ময়মনসিংহ, , ৭ বৈশাখ ১৪২৮ অনলাইন সংস্করণ

করোনার সংক্রমণ-উপসর্গ নিয়ে মারা গেলেন যে ৩৩ চিকিৎসক

  স্বাস্থ্য কথা

  প্রকাশ : 

করোনার সংক্রমণ-উপসর্গ নিয়ে মারা গেলেন যে ৩৩ চিকিৎসক

কাউকেই রেহাই দিচ্ছে না করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) ভয়াল ছোবল। এ ভাইরাসের সংক্রমণ বা উপসর্গ নিয়ে প্রতিদিনই হাসপাতালগুলোতে ভিড় বাড়ছে। সব বয়সী, সব শ্রেণির মানুষ ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হচ্ছেন, হারাচ্ছেন প্রাণ। করোনার বিরুদ্ধে ফ্রন্টলাইন যোদ্ধা হিসেবে পরিচিত চিকিৎসক, নার্সসহ স্বাস্থ্যকর্মীরাও আক্রান্ত হচ্ছেন উদ্বেগজনক হারে।

বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে, ইতোমধ্যে করোনাভাইরাসে আক্তান্ত হয়েছেন তিন শতাধিক চিকিৎসা, নার্স সহ স্বাস্থীকর্মী ।  ৩৩ জন চিকিৎসক মারা গেছেন করোনায় আক্রান্ত হয়ে বা এর উপসর্গ নিয়ে। এদের মধ্যে যেমন জ্যেষ্ঠ ও অভিজ্ঞ চিকিৎসক রয়েছেন, তেমনি তরুণ চিকিৎসকও রয়েছেন।

বিএমএ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে মারা যাওয়া ৩৩ চিকিৎসক হলেন—

১. সিলেটের এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডা. মঈন উদ্দীন।করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ১৫ এপ্রিল রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।

২. রাজধানীর আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হেমাটোলজিস্ট অধ্যাপক কর্নেল (অব.) ডা. মো. মনিরুজ্জামান। গত ৩ মে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে মারা যান।

৩. রাজধানীর নদার্ন মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ এবং ফরেনসিক মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. আনিসুর রহমান। গত ১১ জুন করোনার উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।

৪. ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের একাদশ ব্যাচের শিক্ষার্থী ও রেডিওলজিস্ট মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) ডা. আবুল মোকারিম মো. মোহসিন উদ্দিন। গত ১২ মে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।

৫. ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের ত্রয়োদশ ব্যাচের শিক্ষার্থী ডা. মো. আজিজুর রহমান রাজু। গত ১৮ মে রাজধানীর মুগদা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।

৬. স্বাস্থ্য অধিদফতরের অবসরপ্রাপ্ত সহকারী পরিচালক ডা. এম এ মতিন। করোনার উপসর্গ নিয়ে সিলেট শামসুদ্দিন আহমেদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২২ মে মারা যান।

৭. ডা. কাজী দিলরুবা। করোনায় আক্রান্ত হয়ে গত ২২ মে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

৮. চট্টগ্রাম মা ও শিশু হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. এস এম জাফর হোসাইন। গত ২৫ মে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।

৯. অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র কনসালট্যান্ট (গাইনি) ডা. আমিনা খান। করোনা আক্রান্ত হয়ে গত ২৬ মে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।

১০. অ্যানেস্থেসিয়া ও আইসিইউ বিশেষজ্ঞ ডা. আব্দুর রহমান। করোনার উপসর্গ নিয়ে গত ২৬ মে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।

১১. বরিশালের শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজের অর্থোপেডিক বিভাগের সাবেক বিভাগীয় প্রধান ডা. মো. মোশাররফ হোসেন। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২৭ মে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।

১২. শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী অবসরপ্রাপ্ত ক্যাপ্টেন (আর্মি মেডিকেল কোর) ডা. এ এফ এম সাইদুল ইসলাম। করোনায় আক্রান্ত হয়ে গত ২৮ মে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে মারা যান।

১৩. সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের চতুর্দশ ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থী ও বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ ডা. ওয়াহিদুজ্জামান আকন্দ বাবলু। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ৩১ মে মারা যান।

doctor

১৪. ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইউরোলজি বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত কনসালট্যান্ট ডা. মনজুর রশিদ চৌধুরী। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ২ জুন রাজধানীর আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।

১৫. চট্টগ্রাম মেরিন সিটি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ডা. এ এস এম এহসানুল করিম। করোনায় আক্রান্ত হয়ে গত ৩ জুন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

১৬. রাজধানীর ইব্রাহিম মেডিকেল কলেজের মাইক্রোবিয়াল বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. মহিউদ্দিন। গত ৩ জুন রাজধানীর হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।

১৭. স্বাস্থ্য অধিদফতরের অবসরপ্রাপ্ত ইভালুয়েশন অফিসার ডা. কে এম ওয়াহিদুল হক। করোনায় আক্রান্ত হয়ে গত ৩ জুন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান।

১৮. ফরেনসিক মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. হাবিবুর রহমান। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ৪ জুন প্রাইমেট জেনারেল হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন।

১৯. চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসা কর্মকর্তা (ইএমও) ডা. মুহিদুল হাসান। করোনায় আক্রান্ত হয়ে গত ৪ জুন চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।

২০. ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাবেক অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান (মেডিসিন) অধ্যাপক ডা. এন আই খান। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ৪ জুন মারা যান।

২১. বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইউরোলজি বিভাগের সাবেক বিভাগীয় চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এস এ এম গোলাম কিবরিয়া। করোনা আক্রান্ত হয়ে গত ৪ জুন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।

২২. রংপুর মেডিকেল কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী ডা. এহসানুল কবির চৌধুরী। রাজধানীর মুগদা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ৪ জুন মৃত্যুবরণ করেন।

doctor

২৩. অবসরপ্রাপ্ত সিনিয়র মেডিকেল অফিসার (সাভার ইপিজেড) ডা. আবুল কাশেম খান। করোনার উপসর্গ নিয়ে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ৬ জুন মৃত্যুবরণ করেন।

২৪. রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ও পরিচালক (মেডিকেল সার্ভিসেস) ডা. মির্জা নাজিম উদ্দিন। করোনায় আক্রান্ত হয়ে গত ৭ জুন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

২৫. ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী ডা. রাজিয়া সুলতানা। রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ৮ জুন মারা যান।

২৬. ময়মনসিংহের ল্যাবএইড হাসপাতালের কনসালট্যান্ট (অ্যানেস্থেসিয়া) ডা. সাখাওয়াত হোসেন। করোনায় আক্রান্ত হয়ে গত ৮ জুন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

২৭. বরিশালের রাহাত আনোয়ার হাসপাতালের চেয়ারম্যান ডা. আনোয়ার হোসেন। করোনা আক্রান্ত হয়ে গত ৯ জুন রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।

২৮. রাজধানীর ইমপালস হাসপাতালের আইসিইউ ইনচার্জ ও সিনিয়র কনসালট্যান্ট অধ্যাপক ডা. জলিলুর রহমান। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ৯ জুন ইমপালস হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

২৯. রাজধানীর জেড এইচ শিকদার ওমেন্স মেডিকেল কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী ডা. তানজিলা রহমান। গত ১০ জুন ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।

৩০. বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের পেডিয়াট্রিক সার্জারি বিভাগের অধ্যাপক ডা. গাজী জহিরুল হাসান। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১২ জুন মৃত্যুবরণ করেন।

৩১. জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক (কার্ডিওলজি বিভাগ) ডা. মাহমুদ মনোয়ার। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে গত ১২ জুন মৃত্যুবরণ করেন।

৩২. রাজধানীর জেড এইচ শিকদার ওমেন্স মেডিকেল কলেজের চক্ষু বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. এ কে এম ফজলুল হক। করোনাভাইরাস আক্রান্ত হয়ে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১২ জুন মারা যান।

৩৩. ঢাকা মেডিকেল কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী ডা. আরিফ হাসান। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১২ জুন মারা যান।

  • সর্বশেষ - হেলথ টিপস