ময়মনসিংহ, , ২৪ আষাঢ় ১৪২৭ অনলাইন সংস্করণ

ময়মনসিংহে ইয়াবা ও নারীসহ র‌্যাবের কাছে আটক বিতর্কিত আওয়ামী লীগ নেতা আসাদ

  শাহ মোহাম্মদ রনি

  প্রকাশ : 

ময়মনসিংহে ইয়াবা ও নারীসহ র‌্যাবের কাছে আটক বিতর্কিত আওয়ামী লীগ নেতা আসাদ

ময়মনসিংহ নগরীতে ইয়াবা ও নারীসহ র‌্যাবের কাছে আটক হওয়ার পর ভ্রাম্যমাণ আদালতে দণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে কারাগারে গেছেন তারাকান্দা উপজেলা আওয়ামী লীগের বিতর্কিত নেতা আসাদুজ্জামান সরকার আসাদ। র‌্যাব ১৪ এর বিশেষ টিম রবিবার বিকালে আকুয়া হাবুন বেপারী মোড়ের বাসা থেকে বান্ধবীসহ তাকে আটক করে। তাদের কাছ থেকে ৭ পিস ইয়াবা, ইয়াবা সেবন এবং অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িত থাকার আলামত উদ্ধার করা হয়। জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ মাঈদুল ইসলাম তাৎক্ষণিক আদালত বসিয়ে আটক ২ জনের প্রত্যেককে ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড প্রদান করেন। তারা দোষ স্বীকার করে জরিমানার টাকা পরিশোধ করেন। ভ্রাম্যমাণ আদালতের মামলা নম্বর: ২৭৮, তারিখ: ৩১-০৫-২০২০। র‌্যাবের সিনিয়র এএসপি জুনাঈদ আফ্রাদ টিমের নেতৃত্বে ছিলেন। মাদকাসক্ত আওয়ামী লীগ নেতার ফেসবুক আইডি ও মোবাইল ফোন সেট থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। একাধিক নারীর সাথে সম্পর্ক এবং অশ্লীল মেসেজ বিনিময়, হুমকি দিয়ে কু-প্রস্তাব, নারীদের ব্যক্তিগত ছবি এবং রোমান্টিক ও রসালো নামে তাদের মোবাইল নম্বর সেভ রেখেছেন। বিতর্কিত আসাদ ইয়াবা ও নারীসহ র‌্যাবের কাছে আটক এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতে দণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে কারাগারে যাওয়ার ঘটনায় ফুলপুর ও তারাকান্দায় আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে।


সূত্র জানায়, গোপন সংবাদ পেয়ে র‌্যাব ১৪ এর বিশেষ টিম ৩১-০৫-২০২০ রবিবার বিকালে আকুয়া হাবুন বেপারী মোড় এলাকায় আসাদুজ্জামান সরকার আসাদের আস্তানায় হানা দেয়। র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে আসাদ পালানোর চেষ্টা চালায়। আসাদ ও তার বান্ধবীর কাছ থেকে ৭ পিস ইয়াবা, ইয়াবা সেবন ও অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িত থাকার আলামত উদ্ধার করা হয়। পরে সাক্ষীদের উপস্থিতিতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাদের ২ জনকে ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড প্রদান করেন। আদালতের আদেশ অনুযায়ী আসাদ ও তার বান্ধবীকে তাৎক্ষণিক ময়মনসিংহ কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়। বিতর্কিত আসাদের ‘র’ অদ্যাক্ষরের বান্ধবীর বয়স ২৮ বছর। তার বাড়ি সদর উপজেলার মীরকান্দাপাড়ায়। ময়মনসিংহ ও ঢাকায় আসাদের ডজনখানেক বান্ধবী রয়েছে। বদমেজাজ এবং দাম্ভিকতার কারণে কোনো বান্ধবীর সাথেই তার বেশি দিন সম্পর্ক টিকে না। অনেককেই হুমকি দিয়ে সম্পর্কে জড়াতে বাধ্য করেন। এরই মধ্যে আমাদের কাছে কিছু স্কিনশর্ট পৌঁছেছে। এসব পর্যালোচনা করে আসাদ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। অধিকাংশ স্কিনশর্ট প্রকাশের অনুপযোগী। আসাদ ময়মনসিংহ নগরীর আকুয়া হাবুন বেপারী মোড়ে চারতলা বাড়ির তৃতীয় তলার একটি ইউনিট ভাড়া নিয়ে মাদক সেবন এবং অসামাজিক কার্যকলাপের আস্তানা বানিয়েছিলেন।


জানা যায়, র‌্যাবের কাছে আটক এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতে দণ্ডপ্রাপ্ত আসাদুজ্জামান সরকার আসাদ তারাকান্দা উপজেলার বালিখাঁ ইউনিয়নের ঢাকিরকান্দা পারুলীতলার আব্দুর রাজ্জাক সরকারের ছেলে। বদমেজাজ এবং দাম্ভিকতার কারণে অনেকেই তাকে সমিহ করে চলেন। তিনি পারুলীতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি। তার বিরুদ্ধে স্কুল তহবিলের নগদ টাকা ও সম্পদ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। বালিখাঁ ইউনিয়ন পরিষদ থেকে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করার প্রস্ততি নিচ্ছিলেন। এলাকার এক শ্রেণীর যুবকদের সাথে তার ঘনিষ্ট সম্পর্ক রয়েছে। রাজধানী ঢাকা ও ময়মনসিংহ থেকে ইয়াবার চালান নিয়ে ওই যুবকদের দিয়ে বিক্রি করানোর অভিযোগ রয়েছে। চাকরি এবং কাজ পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়ারও অভিযোগ আছে। সরকারি কর্মকর্তাদের সাথে খারাপ আচরণ করারও অভিযোগ রয়েছে। সূত্র মতে, আসাদ আগে থেকেই বিতর্কিত। দেড় বছর আগে হঠাৎ তার পরিধি বাড়ে। শুরু হয় ক্ষমতার অপব্যবহার এবং দাম্ভিকতা। বাড়িয়ে দেয় নারীদের সাধে অতিমাত্রায় মেলামেশা। হুমকি-ধামকি দিয়ে তার সাথে মিশতে বাধ্য করেন। কৌশলে ব্ল্যাকমেইল করে বান্ধবীদের বাধ্য করেন তার সাথে মাদক সেবন করতে।


সূত্র জানায়, আসাদ নিজেকে আওয়ামী লীগের বড় নেতা ও ব্যবসায়ী পরিচয় দিয়ে নারীদের সাথে ফেসবুক মেসেঞ্জারে চ্যাট, অডিও ও ভিডিও কল এবং সেলফোনে নানান রকমের কথা বলে রেকর্ড করে সেগুলো হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেন। এ পরিস্থিতিতে সম্মান এবং সংসারে অশান্তির ভয়ে অনেক নারী তার সাথে মেলামেশা করতে বাধ্য হন। সুযোগ বুঝে নারীদের বাসায় গিয়েও ফায়দা লুটেন এই ব্ল্যাকমেইলার। রাজি না হলেই শুরু হয় কৌশলে ব্ল্যাকমেইল। যারা প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে নিজেদের সামলে নেন তাদের সম্পর্কে আজেবাজে কথা বলে সৃষ্টি করেন পারিবারিক অশান্তি। বিতর্কিত আসাদ তার কৌশল কাজে লাগিয়ে গত বছরের এপ্রিল মাসে ময়মনসিংহ থেকে ঢাকা যাওয়ার সময় বাসে নতুন করে পরিচিত হন পূর্বে চেনা সুন্দরী নারীর সাথে। নতুন করে বড় নেতা ও ব্যবসায়ী পরিচয় দিয়ে তার সাথে সম্পর্ক গভীর করেন। বিভিন্ন প্রলোভনে তাকে কু-প্রস্তাব দেন। রাজি না হওয়ায় ওই নারীকে নানানভাবে হুমকি-ধামকি দিতে থাকেন। বাকিটা ইতিহাস।

  • সর্বশেষ - আলোচিত খবর