ময়মনসিংহ, , ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ অনলাইন সংস্করণ

গৌরীপুরে চাল লুটের প্রমাণ মিলেছে

গৌরীপুরে চাল লুটের প্রমাণ মিলেছে

গৌরীপুর উপজেলায় ২৩১ টন চাল লুটের প্রমাণ মিলেছে। উপজেলা প্রশাসনের তদন্ত কমিটির তদন্তে এমন প্রমাণ পাওয়া গেছে। এদিকে ২নং গৌরীপুর ইউনিয়নের সুবিধাভোগীরা অবশিষ্ট দুই মাসের চাল পাননি।


জানা গেছে, উপজেলার অচিন্তপুর ইউনিয়নের ৩৫০ দরিদ্র মানুষ চার বছর ধরে প্রতি মাসে চালবঞ্চিত হয়েছেন। এ সময়ে জনপ্রতি ৬৬০ কেজি হিসেবে মোট ২৩১ টন চাল লুট হয়েছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবিতে ২৭ এপ্রিল ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন সুবিধাবঞ্চিতরা। এ পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা নন্দন কুমার দেবনাথকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে উপজেলা প্রশাসন। কমিটির প্রধান নন্দন জানান, সোমবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে তদন্ত প্রতিবেদন হস্তান্তর করা হয়েছে। মঙ্গলবার ইউএনও সেঁজুতি ধর বলেন, তদন্ত প্রতিবেদনে কী আছে তা এখনই বলা যাবে না। তবে অভিযোগের সত্যতা মিলেছে। ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া গেছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।


এদিকে তালিকায় নাম থাকার পরও চার বছর ধরে চাল না পেয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন অচিন্তপুর ইউনিয়নের হতদরিদ্র মানুষ। অচিন্তপুর গ্রামের ২৭ জন ও চড়াকোনা গ্রামের ২৯ জন চাল পাননি বলে অভিযোগ করেছেন। এ প্রসঙ্গে ডিলার মো. রুমন মিয়া বলেন, কার্ড দেন চেয়ারম্যান আর মেম্বার। চাল পায়নি বা ভুয়া কার্ড এসব বিষয়ে কিছুই জানি না। অভিযোগ প্রসঙ্গে অচিন্তপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. শহিদুল ইসলাম অন্তর বলেন, চাল বিতরণে সরকারি তদারকি কর্মকর্তা (ট্যাগ অফিসার) ছিলেন। আমরা হতদরিদ্রদের নামে কার্ড করে দিয়েছি। চার বছর পর কেউ যদি এসে বলেন তিনি চাল পাননি তাহলে তা দুরভিসন্ধিমূলক। এমন অভিযোগ ষড়যন্ত্রমূলক বলেও তিনি মন্তব্য করেন। এদিকে উপজেলার ২নং গৌরীপুর ইউনিয়নের ভিডিজি কর্মসূচির নানা অনিয়মের খবর দৈনিক যুগান্তরে প্রকাশিত হলে ২৮২ জন সুবিধাভোগীকে তিন মাসের চাল দেয়া হয়। তবে মাস পেরিয়ে গেলেও বাকি দুই মাসের চাল কাউকে দেয়া হয়নি। এ বিষয়ে ইউএনও’র কাছে কোনাপাড়া গ্রামের কার্ডধারীরা অভিযোগ করেছেন।

  • সর্বশেষ - মহানগর