ময়মনসিংহ, , ২১ শ্রাবণ ১৪২৭ অনলাইন সংস্করণ

লকডাউন নিয়ে বিভ্রান্তি

  নিজস্ব প্রতিবেদক

  প্রকাশ : 

লকডাউন নিয়ে বিভ্রান্তি

লকডাউনে চলাফেরা করছে রিক্সা। ছবি: সংগৃহীত

কবে থেকে কার্যকর জানে না কেউ ম্যাপিং চূড়ান্ত না করেই ছুটি ঘোষণা লকডাউন ঘোষণায় বাজারে প্রভাব ছোটো ছোটো এলাকা লকডাউন হবে :জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ৭২ ঘণ্টা সময় দিতে হবে :মেয়র আতিকুল


করোনা মোকাবিলায় ঢাকা ও চট্টগ্রামের কয়েকটি এলাকাকে জোন ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু এই এলাকাগুলোসহ সারাদেশের ম্যাপিং এখনো চূড়ান্ত করা হয়নি। কিন্তু এর মধ্যেই গতকাল সোমবার রেড জোন এলাকায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে কিছুটা বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। কোন এলাকায় কবে থেকে রেড জোন বাস্তবায়ন করা হবে, সেটাও মানুষের কাছে পরিষ্কার নয়। যেকোনো সময় গৃহবন্দি হয়ে পড়তে পারেন এমন আশঙ্কায় বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী কিনতে মানুষ হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন। এর ফলে অসাধু ব্যবসায়ীরা অনেক পণ্যের দাম ইতিমধ্যে বাড়িয়ে দিয়েছেন।


তবে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন গতকাল  বলেন, ‘এখন মূলত প্রস্তুতি চূড়ান্ত করা হয়েছে। যে এলাকায় যখন রেড জোন কার্যকর হবে, তার অন্তত তিন দিন আগে ঐ এলাকায় জানিয়ে দেওয়া হবে। ঐ এলাকায় পৃথক কমিটিও থাকবে। ঢাকা ও চট্টগ্রামের যে থানাগুলোর নাম ইতিমধ্যে জানানো হয়েছে, সেই থানাগুলোর পুরো এলাকা ধরে লকডাউন হবে না। ছোটো ছোটো এলাকা ভাগ করে লকডাউন করা হবে। সেক্ষেত্রে এক ওয়ার্ডকে হয়তো ৮ থেকে ১০টি ভাগ করা হবে। তার একটি বা দুটি এলাকা লকডাউন হবে। সর্বশেষ ১৪ দিনের তথ্য নিয়ে যেখানে বেশি সংক্রমণ, সেখানেই লকডাউন করা হবে।’


জোনভিত্তিক লকডাউন নিয়েও রয়েছে নানা ধরনের অস্পষ্টতা। গতকাল দুপুরে রেড জোন ও ইয়লো জোনে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হলেও সন্ধ্যায় প্রজ্ঞাপন সংশোধন করে শুধু রেড জোনে ছুটির কথা বলা হয়েছে। সাধারণ মানুষ পত্রিকা অফিসে ফোন করে জানতে চাইছেন তার এলাকা রেড জোনে পড়েছে কি না। অনেকেই মনে করছেন, পত্রিকায় যে রেড জোনের তালিকা এসেছে, তাদের সাধারণ ছুটি ইতিমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। ঐ এলাকাগুলোতে যে অফিস রয়েছে, সেগুলোও চলবে কি না, তা-ও পরিষ্কার নয় তাদের কাছে। পাশাপাশি লকডাউনের মধ্যে কারা বের হতে পারবেন আর কারা পারবেন না, সেটাও পরিষ্কার নয়। বর্তমানে পূর্ব রাজাবাজারে লকডাউন চলছে। সেখানে স্বাস্থ্যকর্মী ও সাংবাদিক ছাড়া কাউকে বের হতে দেওয়া হচ্ছে না।


ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেছেন, উত্তর সিটি করপোরেশনের যে ১৭টি এলাকা রেড জোনে পড়েছে, এখন তার পুরো ম্যাপিংটা দরকার। এটা পেলে দুই থেকে সর্বোচ্চ তিন দিনের মধ্যে আমরা এটা বাস্তবায়ন করতে পারব। কারণ রেড জোন ঘোষিত এলাকাগুলোতে অনেক ধরনের সেবা নিশ্চিত করতে হবে। দরিদ্র মানুষের খাওয়ার ব্যবস্থাও করতে হবে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবা, তথ্যপ্রযুক্তি, স্বেচ্ছাসেবকদের তালিকা তৈরি, করোনা পরীক্ষার বুথসহ অনেক ধরনের আয়োজন সেখানে করতে হবে। গতকাল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, রেড জোনে সাধারণ ছুটি থাকবে। ১৬ থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত অফিস, গণপরিবহনসহ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড কীভাবে পরিচালিত হবে এবং কোন ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে, সে বিষয়ে এই নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। এতে বলা হয়, রেড জোনে অবস্থিত সামরিক ও অসামরিক, সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়িত্বশাসিত, আধা স্বায়িত্বশাসিত ও বেসরকারি দপ্তরসমূহ এবং রেড জোনে বসবাসকারী বর্ণিত দপ্তরের কর্মকর্তারা সাধারণ ছুটির আওতায় থাকবেন।


মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের আদেশে বলা হয়, অনুমোদিত অঞ্চলে সীমিত পরিসরে নির্দিষ্টসংখ্যক যাত্রী নিয়ে গণপরিবহন, যাত্রীবাহী নৌযান, রেল ও বিমান চলাচল করতে পারবে। তবে সর্বাবস্থায় মাস্ক পরিধানসহ স্বাস্থ্য বিভাগ কর্তৃৃক জারি করা নির্দেশনা কঠোরভাবে মেনে চলা নিশ্চিত করতে হবে।


ইতিমধ্যে করোনা প্রতিরোধে গঠিত জাতীয় টেকনিক্যাল কমিটি ঢাকায় ৪৫টি এলাকাকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বা রেড জোন হিসেবে চিহ্নিত করে তা লকডাউনের সুপারিশ করেছে। এর মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২৮টি এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ১৭টি এলাকা রয়েছে। চট্টগ্রামের ১০টি এলাকাও আছে।


জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী বলেন, কোন এলাকায় কবে থেকে লকডাউন শুরু হবে, সেটা আগেই জানিয়ে দেওয়া হবে। এটা নিয়ে প্রজ্ঞাপনও জারি করা হবে। তখন ঐ এলাকার মধ্যে যারা থাকবেন বা যেসব অফিস থাকবে তাদের ক্ষেত্রে এই ছুটি প্রযোজ্য হবে। এটা নিয়ে ভুল বোঝাবুঝির কিছু নেই। কারণ আগে প্রস্তুতি চূড়ান্ত করতে হবে। তা না হলে এটা বাস্তবায়ন করা যাবে না। এখন একযোগেও সব এলাকা লকডাউন হবে না। এক দিনে হয়তো তিনটি বা চারটি এলাকা লকডাউন হতে পারে। সেক্ষেত্রে এলাকার লোকজন আগে থেকেই জানবেন। খুবই ছোটো ছোটো এলাকা লকডাউন করা হবে, যাতে সেটা বাস্তবায়ন করা যায়। উদাহরণ হিসেবে তিনি পূর্ব রাজাবাজার ও টোলারবাগের কথা বলেন। অন্যগুলোও একইভাবে হবে। এদিকে রেড জোন ঘোষণার পর থেকেই নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর বাজারে প্রভাব পড়েছে। কারণ বলা হচ্ছে, রেড জোনের বাসিন্দাদের কোনোভাবেই বের হতে দেওয়া হবে না। ফলে অনেকেই মাসের বাজার একসঙ্গে করে নিচ্ছেন। এই সুযোগে অনেক এলাকায় নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম ব্যবসায়ীরা বাড়িয়ে দিয়েছেন।


মিরপুরের শেওড়াপাড়ার বাসিন্দা আব্দুল লতিফ বলেন, ‘আমরা তো মিরপুর থানার মধ্যে। অর্থাত্ আমরা রেড জোনে পড়েছি বলে শুনলাম। কিন্তু পুরো মিরপুর থানা, না কোন কোন এলাকা, সেটা তো নিশ্চিত হতে পারছি না। এর মধ্যে ছুটির কথাও শুনলাম। এখন আমি কী অফিস করব? অফিসে যাব না ছুটি, তা-ও তো বুঝছি না।’


গত ৯ জুন দিবাগত রাত ১২টা থেকে রাজধানীর পূর্ব রাজাবাজার এলাকাকে পরীক্ষামূলকভাবে ‘রেড জোন’ হিসেবে ঘোষণা করে সেখানে লকডাউন বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। গতকাল ছিল লকডাউনের ষষ্ঠ দিন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্বেচ্ছাসেবকেরা কঠোরভাবে লকডাউন পালনের চেষ্টা করলেও মানুষের মধ্যে লকডাউন ভাঙার প্রবণতাও আছে। প্রাথমিকভাবে ১৪ দিনের জন্য এই লকডাউন কার্যকর থাকবে সেখানে।

  • সর্বশেষ - সারাদেশ