ময়মনসিংহ, , ২০ শ্রাবণ ১৪২৭ অনলাইন সংস্করণ

মাল্টা কেজিতে ৭০ টাকা বেশি, কমলার কেজি ৩০০

  নিজস্ব প্রতিবেদক

  প্রকাশ : 

মাল্টা কেজিতে ৭০ টাকা বেশি, কমলার কেজি ৩০০

করোনাভাইরাস প্রকোপের কারণে চাহিদা বাড়া এবং সরবরাহ কমে যাওয়ায় রাজধানীর বাজারগুলোতে অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ ফল মাল্টার দাম। তবে পাইকারি ও খুচরা বাজারে ফলটির দামের মধ্যে বিস্তার ফাঁরাক। পাইকারির তুলনায় খুচরা বাজারে মাল্টার কেজি ৭০ টাকা বেশিতে বিক্রি হচ্ছে।


মাল্টার পাশাপাশি ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ আর আরেক ফল কমলালেবুর দামও অস্বাভবিক হারে বেড়েছে। খুচরা পর্যায়ে বিভিন্ন বাজারে কমলালেবুর কেজি ৩০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। এ ফলটিও পাইকার ও খুচরা দামের মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে।


খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, করোনাভাইরাসের কারণে মাল্টা ও কমলালেবুর চাহিদা বেশ বেড়েছে। কিন্তু আড়তে এই দুটি ফল তেমন পাওয়া যাচ্ছে না। যা পাওয়া যাচ্ছে তার দাম অনেক বেশি। এ কারণে খুচরা পর্যায়ে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।


খুচরা ব্যবসায়ীদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, করোনাভাইরাসের প্রকোপ শুরু হওয়ার আগে কমলালেবু ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি বিক্রি হয়। সেই কমলালেবুর দাম করোনার মধ্যে কয়েক দফা বেড়ে এখন ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। অর্থাৎ করোনার মধ্যে কমলালেবুর দাম বেড়ে তিনগুণ হয়েছে।


কমলার মতো অস্বাভাবিক দাম বেড়েছে মাল্টারও। তবে কমলার তুলনায় মাল্টার দাম বাড়ার হার তুলনামূলক কম। করোনার আগে মাল্টার কেজি বিক্রি হচ্ছিল ৮০ থেকে ১০০ টাকা। করোনার মধ্যে কয়েক দফা সেই দাম বেড়ে এখন ১৮০ থেকে ২০০ টাকা হয়েছে।


খুচরার পাশাপাশি কমলালেবু ও মাল্টার দাম পাইকারিতেও বেড়েছে। এই দাম বাড়ার কারণ হিসেবে পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, করোনাভাইরাসের কারণে ব্যবসায়ীরা নতুন করে মাল্টা ও কমলালেবু আমদানিতে যাননি। আবার এই দুটি ফলের সিজনও শেষ হয়ে এসেছে। এ কারণে আড়তে মাল্টা ও কমলালেবুর সরবরাহ খুবই সীমিত। যার কারণে দাম একটু বেশি।


বাদামতলীর পাইকারি ব্যবসায়ীদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে পাইকারিতে ২০ কেজি মাল্টা সর্বোচ্চ দুই হাজার টাকা বিক্রি হচ্ছে। এতে প্রতি কেজি মাল্টার দাম পড়ে ১৩৩ টাকা। আর কমলালেবুর কেজি বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২২০ টাকার মধ্যে।


বাদামতলীর সাথী ফ্রেশ ফ্রুটস লিমিটেডের মালিক সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘করোনার কারণে ভয়ে আমরা শিপমেন্ট বন্ধ করে দিয়েছি। এ কারণে নতুন করে মাল্টা ও কমলালেবু আসছে না। তাছাড়া এখন মাল্টা ও কমলালেবুর সিজন শেষ। এ কারণে দাম একটু বেড়েছে।’


তিনি বলেন, ‘এখন বাজারে যে মাল্টা পাওয়া যাচ্ছে তা আগের আনা। মাল্টা অল্প অল্প পাওয়া গেলেও কমলালেবু বেশিরভাগ ব্যবসায়ীর কাছে। দু-একজনের স্টোরে থাকা কিছু কমলালেবু হয়তো পাওয়া যাচ্ছে। তবে কমলালেবু এখন বাদামতলীতে নেই বললেই চলে। ৮-১০ দিন আগেই আড়তে কমলালেবু শেষ হয়ে গেছে।’ তিনি বলেন, মাল্টা ও কমলালেবুর সিজন শুরু হতে আরও ১০-১৫ দিন লাগবে। সে হিসেবে কুরবানি ঈদের সময় হয়তো আমরা নতুন মাল পাব।


খুচরা বাজারে মাল্টা ২০০ টাকা এবং কমলালেবু ৩০০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। আপনারা কি এই দাম স্বাভাবিক মনে করেন? এমন প্রশ্ন করলে এই ফল ব্যবসায়ী বলেন, ‘আমরা ১৫ কেজি মাল্টা ১৮০০ থেকে ২০০০ টাকায় বিক্রি করছি। তাতে এক কেজি মাল্টার দাম পড়ে ১২০ থেকে ১৩০ টাকার মতো। এই মাল্টা খুচরায় ২০০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া স্বাভাবিক না। করোনার কারণে সব দোকান খোলা না থাকার কারণে হয়তো কিছু কিছু ব্যবসায়ী এর সুযোগ নিচ্ছে। খুচরা বাজারে বেশি দামে ফল বিক্রি হওয়ার তথ্য আমরাও কিছুদিন ধরে পাচ্ছি।’


পাইকারি তুলনায় খুচরা দামের বড় পার্থক্য হওয়ার কারণ জানতে চাইলে খিলগাঁওয়ের ব্যবসায়ী শহিদ বলেন, আড়তে এখন মাল্টা ও কমলালেবু সেভাবে পাওয়া যাচ্ছে না। যা পাওয়া যাচ্ছে তা যাচাই করে নেয়ারও সুযোগ নেই। কার্টনে যেভাবে থাকে আমাদের সেভাবেই কিনে আনতে হয়। অনেক সময় দেখা যায়, কাটনের মধ্যে অনেক মাল নষ্ট। এগুলোতে আমরা বিক্রি করতে পারি না। ফলে একটু দাগ দেখলেই ক্রেতারা নিতে চায় না। কিন্তু আড়তে আমাদের বেছে নেয়ার সুযোগ নেই। হাত দিয়ে নেড়ে দেখতে গেলেই আড়তদাররা খারাপ আচরণ করে।


তিনি বলেন, করোনার কারণে মাল্টার এখন চাহিদা অনেক বেড়েছে। সে কারণে আড়ত মালিকের খারাপ আচরণের পরও আমরা বেশি দাম দিয়ে মাল কিনে আনছি। সব খরচ বাদ দিয়ে হিসাব করে দেখলে আমাদের তেমন লাভ হয় না।


রামপুরায় ভ্যানে করে ফল বিক্রি করেন রহিম। তিনি বলেন, কমলালেবু এখন তেমন চলে না। আড়তে প্রচুর দাম। ওই দামে কমলা কিনে এনে ৩০০ টাকার নিচে বিক্রি করা সম্ভব হবে না। এত দামে কমলা কয়জন কিনে খাবে বলেন? তাই লোকসানের ভয়ে কমলা আনি না। তবে মাল্টা এখন বেশ ভালো বিক্রি হচ্ছে। ১৮০ থেকে ২০০ টাকা কেজি বিক্রি করছি।


পাইকারিতে মাল্টা ১২০ থেকে ১৩০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে, তাহলে আপনারা এত বেশি দাম নিচ্ছেন কেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, এখন আড়তে আগের মতো ভালো মাল্টা পাওয়া যায় না। প্রতি কাটনেই নষ্ট মাল থাকে। যে কারণে ক্ষতি পুষিয়ে নিতে আমাদের একটু বেশি দামেই বিক্রি করতে হয়। এখন তো তাও ২০০ টাকার মধ্যে মাল্টা পাচ্ছেন। কয়দিন পর মাল্টার কেজি দেখবেন আড়াইশ টাকা হয়ে গেছে।

  • সর্বশেষ - অর্থ-বাণিজ্য