ময়মনসিংহ, , ১৯ আষাঢ় ১৪২৭ অনলাইন সংস্করণ

দাম কমেছে ডিম-আদার, বাড়তি আলু-পেঁয়াজ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

  প্রকাশ : 

দাম কমেছে ডিম-আদার, বাড়তি আলু-পেঁয়াজ

ঈদের পর রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে ডিম ও আদার দাম কমেছে। ডিমের দাম ডজনে ১০ টাকা এবং আদার দাম কেজিতে ৪০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। তবে বেড়েছে আলু ও পেঁয়াজের দাম। আলুর দাম কেজিতে সাত টাকা এবং পেঁয়াজ কেজিতে পাঁচ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।


ব্যবসায়ীরা বলছেন, চাহিদা বাড়ার কারণে ঈদের আগে ডিম ও আদার দাম বেড়ে যায়। তবে ঈদের পর এখন চাহিদা কিছুটা কমায় এখন দাম কমছে। ডিমের দাম না কমলেও সামনে আদার দাম আরও কমার সম্ভাবনা রয়েছে।


অপরদিকে চাহিদা তুলনামূলক কম থাকলেও পেঁয়াজ ও আলুর দাম বাড়ার বিষয়ে ব্যবসায়ীরা বলছেন, আলু ও পেঁয়াজ উঠেছে অনেক দিন আগেই। এখন বেশিরভাগ পেঁয়াজ ও আলু কোল্ড স্টোরে (মজুত) চলে গেছে। এ কারণে দাম বাড়তি।


বুধবার (২৭ মে) বিভিন্ন বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ফার্মের মুরগির ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ৯৫ টাকা, যা ঈদের আগের দিন ১০০ থেকে ১০৫ টাকা বিক্রি হচ্ছিল। আর রোজার মধ্যে ছিল ৭৫ থেকে ৮০ টাকা। অর্থাৎ ঈদের পর ডজনে ১০ টাকা কমলেও রোজার সময়ের তুলনায় এখনও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে ডিম।


ডিমের দামের বিষয়ে হাজীপাড়া বৌ-বাজারের ব্যবসায়ী সাবু মিয়া বলেন, ঈদের আগের দিন ডিমের ডজন ১০০ টাকা বিক্রি করেছি, আজ ৯০ টাকা বিক্রি করছি। সবাই এখনও ঈদের মাংস খাচ্ছে। এ কারণে ডিমের চাহিদা কিছুটা কম। এ কারণে কিছুটা দাম কমেছে।


তিনি বলেন, এখন ডিমের দাম কিছুটা কমলেও কয়েকদিনের মধ্যেই আবার বেড়ে যাবে। করোনা ও রোজার মধ্যে চাহিদা কম থাকায় বেশিরভাগ ফার্ম মালিকরা ডিম ও মুরগির উৎপাদান কমিয়ে দিয়েছেন। ফলে ফার্মের মুরগি ও ডিমের সরবরাহ তুলনামূলক কম। সুতরাং মানুষ ডিম কেনা শুরু করলে দাম বেড়ে যাবে।


ঈদের আগে অস্বাভাবিক দাম বাড়া আদার দামও কিছুটা কমেছে। ঈদের আগের দিন ২০০ থেকে ২২০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া দেশি আদার দাম কমে ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা হয়েছে। একই দামে বিক্রি হচ্ছে আমদানি করা আদা, যা ঈদের আগের দিন ২০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল।


আদার পাশাপাশি দেশি ও আমদানি উভয় ধরনের রসুনের দাম কমেছে। দেশি রসুনের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৪০ টাকা, যা ঈদের আগের দিন ১৮০ থেকে ২০০ টাকা হয়েছিল। আর ১৮০ থেকে ২০০ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া আমদানি করা রসুনের দাম কমে ১৬০ থেকে ১৮০ টাকা হয়েছে।


মালিবাগ হাজীপাড়ার ব্যবসায়ী মো. জাহাঙ্গীর বলেন, ঈদে মাংস খাওয়ার কারণে আদা ও রসুনের চাহিদা বেড়ে যায়। এতে ১৩০ টাকা কেজি বিক্রি করা আদার দাম দেখতে দেখতে ২০০ টাকা এবং ১৪০ টাকার রসুন ২০০ টাকা ছাড়িয়ে যায়। এখন চাহিদা কমায় আবার দাম কমেছে। আমাদের ধারণা, সামনে আদা ও রসুনের দাম আরও কমবে।


এদিকে ডিম, আদা ও রসুনের দাম কমলেও আলু ও পেঁয়াজের দাম নতুন করে আরও বেড়েছে। বিভিন্ন বাজারে মান অনুযায়ী, পেঁয়াজের কেজি বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৫৫ টাকা, যা ঈদের আগে ছিল ৪৫ থেকে ৫০ টাকা। আর ২২ থেকে ২৫ টাকা কেজি বিক্রি হওয়া আলুর দাম বেড়ে ২৮ থেকে ৩২ টাকা হয়েছে।


খিলগাঁওয়ের ব্যবসায়ী সামাদ বলেন, এখন আলু আর চাষিদের কাছে নেই। সব বড় বড় ব্যবসায়ীদের মজুতে চলে গেছে। এখন ওই ব্যবসায়ীরা চাইলেই সরবরাহ কমিয়ে দিয়ে দাম বাড়াতে পারেন। ইতোমধ্যে দাম বাড়া শুরু হয়ে গেছে।


তিনি বলেন, কিছুদিন আগে যে আলু ২২ টাকা কেজি বিক্রি করেছি এখন ৩২ টাকা কেজি বিক্রি করতে হচ্ছে। নতুন আলু না উঠা পর্যন্ত দাম কমার সম্ভাবনা কম।


রামপুরার ব্যবসায়ী হায়দার বলেন, আলু হলো এমন একটি পণ্য যার চাহিদা সব সময় থাকে। কিন্তু সারাবছর আলু উৎপাদন হয় না। আলু যখন নতুন উঠেছিল তখন দাম কম ছিল। এখন আর আলু বাইরে নেই। সব কোল্ড স্টোরেজে চলে গেছে। এ আলু পঁচার সম্ভাবনা কম। তাই বাজারে হুট করে সরবরাহ বেড়ে দাম কমার সম্ভাবনা নেই। বরং নজরদারি না বাড়ালে আরও দাম বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

  • সর্বশেষ - অর্থ-বাণিজ্য