ময়মনসিংহ, , ২৫ শ্রাবণ ১৪২৭ অনলাইন সংস্করণ

বাধ্যতামূলক বিষয়ভিত্তিক অনলাইন শিক্ষা চলবে বিইউপিতে

  নিজস্ব প্রতিবেদক

  প্রকাশ : 

বাধ্যতামূলক বিষয়ভিত্তিক অনলাইন শিক্ষা চলবে বিইউপিতে

করোনা মহামারি শেষে স্বাভাবিক শিক্ষাকার্যক্রম শুরুর পরও বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস্ (বিইউপি) বছরব্যাপী অনলাইন পাঠদান কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রতি সেমিস্টারে শিক্ষার্থীদের একটি বিষয়ের ওপর অনলাইনে ক্লাস নেয়া হবে। শিক্ষার্থীদের আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে অনলাইন পাঠদানের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা হবে বলে জানিয়েছেন বিইউপি’র ফ্যাকাল্টি অব বিজনেস স্টাডিজের (এফবিএস) ডিন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ ওয়াসিম-উল হক।

মোহাম্মদ ওয়াসিম-উল হক ১৯৭০ সালে সম্ভ্রান্ত এক মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৯১ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পদাতিক কোরে কমিশন লাভ করেন। দেশে ও বিদেশে বিভিন্ন পেশাদারি কোর্স সম্পন্ন করেন। তিনি ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজ, বাংলাদেশ এবং ন্যাশনাল ডিফেন্স ইউনিভার্সিটি, চায়না থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন।


jagonews24

এছাড়া তিনি ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজ, বাংলাদেশের অ্যালামনাই। বিইউপিতে যোগ দেয়ার আগে বগুড়ার ব্রিগেড কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে বিইউপি’র ফ্যাকাল্টি অব বিজনেস স্টাডিজের (এফবিএস) ডিন হিসেবে দায়িত্বপালন করছেন। জাগো নিউজের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে দেশের করোনা পরিস্থিতিতে অনলাইন শিক্ষাকার্যক্রমের গুরুত্ব এবং বিইউপি’র নেয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মুরাদ হুসাইন

প্রশ্ন: সম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) থেকে পাবলিক ইউনিভার্সিটিগুলোতে অনলাইনে শিক্ষাকার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এটি বাস্তবায়ন কতটা জরুরি ছিল বলে আপনি মনে করেন?

মোহাম্মদ ওয়াসিম-উল হক : বিশ্ববিদ্যালয়ে সরকারিভাবে অনলাইন শিক্ষাকার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশনার পর আমাদের উপাচার্য মহোদয়ের মেজর জেনারেল আতাউর হাকিম সারওয়ার হাসান নির্দেশে করোনা পরিস্থিতির শুরুতে বিইউপিতে এ কার্যক্রম শুরু করা হয়। আমাদের ইউনিভার্সিটির নিজস্ব একটি ডিজিটাল প্লাটফর্ম রয়েছে, সেটির সাহায্যে রাষ্ট্রীয় ডিজিটাল প্লাটফর্মের মাধ্যমে আমরা গত ১৬ মার্চের পর থেকে অনলাইনে শিক্ষাকার্যক্রম শুরু করি।

jagonews24

শুরুতে নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হই। এর মধ্যে একটি বড় প্রতিবন্ধকতা ছিল অর্থনৈতিক সমস্যা, বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের সেই সাপোর্ট দেয়া হয়। অনলাইন শিক্ষাকার্যক্রম বর্তমান যুগে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। যদিও এখন পর্যন্ত শিক্ষক-শিক্ষার্থীর উপস্থিতি এবং ক্লাসরুমের কোনো বিকল্প নেই, তারপরও বিকল্প হিসেবে অনলাইন শিক্ষাকার্যক্রমকে ধরা হচ্ছে। আমরা এটি শুরু করেছি এবং এটি আরও এগিয়ে নেয়া হবে। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও প্রতিটি সেমিস্টারের একটি বিষয়ের ক্লাস অনলাইনে নেয়া হবে। প্রতিটি সেমিস্টারে বাধ্যতামূলক একটি প্রোগ্রামে তত্ত্বীয় একটি বিষয়ের কোর্স অনলাইনে নেয়া হবে। বিবিএ চার বছরের কোর্স, এখানে চার-পাঁচটি বিষয় অনলাইনে নেয়া হবে।

প্রশ্ন : বিইউপির ফ্যাকাল্টি অব বিজনেস স্টাডিজ (এফবিএস) অত্যন্ত সমৃদ্ধ ও জনপ্রিয়, এমনটি বলা হয়। এর পেছনের কারণ সম্পর্কে যদি বলতেন…

মোহাম্মদ ওয়াসিম-উল হক : একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বয়স বছর দিয়ে বিবেচনা করা হয় না, যুগ দিয়ে বিবেচনা করা হয়। সে হিসেবে বিইউপি মাত্র ১২ বছরের একটি শিশু। আমাদের শিক্ষকরা অনেকেই নতুন। বিইউপি প্রাথমিকভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল বাংলাদেশের সব সামরিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে। এরপর ২০০১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে মাস্টার্স অব বিজনেস স্টাডিজ (এমবিএ) প্রোগ্রাম চালু হয়।

jagonews24

২০০৮ সালে বিইউপি ২৯তম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায়। এরপর ক্রমান্বয়ে বিবিএ ও এমবিএ প্রোগ্রাম চালু হয়। ২০১৬ সালে ম্যানেজমেন্ট, মার্কেটিং, অ্যাকাউন্টিং, ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং এবং বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন- এই পাঁচটি ফ্যাকাল্টির কার্যক্রম শুরু হয়। সেই হিসেবে বিবিএ ফ্যাকাল্টি একটু পুরোনো। ইতোমধ্যে কয়েকটি ব্যাচ দেশে-বিদেশে তাদের যোগ্যতার প্রমাণ রেখেছে। নিজেদের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা দিয়ে মার্কেটে জায়গা করে নিয়েছে।

শুরু থেকে যারাই এ বিভাগে দায়িত্ব পালন করেছেন তারা সবাই যুগোপযোগী ও নিয়মানুবর্তিতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। বিশ্বায়নের যুগে সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থায় বিজনেস স্ট্রাটেজি, বিজনেস পারসেপশন ও মার্কেটিং স্ট্রাটেজি দ্রুত পরিবর্তন হচ্ছে। তার আলোকে আমাদের এফবিএস প্রোগ্রামের সিলেবাস তৈরি হয়। আমাদের ফ্যাকাল্টির সঙ্গে দেশের বড় বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের যুক্ত করেছি। তারা যেভাবে চাচ্ছেন, আমরা সেভাবে শিক্ষার্থীদের গড়ে তোলার চেষ্টা করছি। ফলে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করে শিক্ষার্থীরা সহজেই নিজের যোগ্য স্থান দখল করে নিতে সক্ষম হচ্ছেন।

jagonews24

প্রশ্ন: করোনাকালীন শিক্ষার্থীদের মনোজগতে এক ধরনের প্রভাব পড়ছে, এ ব্যাপারে আপনাদের বিশেষ কোনো পদক্ষেপ আছে কি-না?

মোহাম্মদ ওয়াসিম-উল হক : ডিজিটাল প্রযুক্তির এই যুগে সঠিক ও ভুল— উভয় তথ্যই খুব সহজে আমরা পেয়ে থাকি। ভুল তথ্য শিক্ষার্থীদের মনোজগতে বিরূপ প্রভাব ফেলার সম্ভাবনা তৈরি করে। ভুল তথ্যের বিরূপ প্রভাব থেকে শিক্ষার্থীদের রক্ষার্থে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে সহশিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। এটি তাদের জ্ঞানবিকাশে বিশেষ অবদান রাখে। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের সব বিভাগে নিজস্ব ক্লাব রয়েছে। এসব ক্লাবের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের সহশিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হয়। করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও অনলাইনে আমরা বিভিন্ন ধরনের সহশিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছি। মনস্তাত্ত্বিক শিক্ষা, নানা ধরনের প্রতিযোগিতার আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কিছুটা ব্যস্ততা রাখার চেষ্টা করা, একই সঙ্গে তাদের প্রতিভা বিকাশে ভবিষ্যতে এই প্লাটফর্মগুলোকে আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা চলছে।

প্রশ্ন : করোনার শুরু থেকেই অনলাইন শিক্ষাকার্যক্রম পরিচালনার কথা বলছিলেন। এক্ষেত্রে আর কোনো প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হয়েছেন কি-না, হয়ে থাকলে কীভাবে তা উত্তরণ করেছেন বা করছেন?

মোহাম্মদ ওয়াসিম-উল হক : অনলাইন শিক্ষাকার্যক্রমের প্রধান ভিত্তি হলো যথোপযুক্ত নেটওয়ার্ক সংযোগ, যেটা রাষ্ট্র নিশ্চিত করে। এক্ষেত্রে দেশের বিভিন্ন স্থানে নেটওয়ার্ক সমস্যা তো রয়েছে। এ কারণে অনলাইন শিক্ষাকার্যক্রমে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে। দ্রুত সময়ে এর সমাধান প্রয়োজন। শতভাগ শিক্ষার্থীকে নেটওয়ার্কের আওতায় আনতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে ইন্টারনেট প্যাকেজের সুবিধা দেয়া প্রয়োজন। বিইউপি সেই সুবিধা নিশ্চিত করেছে।

jagonews24

বর্তমানে জুম, গুগল, ফেসবুকসহ বিভিন্ন অ্যাপসের মাধ্যমে আমাদের ক্লাস নিতে হচ্ছে। এক্ষেত্রে আমাদের সক্ষমতা বাড়ানো প্রয়োজন অর্থাৎ নিজেদের অ্যাপ তৈরি করতে হবে। যদিও এটি সময়সাপেক্ষ এবং অর্থব্যয়ের বিষয়, তবুও আমাদের ধারণক্ষমতা, স্থায়িত্ব ও সুরক্ষা নিশ্চিতে এ বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে।

বর্তমানে আমরা ধার করা অ্যাপে অনলাইন ক্লাস নিচ্ছি। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হবে পরীক্ষার আয়োজন নিয়ে। ক্লাস নিলেও আমরা কিন্তু পরীক্ষা নিশ্চিত করতে পারছি না। সে সক্ষমতা আমাদের অর্জন করতে হবে। তবেই এ বিষয়ে আমাদের সফলতা আসবে।

আমরা সেই সক্ষমতা অর্জনের চেষ্টা করছি। বিইউপিতে এ বিষয়ে আলাদা একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা অক্সফোর্ড, ক্যামব্রিজ, হার্ভার্ডসহ বিশ্বের বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্ল্যাটফর্মগুলো মনিটরিং করছে। সেই আলোকে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যাপসহ অন্যান্য অবকাঠামো তৈরি করা হবে।

jagonews24

প্রশ্ন : বিইউপিকে একটি স্বতন্ত্র পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে মনে করা হচ্ছে। এর পেছনের কারণ কী?

মোহাম্মদ ওয়াসিম-উল হক : বিইউপি ২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়া একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিইউপি’র বিশেষ কোনো পার্থক্য নেই। তবে একটি পার্থক্য রয়েছে, সেটি হলো- আমাদের নির্বাহী ব্যবস্থাপনাটা সামরিক বাহিনী দ্বারা পরিচালিত। এজন্য এটি সামরিক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট বা ক্যাডেট কলেজের মতো প্রতিষ্ঠান বলা যায়।

বিইউপি যদিও তৈরি হয়েছিল প্রফেশনালদের জন্য, পরে এটিকে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে রূপ দেয়া হয়েছে। এখানে সামরিক বাহিনীর কিছু কর্মকর্তা নির্বাহী ক্ষমতায় রয়েছেন। আমরা যে শিক্ষা দিচ্ছি তা শুধু চাকরির ক্ষেত্রে একটি অবস্থান তৈরিতে ডিগ্রি দেয়া নয়, ব্যবহারিক জীবনেও সেটি কাজে লাগে। আমাদের একটি বড় সমস্যা ছিল অবকাঠামোর। সেটিও থাকছে না। আগামী এক বছরের মধ্যে ১৫ তলাবিশিষ্ট একটি নিজস্ব টাওয়ার তৈরি হবে। তিন বছরের মধ্যে চারটি ফ্যাকাল্টির চারটি পৃথক টাওয়ার হবে। একই সঙ্গে গবেষণা কার্যক্রমও আমরা এগিয়ে নিয়ে যাব।

  • সর্বশেষ - সাক্ষাতকার