ময়মনসিংহ, , ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ অনলাইন সংস্করণ

অসুস্থ থাকার পরও করোনা যুদ্ধে অংশ নিয়ে প্রশংসিত এমপি কাজিম উদ্দিন আহম্মেদ ধনু

  শাহ মোহাম্মদ রনি

  প্রকাশ : 

অসুস্থ থাকার পরও করোনা যুদ্ধে অংশ নিয়ে প্রশংসিত এমপি কাজিম উদ্দিন আহম্মেদ ধনু

অসুস্থ থাকার পরও করোনা যুদ্ধে অংশ নিয়ে প্রশংসিত হয়েছেন ময়মনসিংহের ভালুকা আসনের জননন্দিত এমপি আলহাজ্ব কাজিম উদ্দিন আহম্মেদ ধনু। ভারতের দিল্লির বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ না মেনে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তিনি ভালুকাবাসীর পাশে অবস্থান করছেন। দীর্ঘ ২ মাস তার পূর্ণ বিশ্রামে থাকার কথা ছিলো। মানবিকতার প্রশ্নে তিনি মানুষের কল্যাণে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ বাস্তবায়ন করছেন। করোনা পরিস্থিতিতে যেক’জন এমপি ঝুঁকি নিয়ে এলাকায় অবস্থান করছেন তাদের মধ্যে কাজিম উদ্দিন আহম্মেদ ধনু অন্যতম। করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে ব্যাপক ভূমিকা এবং অসহায় পরিবারের মধ্যে খাদ্যপণ্য বিতরণ করে তিনি রেকর্ড সৃষ্টি করেছেন। ঝুঁকি নেওয়ার কারণে ভালুকাবাসী তাকে করোনা যুদ্ধের অগ্রনায়ক বলছেন। জনদরদী এই নেতা সকাল থেকে দিনব্যাপী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান করে তদারকি করেন প্রধানমন্ত্রীর উপহার ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম। ১৮-০৫-২০২০ সোমবার রাত পর্যন্ত এলাকায় অবস্থান করেন এমপি ধনু। সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে উপজেলার দরিদ্র এবং অসহায় পরিবারের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর উপহার ৩৬ হাজার ২০০ ব্যাগ ত্রাণ এবং এমপির ব্যক্তিগত উদ্যোগে ১০ হাজার ব্যাগ খাদ্যপণ্য বিতরণ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর উপহার ত্রাণ ও এমপির ব্যক্তিগত উদ্যোগে খাদ্যপণ্য বিতরণ অব্যাহত রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছাড়া কাউকে ঘরের বাইরে বের না হওয়ার অনুরোধ জানাচ্ছেন এমপি ধনু। করোনা পরিস্থিতিতে তিনি ভালুকাবাসীর মনে আরেকদফা দাগ কেটেছেন। দেশের অধিকাংশ জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতা যখন লকডাউনে তখন আক্রান্তের ঝুঁকি নিয়ে এলাকায় অবস্থান করছেন জননন্দিত এমপি আলহাজ্ব কাজিম উদ্দিন আহম্মেদ ধনু। তার মরহুম বাবা মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম নায়ক ও কিংবদন্তি মেজর আফসার উদ্দিন আহম্মেদও বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে আলাদা বাহিনী গঠন করে একইভাবে জীবন বাজি রেখে দেশ স্বাধীন করতে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন মহান মুক্তিযুদ্ধে।

সূত্র জানায়, কয়েক দিনের মধ্যেই ভালুকা পৌরসভা এবং ১১টি ইউনিয়নে চালু হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত বিশেষ খাদ্য এবং মানবিক সহায়তা কর্মসূচি। ৩১ হাজার ৬৮৭ পরিবার করোনা সঙ্কট পরবর্তী সময় পর্যন্ত এই সহযোগিতা পাবেন। এর মধ্যে ২৪ হাজার বিশেষ ওএমএস, ৭ হাজার ৮২৮ মানবিক সহায়তা, ১৮ হাজার ৮৪৭ খাদ্য বান্ধব এবং ২ হাজার ৬১২ জন ভিজিডি কার্ড পাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ অনুযায়ী অসহায়দের তালিকা তৈরী করতে দীর্ঘ ৫ দিন নির্ঘুম রাত কাটান এমপি, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, সহকারী কমিশনার (ভূমি), উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান, পৌর মেয়র, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যসহ অফিস স্টাফরা। এদিকে ১৮-০৫-২০২০ সোমবার রাত পর্যন্ত ভালুকায় সরকারি ৩৬ হাজার ২০০ এবং এমপির ব্যক্তিগত তহবিলের ১০ হাজার ব্যাগ খাদ্যপণ্য বিতরণ করা হয়। লকডাউন দীর্ঘ হওয়ায় বহু পরিবার একাধিকবার খাদ্যপণ্য পেয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা এবং এমপির তদারকি অনুযায়ী পৌর মেয়র ও কাউন্সিলর এবং ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও সদস্যরা তালিকা তৈরী করে প্রধানমন্ত্রীর উপহার ত্রাণের চাল ও আলু বিতরণ করেন। অপরদিকে এমপির ব্যক্তিগত উদ্যোগে আওয়ামী লীগ এবং সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবকরা ওয়ার্ডভিত্তিক অসহায় এবং কর্মহীন পরিবারের মধ্যে খাদ্যপণ্য বিতরণে সহযোগিতা করেন। লোক লজ্জায় থাকা মধ্যবিত্ত পরিবারের মধ্যেও রাতের বেলা খাদ্যপণ্য পৌঁছানোর ব্যবস্থা করেন এমপি ধনু।


জানা যায়, আলহাজ্ব কাজিম উদ্দিন আহম্মেদ ধনু একজন ব্যতিক্রমী সংসদ সদস্য। বাংলাদেশে করোনা রোগী সনাক্ত হওয়ার পর চিকিৎসা শেষে ভারত থেকে তিনি দেশে ফিরেন। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইন শেষে ভালুকাবাসীর কথা চিন্তা করে আক্রান্তের ঝুঁকি থাকার পরও এলাকায় যান। উপজেলা প্রশাসন এবং জনপ্রতিনিধিদের সাথে আলোচনা করে শুরু করেন প্রয়োজনীয় কর্মযজ্ঞ। করোনা মহামারীর কোয়ারেন্টাইন প্রথা ভেঙ্গে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য খাদ্যপণ্য নিয়ে প্রতিদিনই ছুটছেন বিভিন্ন এলাকায়। প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে এখন পর্যন্ত ভালুকায় ১৮১ টন চাল এবং ৩৬ টন আলু বরাদ্দ দেওয়া হয়। এমপি ব্যক্তিগত তহবিল থেকে পৌরসভা ও বিভিন্ন ইউনিয়নে দরিদ্র, অসহায়, কর্মহীন এবং দুঃখী মানুষের মধ্যে খাদ্যপণ্য বিতরণ করে যাচ্ছেন। ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী তার কমপক্ষে ২ মাস পূর্ণ বিশ্রামে থাকার কথা ছিলো। তিনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ উপেক্ষা করে করোনা যুদ্ধে অংশ নিয়েছেন। উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান, উপজেলা প্রশাসন, উপজেলা পরিষদ ভাইস চেয়ারম্যান, পৌর মেয়র এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী খাদ্যপণ্য বিতরণ করার। সার্বক্ষণিক খোঁজ রাখছেন খাদ্যপণ্য বিতরণের। অসহায় কৃষকদের জন্য ব্যবস্থা করে দিয়েছেন ধান কাটার মেশিন।

সূত্র জানায়, ময়মনসিংহের ভালুকা আসনের এমপি আলহাজ্ব কাজিম উদ্দিন আহম্মেদ ধনু তৃণমূল থেকে উঠে আসা আপাদমস্তক একজন রাজনীতিবিদ। ছাত্রলীগ দিয়ে রাজনীতি শুরু। তার মতো দক্ষ এবং মানবিক এমপি পেয়ে ভালুকাবাসী গর্বিত। তিনি দরিদ্র ও অসহায় পরিবারের মধ্যে সঠিকভাবে প্রধানমন্ত্রীর উপহার ত্রাণ এবং ব্যক্তিগত উদ্যোগের খাদ্যপণ্য বিতরণের ব্যবস্থা করেছেন। বিভিন্ন এলাকায় জনসেবায় এগিয়ে থাকা এমপিদের মধ্যে তিনি অন্যতম। ১ বছর ৪ মাসে এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন প্রকল্প, ক্লিন ইমেজ, বিচক্ষণতা এবং সাংগঠনিক দক্ষতার কারণে সকলের নজর কেড়েছেন। মানুষ যখন অদৃশ্য ঘাতক করোনা ভাইরাস সংক্রমণের অজানা আশঙ্কায় তখনও তিনি মাঠে। মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ভালুকা উপজেলা কমাণ্ডের সাবেক কমাণ্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ নাজিম উদ্দিন মন্ডল সোমবার দৈনিক জাগ্রত বাংলা’কে বলেন, আলহাজ্ব কাজিম উদ্দিন আহম্মেদ ধনু ভালুকাবাসীর জন্য নিবেদিত প্রাণ। তার গ্রহণযোগ্যতা এবং দূরদর্শিতায় ভালুকায় ২শ’ কোটি টাকারও বেশি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হওয়ার পথে। যা আগের সকল সময়ের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে ছাড়িয়ে গেছে। তিনি ভালুকাবাসীর জন্য একের পর এক বিশেষ ভূমিকা রেখে জননেত্রী শেখ হাসিনা সরকারের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করছেন। তিনি বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম নায়ক ও কিংবদন্তি মেজর আফসার উদ্দিন আহম্মেদ-এর সুযোগ্য সন্তান আলহাজ্ব কাজিম উদ্দিন আহম্মেদ ধনু সকলের কাছের এবং প্রিয় মানুষ। এই নেতা তার বুকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ লালন এবং মরহুম বাবার ঐতিহ্য ও কর্ম অনুসরণ করে ‘আধুনিক ভালুকা’ গড়ার অঙ্গিকার নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন।


জানা যায়, ক্লিন ইমেজের সফল জনপ্রতিনিধি আলহাজ্ব কাজিম উদ্দিন আহম্মেদ ধনু নানান কারণে ভালুকার সাবেক ও বর্তমান জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে ব্যাপকভাবে গ্রহণযোগ্য। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম নায়ক ও কিংবদন্তি মরহুম বাবার ইতিহাস, ঐতিহ্য ও কর্মকে ধরে রাখার শপথ নিয়ে ১৯৮৫ সালে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হন। ১৯৮৭ সালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৮৯ সালে ভালুকা উপজেলা ছাত্রলীগের আহ্বায়কের দায়িত্ব পান। ১৯৯০ থেকে ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত তিনি উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। ১৯৯৪ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। ২০০২ সালে যুবলীগের সভাপতি নির্বাচিত হয়ে ২০১৫ সাল পর্যন্ত দায়িত্বে ছিলেন। ২০০৩ সালে উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগের সদস্য হন। বর্তমানে তিনি ময়মনসিংহ জেলা, ভালুকা উপজেলা এবং পৌর আওয়ামী লীগের সদস্য। ২০০৯ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত উপজেলা পরিষদে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। সততা এবং বলিষ্ঠ ভূমিকার কারণে তিনি জনপ্রতিনিধির সর্বোচ্চ স্থানে পৌঁছতে পেরেছেন। দেড় ডজন প্রার্থী থাকার পরও ক্লিন ইমেজ, দক্ষতা, রাজনৈতিক দূরদর্শিতা, বলিষ্ঠ ভূমিকা এবং পারিবারিক ইতিহাস ও ঐতিহ্যের কারণে আলহাজ্ব কাজিম উদ্দিন আহম্মেদ ধনু বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পান। তার বাবা আওয়ামী লীগের মনোনয়নে ভালুকা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে ১৯৮৯ থেকে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। মৃত্যুর সময় পর্যন্ত তিনি ময়মনসিংহ জেলা ও ভালুকা উপজেলা আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন।

সূত্র জানায়, বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ভালুকায় নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে সুদৃঢ় অবস্থানে ছিলেন জননেতা আলহাজ্ব কাজিম উদ্দিন আহম্মেদ ধনু। তাকে ঘিরে নেতাকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে চলছিলো ব্যাপক তোড়জোড়। ‘আধুনিক ভালুকা’ গড়ার রূপকল্প নিয়ে তিনি ভালুকাবাসীর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। নির্বাচনী আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন তিনি। তাকে বিবেচনা করা হয়েছিলো শক্তিশালী এবং জনপ্রিয় প্রার্থী হিসেবে। তার পক্ষে মাঠে নেমেছিলেন আওয়ামী লীগ এবং সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী ও সমর্থক, সর্বস্তরের মুক্তিযোদ্ধা, আম জনতা, জনপ্রতিনিধি, পেশাজীবী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিসহ বিশাল সমর্থক গোষ্ঠি। ক্লিন ইমেজ ও দূরদর্শিতার কারণে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষক মহলের দৃষ্টিতেও ছিলো তার ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা। আলোচনা-পর্যালোচনা ও নির্বাচনী জল্পনা-কল্পনায় তাকে জনপ্রিয় প্রার্থী হিসেবে ধরে নিয়ে চলে সরগরম প্রচারণা। দলীয় কর্মসূচি পালন, সক্রিয় অংশগ্রহণ ও ভূমিকা রাখা এবং মানবিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের কারণেও তিনি খুবই জনপ্রিয়।


রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা জানান, ময়মনসিংহের ১১টি সংসদীয় আসনের মধ্যে সদরের পর দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ ময়মনসিংহ-১১ ভালুকা আসন। বিএনপির শক্তিশালী প্রার্থীর ক্ষেত্রে শেখ হাসিনাকে নৌকার সম্মানজনক বিজয় উপহার দেন আলহাজ্ব কাজিম উদ্দিন আহম্মেদ ধনু। তার প্রার্থীতায় নৌকার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ভোট ব্যাংক অক্ষুন্ন ছিলো। রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তিনি দীর্ঘ দিন ধরে সক্রিয় থেকে প্রার্থীতার ভিত সুদৃঢ় করেন। নিজের ভোট ব্যাংক ছাড়াও দলমতের উর্ধ্বে সাধারণ মানুষের মধ্যেও তার ব্যাপক সমর্থন ছিলো। সততা, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা, দায়িত্বশীলতা, মানবিক ও সামাজিকতা ছাড়াও উন্নয়নের ক্ষেত্রে তিনি প্রতিশ্রুতিশীল। দলীয় নেতাকর্মী, সমর্থক ও সর্বস্তরের জনগণের মধ্যেও রয়েছে তার ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা। বঙ্গবন্ধুর সৈনিক আলহাজ্ব কাজিম উদ্দিন আহম্মেদ ধনু নিজেকে নিবেদিত করেছেন আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে। জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত তিনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশ ও জনগণের কল্যাণে কাজ করে যেতে চান। দুস্থ এবং অসহায় মানুষের চিকিৎসা, বিয়ে, পড়ালেখাসহ বিভিন্ন বিষয়ে নগদ অর্থ সহায়তার পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, সড়ক ও সেতু ছাড়াও এলাকার উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখছেন জননন্দিত এমপি আলহাজ্ব কাজিম উদ্দিন আহম্মেদ ধনু।

প্রসঙ্গত, মেজর আফসার উদ্দিন আহম্মেদ মহান মুক্তিযুদ্ধের অনিয়মিত ৩টি বাহিনীর অন্যতম ‘আফসার বাহিনী’র প্রধান ছিলেন। পরে তিনি ১১ নম্বর সেক্টরের সাব সেক্টর কমান্ডার নিযুক্ত হন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণে উদ্বুদ্ধ হয়ে এপ্রিলের প্রথম দিকে নিজ উদ্যোগে ‘আফসার বাহিনী’ গঠন করেন। ভারত সরকারের কোনো প্রকার সহযোগিতা ছাড়াই ভালুকা উপজেলার ডাকাতিয়ার ঢালুয়া থেকে ৫ সহস্রাধিক সদস্যের সমন্বয়ে ৭৬৫ বর্গকিলোমিটার এলাকা দখলে রেখে যুদ্ধ চালিয়ে যান। নভেম্বর মাসের প্রথম দিকে ভারত সরকার এ বাহিনীকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়। দীর্ঘ ৮ মাসের টানা যুদ্ধে মেজর আফসার উদ্দিন আহম্মেদ-এর ছেলে নাজিম উদ্দিন আহম্মেদ ও শ্যালক মতিউর রহমানসহ ৪৭ জন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। আফসার বাহিনীর দেড় শতাধিক উল্লেখযোগ্য যুদ্ধ মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে অম্লান হয়ে থাকবে। এর মধ্যে ২৫ জুন ভালুকার ভাওয়ালিয়া বাজু শিমুলীয়া নদীরপাড়ের সম্মুখ যুদ্ধ মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে বিরল দৃষ্টান্ত। দীর্ঘ ৪৮ ঘন্টার যুদ্ধে ১৯৫ জন পাক সেনা নিহত এবং আব্দুল মান্নান নামের একজন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। ২৫ জুন শুক্রবার সকালে ভালুকা আক্রমণ ও ক্যাম্প করার জন্য দেড় হাজার পাক সেনা গফরগাঁও থেকে ৩ ভাগে বিভক্ত হয়ে শিমুলীয়া ঘাট দিয়ে ভালুকা প্রবেশের চেষ্টা চালায়। খবর পেয়ে মেজর আফসার উদ্দিন আহম্মেদ মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। শুরু হয় সম্মুখ যুদ্ধ। সর্ব প্রথম তিনি এলএমজি দিয়ে গুলিবর্ষণ শুরু করেন। অন্যদিকে দেশ মাতৃকার টান, স্বামী এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সহযোগিতা করার জন্য মেজর আফসার উদ্দিন আহম্মেদ-এর স্ত্রী খায়রুন নেছাও অংশ নিয়েছিলেন একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে। বয়সের ভারে ন্যুব্জ হয়ে তিনি এখন শয্যাশায়ী। মাঝে মধ্যেই স্মৃতিচারণ করেন একাত্তরের বিভিষিকাময় দিনগুলোর। একই পরিবারে নারীসহ ১৯ জন মুক্তিযোদ্ধা থাকার বিষয়টিও উল্লেখ করার মতো। স্ত্রী-সন্তান, ভাই এবং পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়ার বিষয়টিও দূর্লভ ইতিহাস।

  • সর্বশেষ - জাতীয়