ময়মনসিংহ, , ২২ শ্রাবণ ১৪২৭ অনলাইন সংস্করণ

বানের পানিতে ভেসে গেল ১৩৪ কোটি টাকার কাজ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

  প্রকাশ : 

বানের পানিতে ভেসে গেল ১৩৪ কোটি টাকার কাজ

টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার ধলেশ্বরী নদীর ঘোনাপাড়া পয়েন্টে ১৩৪ কোটি টাকা ব্যয়ে সদ্য নির্মিত স্থায়ী প্রতিরক্ষার কাজটির তিনটি স্থান ধসে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। শনিবার সকালে বাঁধটি ভেঙে যায়। তবে পানি না কমলে এ কাজের সংস্কার সম্ভব না বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। বর্তমানে যমুনা ২৩ সেন্টিমিটার, ঝিনাই ২৯ সেন্টিমিটার আর ধলেশ্বরী ৮৭ সেন্টিমিটার বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা যায়, ১৩৪ কোটি টাকা ব্যয়ে গত তিনমাস আগে দেলদুয়ার উপজেলার এলাসিন ইউনিয়নের বারপাখিয়া থেকে নাগরপুর উপজেলার সহবতপুর ইউনিয়নের ঘোনাপাড়া পর্যন্ত ধলেশ্বরী নদীর ২.১৩০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যেরে একটি স্থায়ী প্রতিরক্ষা কাজ করা হয়। এটি মূলত ঘোনাপাড়াসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকাকে ধলেশ্বরী নদীর ভাঙন থেকে রক্ষা করার জন্য নির্মিত হয়।

স্থানীয়দের অভিযোগ, মাত্র তিনমাস আগে ওই স্থায়ী প্রতিরক্ষার কাজটি হলেও তা এলাকাবাসীর কোনো উপকারে আসলো না। গত কয়েক দিনে ধলেশ্বরী নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় শনিবার সকালে স্থায়ী প্রতিরক্ষা কাজের কয়েকটি স্থানের ব্লক সরে গিয়ে বেশ কিছু নিম্নাঞ্চল বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। এতে প্লাবিত চরাঞ্চলের তিল, পাটসহ বিভিন্ন ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। এর ফলে নাগরপুরের হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

Tangail-Badh-Destroy-2

পানিবন্দি এসব গ্রামবাসীর অভিযোগ, নদীর ভাঙন ও প্লাবন থেকে বাঁচতে স্থায়ী প্রতিরক্ষার কাজটি করা হলেও তা আমাদের কোন কাজেই আসলো না। এদিকে হঠাৎ করে পানি ঢুকে পড়ায় গবাদি পশু ও ফসল নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন এসব পানিবন্দি মানুষ।

উপজেলার সহবতপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান তোফায়েল আহম্মেদ মোল্লা বলেন, ইউনিয়নের ঘোনাপাড়া এলাকার ধলেশ্বরী নদীর স্থায়ী প্রতিরক্ষা কাজের তিনটি পয়েন্টের ব্লক সরে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। তবে এখন ওই নদীর স্থায়ী প্রতিরক্ষা ঘোনাপাড়া পয়েন্টের মেরামত কাজ শুরু করেনি পানি উন্নয়ন বোর্ড। এতে চরম ভোগান্তির মধ্যে রয়েছে গ্রামগুলোর বন্যা কবলিত মানুষ।

Tangail-Badh-Destroy-2

সত্যতা নিশ্চিত করে টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টির কারণে বৃদ্ধি পেয়েছে জেলার বিভিন্ন নদীর পানি। নদীর এই পানি বৃদ্ধির ফলে ধলেশ্বরী নদীতে মাত্র তিনমাস আগে নির্মিত ১৩৪ কোটি টাকা ব্যয়ে বারপাখিয়া থেকে ঘোনাপাড়া পর্যন্ত স্থায়ী প্রতিরক্ষা কাজে তিনটি পয়েন্টের প্রায় ৭০ মিটার জায়গার নিচের অংশের ব্লকগুলো সরে গেছে। এছাড়াও নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বাঁধের উপর দিয়ে লোকালয়ে ঢুকে পড়েছে।

এছাড়াও ওই স্থানের মাটির তৈরি আরো একটি বাঁধ ভেঙে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। তবে পানি না কমলে এর স্থায়ী মেরামত সম্ভব না। আপদকালীন সময়ে জন্য ও মানুষের আতঙ্ক কমাতে ভাঙন এলাকায় কিছু জিও ব্যাগ ফেলার উদ্যোগ নিয়েছি। গত ২৪ ঘণ্টার তথ্যে ধলেশ্বরী বিপৎসীমার ৮৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়াও যমুনা ২৩ সেন্টিমিটার আর ঝিনাই বিপৎসীমার ২৯ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

  • সর্বশেষ - সারাদেশ