, ১৩ আশ্বিন ১৪২৮ অনলাইন সংস্করণ

করোনা পরিস্থিতিতে ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের বিশেষ অবদান মনে রাখবেন ময়মনসিংহবাসী

  শাহ মোহাম্মদ রনি

  প্রকাশ : 

করোনা পরিস্থিতিতে ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের বিশেষ অবদান মনে রাখবেন ময়মনসিংহবাসী

করোনা পরিস্থিতিতে ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের বিশেষ অবদান মনে রাখবেন সর্বস্তরের ময়মনসিংহবাসী। আক্রান্তের ঝুঁকি নিয়ে সার্বক্ষণিক কাজ করছেন মানবিক এসপি মোহাঃ আহমার উজ্জামান। অসহায় মানুষের মধ্যে খাদ্যপণ্য ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ করে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করছেন। এরই মধ্যে ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের সুনাম ছড়িয়ে পড়েছে পুলিশের প্রতিটি ইউনিটে। করোনা পরিস্থিতিতে মানবিকতার টানে মানুষের সেবায় এগিয়ে আসা অন্যান্য জেলা পুলিশের মধ্যে ময়মনসিংহ অন্যতম। ‘মুজিব বর্ষের অঙ্গীকার পুলিশ হবে জনতার’ এবং ‘পুলিশই জনতা, জনতাই পুলিশ’ ২টি জাতীয় স্লোগানকে বাস্তব রূপ দিয়েছে জেলা পুলিশ। করোনার ভয়ালথাবার আশঙ্কায় দেশ যখন টালমাটাল তখনই মানবিকতার টানে মানুষের জন্য এগিয়ে আসে ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ। অসহায় ও ক্ষুধার্ত মানুষের হাতে খাদ্যপণ্য তুলে দেওয়ার পাশাপাশি জনসচেতনতা ও স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সেবা দিয়ে যাচ্ছেন মোহাঃ আহমার উজ্জামান পিপিএম (সেবা)। করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত ও জনসচেতনা বাড়ানোর জন্য ব্যাপক প্রচারণা চালানো হচ্ছে ময়মনসিংহ নগরীসহ বিভিন্ন উপজেলায়। পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে জেলা পুলিশের কর্মকর্তারা জনসচেতনতার পাশাপাশি নাগরিকদের মাস্ক উপহার এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী প্রদান করছেন। এমন চিত্রই দেখা যাচ্ছে নগরীর বাস টার্মিনাল, মার্কেট, বাজার ও বিভিন্ন এলাকায়।


জানা যায়, ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে ১০-০৬-২০২০ বুধবার রাত পর্যন্ত নগরী ও বিভিন্ন উপজেলায় প্রায় ৭ হাজার অসহায় মানুষের মধ্যে খাদ্যপণ্য বিতরণ করা হয়। একই সময় ১ হাজার প্যাকেট রান্না করা সুস্বাদু খাবার বিতরণ করা হয় নগরীর ভাসমান, অসহায় ও রিকশা চালকদের মধ্যে। পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় ময়মনসিংহ নগরীতে ডিবির অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহ কামাল আকন্দ এবং বিভিন্ন উপজেলায় সংশ্লিষ্ট থানার অফিসার ইনচার্জরা (ওসি) খাদ্যপণ্য বিতরণ করেন। সূত্র মতে, এসপি থেকে শুরু করে কনস্টেবলদের নিজস্ব টাকায় অসহায়দের মধ্যে খাদ্যপণ্য বিতরণ করা হচ্ছে। গৃহায়ণ ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী ফুলপুর-তারাকান্দা আসনের এমপি শরীফ আহমেদ অসহায়দের মধ্যে বিতরণের জন্য জেলা পুলিশের কাছে ৭০০ ব্যাগ খাদ্যপণ্য পাঠান। এছাড়া বিভিন্ন সংস্থা, সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের পক্ষে রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যক্তিবর্গ স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী প্রদান করেন। পুলিশ সুপার মোহাঃ আহমার উজ্জামান পিপিএম (সেবা) বুধবার রাতে দৈনিক জাগ্রত বাংলা’কে বলেন, স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করার বিষয়ে জেলা পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। সরকারের নির্দেশনা বাস্তবায়নে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। জনসচেতনার পাশাপাশি আপদকালীন সময় পর্যন্ত পুলিশের মানবিক কার্যক্রম চালু থাকবে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।


সূত্র জানায়, করোনা পরিস্থিতিতে সরকার প্রথম দফায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করার পরই ময়মনসিংহ নগরীতে খেটে খাওয়া ও নিম্ন আয়ের মানুষ বেশি সমস্যায় পড়েন। সঞ্চিত অর্থ শেষ হওয়ার পর অসহায় হয়ে পড়েন নগরীর বিপুল সংখ্যক পরিবার। হাহাকার সৃষ্টি হওয়ার আগেই মানবিক এসপি মোহাঃ আহমার উজ্জামান অসহায়দের সহযোগিতায় এগিয়ে আসেন। তালিকা তৈরী করা হয় খেটে খাওয়া ও নিম্ন আয়ের মানুষের। পরে ৩১ মার্চ থেকে শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে খাদ্য সঙ্কটে থাকা অসহায়দের মধ্যে খাদ্যপণ্য বিতরণ শুরু করে জেলা পুলিশ। খাদ্যপণ্য পাওয়া অধিকাংশরাই নিম্ন আয়, হতদরিদ্র, কর্মহীন, অক্ষম, ভাসমান এবং অসহায় মানুষ। নগরীর একটি প্রতিষ্ঠানের অর্ধশত এতিমদের আশ্রয়স্থল খুঁজে বের করে তাদেরকে খাদ্যপণ্য দিয়ে ব্যাপক আলোচিত হন পুলিশ সুপার। তিনি নিজ হাতে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার উল্লেখযোগ্য পরিমাণের অসহায় মানুষের মধ্যে খাদ্যপণ্য বিতরণ করেন। জেলা পুলিশের ফেসবুক পেজ, এসপি এবং ওসি ডিবির ফেসবুক মেসেঞ্জারে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে না খেয়ে থাকার কথা জানান অনেকেই। পরে এসব অসহায় পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয় খাদ্যপণ্য। পুলিশ সুপার মোহাঃ আহমার উজ্জামানের নির্দেশনা ও অন্যান্য পুলিশ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে রাতে নগরীতে ভাসমান, অসহায় ও রিকশা চালকদের মধ্যে রান্না করা সুস্বাদু খাবার বিতরণ করেন ডিবির অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহ কামাল আকন্দ।


জানা যায়, পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়া প্রতিরোধে কাজ করে যাচ্ছে ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ। জনসচেতনতা বাড়ানোর জন্য ময়মনসিংহ নগরীসহ বিভিন্ন থানা এলাকায় পর্যাপ্ত পরিমাণের প্রচারপত্র বিতরণ ও মাইকিং করা হয়। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী জনসমাগম কমানো এবং শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতে পুলিশ সুপারের নির্দেশে ব্যাপক ভূমিকা পালন করছে ডিবি, কোতোয়ালিসহ বিভিন্ন থানা এবং ফাঁড়ি পুলিশ। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত নগরীতে ডিবির মোটরসাইকেল টহল থাকছে চোখে পড়ার মতো। বিনা প্রয়োজনে ব্যক্তিগত যানবাহন ও কাউকে চলাচল এবং অযথা ঘোরাফেরা করতে দিচ্ছে না ডিবি, থানা ও ফাঁড়ি পুলিশ। নিশ্চিত করা হয়েছে নগরীর বিপনী বিতান, বাণিজ্যিক, অফিস-আদালত এবং আবাসিক এলাকার নিরাপত্তা। বিভিন্ন পয়েন্টে বসানো হয়েছে চেকপোস্ট। করোনাকে পুঁজি করে কেউ যেন আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে না পারে সেদিকেও নজর রাখছে জেলা পুলিশ। বাড়ানো হয়েছে সিসি টিভি মনিটরিং। খাদ্যপণ্য বিতরণ ও স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করার বিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল বুধবার রাতে দৈনিক জাগ্রত বাংলা’কে বলেন, ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হচ্ছে ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ। অসহায় মানুষের হাতে খাদ্যপণ্য তুলে দেওয়ার পাশাপাশি জনসচেতনতা ও স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করার বিষয়টিও প্রশংসার দাবি রাখছে। তিনি বলেন, করোনার ভয়ালথাবার আশঙ্কায় সবাই যখন অস্থির ঠিক তখনই অসহায়দের জন্য এগিয়ে আসে ময়মনসিংহ জেলা পুলিশ।


সূত্র জানায়, পুলিশ সুপার মোহাঃ আহমার উজ্জামান পিপিএম (সেবা) গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর ময়মনসিংহে যোগদান করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রাণিবিদ্যায় এমএসসি শেষ করে ২১ তম বিসিএসে উত্তীর্ণ হয়ে তিনি পুলিশ বাহিনীতে যোগ দেন। ময়মনসিংহে যোগদানের পর তিনি মাদক এবং অপরাধ নির্মূলে বিশেষ ভূমিকা রাখতে শুরু করেন। করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়া প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়ানো এবং অসহায়দের মধ্যে খাদ্যপণ্য বিতরণ করে তিনি মানবিক মানুষ হিসেবে পরিচিতি পান। ময়মনসিংহ নগরী এবং বিভিন্ন উপজেলায় ছড়িয়ে পড়ে আপদকালীন সময়ে তার যতসব সহযোগিতার কথা। সূত্র মতে, পুলিশ সুপারের নির্দেশনা অনুযায়ী অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি, পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) মোঃ হুমায়ুন কবির, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মোহাম্মদ শাহজাহান মিয়া, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) জয়িতা শিল্পী, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোঃ আল আমীন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর দপ্তর) মোঃ হাফিজুর রহমান, জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহ কামাল আকন্দ, ট্রাফিক ইন্সপেক্টর সৈয়দ মাহবুবুর রহমান ও কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ ফিরোজ তালুকদার প্রমুখ জেলা পুলিশের খাদ্যপণ্য বিতরণ, জনসচেতনা বাড়ানো, স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত এবং স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী প্রদান করছেন।

সম্পাদনায়: নাসিমুল গনি ইশরাক

  • সর্বশেষ - জাতীয়