক

  প্রকাশ : 

নবিদের যে তিন ঘটনা ও উপদেশ পড়া হবে আজ

মহামারি করোনায় অধিকাংশ মসজিদেই খতম তারাবিহ হচ্ছে না। তবে বাড়ি বাড়ি হচ্ছে খতম তরাবিহ। অনেক পাড়া মহল্লায় ছোট ছোট পরিসরে হচ্ছে খতম তরাবিহ। অষ্টম তারাবিহে হজরত নুহ, মুসা ও ইউনুছ আলাইহিস সালামের ঘটনার বর্ণনা করা হবে


আজকের তারাবিহতে সুরা তাওবার ৯৪ আয়াত থেকে শেষ পর্যন্ত, সুরা ইউনুস এবং সুরা হুদের প্রথম ৫ আয়াত পর্যন্ত পড়া হবে। সে সঙ্গে ১১তম পারার তেলাওয়াত সম্পন্ন হবে আজ। আজকের তারাবিহতে অনুষ্ঠিত হবে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা।


পবিত্র মদিনা নগরীকে ইসলামি রাষ্ট্রের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করতে এ সুরায় রয়েছে গভীর সম্পর্ক। হুদাইবিয়ার সন্ধি সম্পর্কিত আলোচনা পড়া হবে আজ। সুরাগুলো সংক্ষিপ্ত আলোচ্য সূচি তুলে ধরা হলো-


সুরা তাওবা (৯৪-১২৯)

কয়েকজন মুসলমানের তাওবা কবুল হওয়ার বর্ণনায় ১৬ রুকুর সুরাটি মদিনায় অবতীর্ণ হয়। আজকের তেলাওয়াতে তাওবা কবুল ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং তাঁদের জন্য জান্নাত লাভের ঘোষণা আলোচিত হয়েছে। তবে শুরুতে মুনাফিকদের আলোচনা রয়েছে।


আল্লাহ তাআলা বিশ্বনবিকে তাবুক অভিযান থেকে ফেরার পথে জানিয়ে দিয়েছিলেন যে, মদিনায় পৌঁছে মুনাফেকরা বিভিন্ন অজুহাত পেশ করবে। আর বাস্তবেই তাই ঘটেছিল। তারা মিথ্যা কসম খেয়ে নিজেদের স্বপক্ষে কথা বলছিল। আল্লাহ বলেন-


'তুমি যখন তাদের কাছে ফিরে আসবে, তখন তারা তোমাদের নিকট ছল-ছুতা নিয়ে উপস্থিত হবে; তুমি বলো, ছল কারো না, আমি কখনো তোমাদের কথা শুনব না; আমাকে আল্লাহ তা'আলা তোমাদের অবস্থা সম্পর্কে অবহিত করে দিয়েছেন। আর এখন তোমাদের কর্ম আল্লাহই দেখবেন এবং তাঁর রসূল। তারপর তোমরা প্রত্যাবর্তিত হবে সেই গোপন ও আগোপন বিষয়ে অবগত সত্তার নিকট। তিনিই তোমাদের বাতলে দেবেন যা তোমরা করছিলে।' (সুরা তাওবা : আয়াত ৯৪)



আবার অলসতার কারণে তিনজন ঈমানদার তাবুক অভিযানে যেতে পারেনি। তারা বিশ্বনবির কাছে কোনো ওজর পেশ না করে সুস্পষ্টভাবে স্বীকার করেছে যে, কোনো ওজরের কারণে নয় বরং অলসতার কারণে তারা তাবুক অভিযানে অংশগ্রহণ করেনি। তাদের অলসতার জন্য শাস্তিস্বরূপ তাদের ৫০ দিন বয়কট করে রাখা হয়। আবার সত্য প্রকাশে তাদের দেয়া হয় বিশেষ পুরস্কার। আল্লাহ বলেন-

- 'আর কোন কোন লোক রয়েছে যারা নিজেদের পাপ স্বীকার করেছে, তারা মিশ্রিত করেছে একটি নেককাজ ও অন্য একটি বদকাজ। শীঘ্রই আল্লাহ হয়ত তাদেরকে ক্ষমা করে দেবেন। নিঃঃসন্দেহে আল্লাহ ক্ষমাশীল করুণাময়।' (সুরা তাওবা : আয়াত ১০২)


আল্লাহ তাআলা মুমিনদের জীবন ও সম্পদ কিনে নিয়েছেন জান্নাতের বিনিময়। আর সে কথাও ঘোষণা করেছেন এভাবে-

'আল্লাহ ক্রয় করে নিয়েছেন মুসলমানদের থেকে তাদের জান ও মাল এই মূল্যে যে, তাদের জন্য রয়েছে জান্নাত। তারা যুদ্ধ করে আল্লাহর রাহেঃ অতঃপর মারে ও মরে। তওরাত, ইঞ্জিল ও কোরআনে তিনি এ সত্য প্রতিশ্রুতিতে অবিচল। আর আল্লাহর চেয়ে প্রতিশ্রুতি রক্ষায় কে অধিক? সুতরাং তোমরা আনন্দিত হও সে লেন-দেনের উপর, যা তোমরা করছ তাঁর সাথে। আর এ হল মহান সাফল্য।' (সুরা তাওবা : আয়াত ১১১)


আল্লাহ তাআলা এসব মুমিনদের গুণগুলোও তুলে ধরেছিলেন। আল্লাহ তাআলা তাদের সুসংবাদ দিতে এভাবে সম্ভোধন করেছেন-

‘তারা তওবাকারী, এবাদতকারী, শোকরগোযার, (দুনিয়ার সাথে) সম্পর্কচ্ছেদকারী, রুকু ও সিজদা আদায়কারী, সৎকাজের আদেশ দানকারী ও মন্দ কাজ থেকে নিবৃতকারী এবং আল্লাহর দেওয়া সীমাসমূহের হেফাযতকারী। বস্তুতঃ সুসংবাদ দাও ঈমানদারদেরকে। (সুরা তাওবা : আয়াত ১১২)


আল্লাহ তাআলা ঈমানদার বান্দাদের নির্দেশ দিচ্ছেন তাকে ভয় করার জন্য এবং দুনিয়াতে সত্যবাদীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার জন্য। আল্লাহ বলেন-

'হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং সত্যবাদীদের সাথে থাক।' (সুরা তাওবা : আয়াত ১১৯)


জাকাত কোনো সরকারি কর বা অনুদান নয় বরং তা আল্লাহ তাআলা কর্তৃক সম্পদশালীর ওপর ফরজ ইবাদাত। জাকাতের অর্থ আদায় এবং তা যথাযথ খাতে ব্যয় করার দায়িত্ব ইসলামি রাষ্ট্রের। জাকাত বণ্টনে দায়িত্বশীলের কাজসহ যাবতীয় বিষয়ের তেলাওয়াতও হেব আজকের তারাবিতে।


সর্বোপরি বিশ্বনবি ছিলেন উম্মতের জন্য দরদি। তার সে গুণের কথা ওঠে এসেছে এ সুরার শেষাংশে। আল্লাহ তাআলা বলেন-

'তোমাদের কাছে এসেছে তোমাদের মধ্য থেকেই একজন রাসুল। তোমাদের দুঃখ-কষ্ট তার পক্ষে দুঃসহ। তিনি তোমাদের মঙ্গলকামী, মুমিনদের প্রতি স্নেহশীল, দয়াময়।' (সুরা তাওবা : আয়াত ১২৮)


সুরা ইউনুস

মক্কায় নাজিল হওয়া ১১ রুকু এবং ১০৯ আয়াত বিশিষ্ট সুরা হলো সুরা ইউনুস। এ সুরার ৯৮নং আয়াতে প্রসঙ্গ ক্রমে হজরত ইউনুছ আলাইহি সালামের কথা আসলেও এ সুরার আলোচ্য বিষয় হজরত ইউনুছ আলাইহিস সালামের ঘটনা নয়।


মক্কায় নাজিল হওয়া এ সুরাটি সুরা তাওবার আগে অবতীর্ণ হয়। আর এ কারণেই সুরাটিতে আল্লাহর একত্ববাদ তথা তাওহিদ, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নবুয়ত প্রাপ্তি তথা রেসালাত এবং পরকালীন জীবনের বিবরণসমূহ চিত্রিত হয়েছে। যার মূল উদ্দেশ্যই ছিল- মানুষকে মহান আল্লাহর পথে আহ্বান করা।


কুরআন আল্লাহর কালাম, কাফেররা সে কথা মানত না। তারা বলত, ‘মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজ থেকে তা বানিয়ে বলছেন’। উত্তরে বলা হয়েছে, চল্লিশ বছর যিনি পৃথিবীর কোনো সৃষ্টির ব্যাপারেই কোনো ধরনের মিথ্যা বলেননি, তিনি এ বয়সে এসে মহান স্রষ্টা আল্লাহর ব্যাপারে কেন মিথ্যা বলতে যাবেন? তাছাড়া তিনি তো দুনিয়ায় কারও শিষ্যত্ব গ্রহণ করেননি। কাব্য চর্চাও করেননি। এ সত্ত্বেও তিনি এমন অলৌকিক ও অলংকারপূর্ণ কথা নিজ থেকে কীভাবে বলতে পারেন?


- 'আর যখন তাদের কাছে আমার প্রকৃষ্ট আয়াত সমূহ পাঠ করা হয়, তখন সে সমস্ত লোক বলে, যাদের আশা নেই আমার সাক্ষাতের, নিয়ে এসো কোন কোরআন এটি ছাড়া, অথবা একে পরিবর্তিত করে দাও। তাহলে বলে দাও, একে নিজের পক্ষ থেকে পরিবর্তিত করা আমার কাজ নয়। আমি সে নির্দেশেরই আনুগত্য করি, যা আমার কাছে আসে। আমি যদি স্বীয় পরওয়ারদেগারের নাফরমানী করি, তবে কঠিন দিবসের আযাবের ভয় করি।' (সুরা ইউনুস : আয়াত ১৫)


- 'বলে দাও, যদি আল্লাহ চাইতেন, তবে আমি এটি তোমাদের সামনে পড়তাম না, আর নাইবা তিনি তোমাদেরেকে অবহিত করতেন এ সম্পর্কে। কারণ আমি তোমাদের মাঝে ইতিপূর্বেও একটা বয়স অতিবাহিত করেছি। তারপরেও কি তোমরা চিন্তা করবে না? (সুরা ইউনুস : আয়াত ১৬)


- 'অতঃপর তার চেয়ে বড় জালেম, কে হবে, যে আল্লাহর প্রতি অপবাদ আরোপ করেছে কিংবা তাঁর আয়াতসমূহকে মিথ্যা বলে অভিহিত করছে? কস্মিনকালেও পাপীদের কোন কল্যাণ হয় না।' (সুরা ইউনুস : আয়াত ১৭)


কুরআন চিরসত্য, মহান আল্লাহর কালাম- এ কথা বলে চ্যালেঞ্জ ছোঁড়া হয়েছে, যদি এটা মানুষের কথা হয়ে থাকে তাহলে তোমরাও এর অনুরূপ কোনো সুরা বানিয়ে দেখাও দেখি। এ কাজের জন্য তোমরা আরব-অনারব, মানব-দানব যাকে খুশি ডেকে নিতে পারো। আল্লাহ বলেন-

- ' আর কুরআন সে জিনিস নয় যে, আল্লাহ ব্যতিত কেউ তা বানিয়ে নেবে। অবশ্য এটি পূর্ববর্তী কালামের সত্যায়ন করে এবং সে সমস্ত বিষয়ের বিশ্লেষণ দান করে যা তোমার প্রতি দেয়া হয়েছে, যাতে কোনো সন্দেহ নেই-তোমার বিশ্বপালনকর্তার পক্ষ থেকে।' (সুরা ইউনুস : আয়াত ৩৭)


- 'মানুষ কি বলে যে, এটি বানিয়ে এনেছ? বলে দাও, তোমরা নিয়ে এসো একটিই সূরা, আর ডেকে নাও, যাদেরকে নিতে সক্ষম হও আল্লাহ ব্যতিত, যদি তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাক।' (সুরা ইউনুস : ৩৮)


এ সুরায় উপদেশ হিসেবে তিনটি ঘটনা উল্লেখ করা হয়ছে। প্রথম ঘটনা-

 হজরত নুহ আলাইহিস সালামের। তিনি দীর্ঘকাল দ্বীনের দাওয়াত দিয়েছেন জাতিকে। কিন্তু তার জাতি সে দাওয়াত শুনেনি। আল্লাহ বলেন-

- ' আর তাদেরকে শুনিয়ে দাও নুহের অবস্থা যখন সে স্বীয় সম্প্রদায়কে বলল, হে আমার সম্প্রদায়, যদি তোমাদের মাঝে আমার অবস্থিতি এবং আল্লাহর আয়াতসমূহের মাধ্যমে নসিহত করা ভারী বলে মনে হয়ে থাকে, তবে আমি আল্লাহর উপর ভরসা করছি। এখন তোমরা সবাই মিলে নিজেরদের কর্ম সাব্যস্ত কর এবং এতে তোমাদের শরীকদেরকে সমবেত করে নাও, যাতে তোমাদের মাঝে নিজেদের কাজের ব্যাপারে কোনো সন্দেহ-সংশয় না থাকে। অতপর আমার সম্পর্কে যা কিছু করার করে ফেল এবং আমাকে অব্যাহতি দিও না।' (সুরা ইউনুস : আয়াত ৭১)


- 'তারপরও যদি বিমুখতা অবলম্বন কর, তবে আমি তোমাদের কাছে কোনো রকম বিনিময় কামনা করি না। আমার বিনিময় হল আল্লাহর দায়িত্বে। আর আমার প্রতি নির্দেশ রয়েছে যেন আমি আনুগত্য অবলম্বন করি।' (সুরা ইউনুস : আয়াত ৭২)


দ্বিতীয় ঘটনা

হজরত মুসা ও হারুন আলাইসি সালামকে নিয়ে। প্রভু হওয়ার দাবিদার ফেরাউনের মোকাবিলায় পাঠানো হয়েছিল তাদের। এ দুই পয়গাম্বরের দাবি অস্বীকার করায় আল্লাহ ফেরাউনকে তার দলবলসহ পানিতে ডুবিয়ে ধ্বংস করে দেন। আল্লাহ বলেন-- 'অতঃপর তাদের পেছনে পাঠিয়েছি আমি মূসা ও হারুনকে, ফেরাউন ও তার সর্দারের প্রতি স্বীয় নির্দেশাবলী সহকারে। অথচ তারা অহংকার করতে আরম্ভ করেছে। (সুরা ইউনুস : আয়াত ৭৫)


- 'বস্তুতঃ তারা ছিল গোনাহগার। তারপর আমার পক্ষ থেকে যখন তাদের কাছে সত্য বিষয় উপস্থিত হল, তখন বলতে লাগলো, এগুলো তো প্রকাশ্য যাদু। (সুরা ইউনুস : আয়াত ৭৬)


- মুসা বলল, সত্যের ব্যাপারে একথা বলছ, তা তোমাদের কাছে পৌঁছার পর? একি যাদু? অথচ যারা যাদুকর, তারা সফল হতে পারে না। (সুরা ইউনুস : আয়াত ৭৭)


- তারা বলল, তুমি কি আমাদেরকে সে পথ থেকে ফিরিয়ে দিতে এসেছ যাতে আমরা পেয়েছি আমাদের বাপ-দাদাদের কে? আর যাতে তোমরা দুইজন এদেশের সর্দারী পেয়ে যেতে পার? আমরা তোমাদেরকে কিছুতেই মানব না। (সুরা ইউনুস : আয়াত ৭৮)


- আর ফেরাউন বলল, আমার কাছে নিয়ে এস সুদক্ষ যাদুকরদিগকে। (সুরা ইউনুস : আয়াত ৭৯)


- তারপর যখন যাদুকররা এল, মূসা তাদেরকে বলল, নিক্ষেপ কর, তোমরা যা কিছু নিক্ষেপ করে থাক। (সুরা ইউনুস : আয়াত ৮০)


- অতঃপর যখন তারা নিক্ষেপ করল, মূসা বলল, যা কিছু তোমরা এনেছ তা সবই যাদু-এবার আল্লাহ এসব ভন্ডুল করে দিচ্ছেন। নিঃসন্দেহে আল্লাহ দুস্কর্মীদের কর্মকে সুষ্ঠুতা দান করেন না। (সুরা ইউনুস : আয়াত ৮১)


তৃতীয় ঘটনা

ইউনুস আলাইহিস সালামের। তাঁর নামেই এই সুরার নামকরণ করা হয়েছে। নিজ কওমের ঈমান আনার বিষয়ে আশাহত হয়ে এবং আল্লাহর আজাব আপতিত হওয়ার নিশ্চিত অবস্থা দেখে তিনি ‘নিনাওয়া’ নামক স্থান ছেড়ে চলে আসেন। ইউনুস আলাইহিস সালাম চলে যাওয়ার পর তার কওমের লোকেরা ভুল বুঝতে পেরে তওবা, ইস্তেগফার করে। ফলে তাদের থেকে আল্লাহ তায়ালা আজাব সরিয়ে নেন। আল্লাহ তাআলা বলেন-


'সুতরাং কোনো জনপদ কেন এমন হল না যা ঈমান এনেছে অতপর তার সে ঈমান গ্রহণ হয়েছে কল্যাণকর? অবশ্য ইউনুসের সম্প্রদায়ের কথা আলাদা। তারা যখন ঈমান আনে তখন আমি তুলে নেই তাদের উপর থেকে অপমানজনক আযাব-পার্থি ব জীবনে এবং তাদের কে কল্যাণ পৌছাই এক নিধারিত সময় পর্যন্ত।' (সুরা ইউনুস : আয়াত ৯৮)


সুরার শেষ দিকে মোমিনদের সুসংবাদ দিয়ে আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালা বলেছেন, ‘এটা আমার নিয়ম, সবশেষে আমি মোমিনদেরই মুক্তি দিই।’ অতপর সুরার সূচনায় যেভাবে কুরআন হাকিমের আলোচনা দিয়ে হয়েছিল, সমাপ্তিও হয়েছে এই সত্য কিতাবের অনুসরণের হুকুম প্রদানের মাধ্যমে। আল্লাহ বলেন-

- 'বলে দাও, হে মানবকুল, সত্য তোমাদের কাছে পৌঁছে গেছে তোমাদের পরওয়ারদেগারের তরফ থেকে। এমন যে কেউ পথে আসে সেপথ প্রাপ্ত হয় স্বীয় মঙ্গলের জন্য। আর যে বিভ্রান্ত ঘুরতে থাকে, সে স্বীয় অমঙ্গলের জন্য বিভ্রান্ত অবস্থায় ঘুরতে থাকবে। অনন্তর আমি তোমাদের উপর অধিকারী নই। (সুরা ইউনুস : আয়াত ১০৮)


- 'আর তুমি চল সে অনুযায়ী যেমন নির্দেশ আসে তোমার প্রতি এবং সবর কর, যতক্ষণ না ফয়সালা করেন আল্লাহ। বস্তুতঃ তিনি হচ্ছেন সর্বোত্তম ফয়সালাকারী।' (সুরা ইউনুস : আয়াত ১০৯)


সুরা হুদ

সুরা হুদ মক্কায় অবর্তীণ। এতে ১০ রুকু এবং ১২৩ আয়াত রয়েছে। আজকের তারাবিহতে প্রথম ৫ আয়াত তেলাওয়াতের মাধ্যমে শেষ হবে রমজানের অষ্টম তারাবিহ। এ সুরার আলোচ্য বিষয় সুরা ইউনুছের আলোচ্য বিষয়ের সঙ্গে মিল রয়েছে। এ সুরায় আল্লাহ তাআলা কড়াকড়িভাবে মানুষকে সতর্ক করেছেন।


আয়াত ০১-৫

আল্লাহ তাআলঅ সুরা হুদের প্রথম পাঁচ আয়াতে শুধুমাত্র তাঁরই ইবাদাতের দিক নির্দেশনা দিয়েছেন। যারা আল্লাহর ইবাদাত-বন্দেগি করবে; শিরক ও কুফরমুক্ত জীবন-যাপন করবে; কোনো অন্যায় করলে তাওবার মাধ্যমে আবার তাঁরই দিকে ফিরে আসবে; তাদের দুনিয়ার জীবন হবে উপভোগ্য আবার পরকালের মহা অনুগ্রহ দান করা হবে তাদেরকে। যারা তারপরও আল্লাহর অবাধ্যতায় লিপ্ত হবে তাদের জন্য রয়েছে পরকালের কঠিন শাস্তি।


১১ পারার শেষ আয়াতে আল্লাহ তাআলা সবাইকে এ কথাই স্মরণ করিয়ে দেন যে, দুনিয়ার জীবনে মানুষ যেভাবেই জীবন-যাপন করুক না কেন? মৃত্যুর পর সবাইকেই আল্লাহর সম্মুখে তাঁর সান্নিধ্যে যেতে হবে। কারণ তাঁর কাছে যাওয়া ব্যতিত কেউ রেহাই পাবে না। তিনি পুনরায় সবাইকে তাঁর নিকট উপস্থিত করতে সক্ষম। আল্লাহ তাআলা বলেন-

‘জেনে রেখ! তারা নিজ নিজ বুক কুঞ্চিত করে রাখে, যাতে তাঁর (আল্লাহর) দৃষ্টি থেকে লুকিয়ে থাকতে পারে। জেনে রেখ! তারা যখন নিজেদের কাপড় (শরীরে) জড়ায়, তখনও তিনি সব জানেন, যা কিছু তারা গোপন করে এবং যা কিছু প্রকাশ করে। তিনি তো মনের ভেতরের কথাও জানেন।’ (সুরা হুদ : আয়াত ৫)


আল্লাহ তআলা মুসলিম উম্মাহকে কুরআন বুঝে পড়ার এবং তাঁর ওপর আমল করার পাশাপাশি নিজেদের আকিদা-বিশ্বাসকে শিরকমুক্ত রাখার তাওফিক দান করুন। আমিন।

  • সর্বশেষ - আলোচিত খবর