ময়মনসিংহ, , ২৭ শ্রাবণ ১৪২৭ অনলাইন সংস্করণ

পাহাড়ি ঢলে প্লাবিত বহু গ্রাম, গবাদিপশু নিয়ে বিপাকে খামারিরা

পাহাড়ি ঢলে প্লাবিত বহু গ্রাম, গবাদিপশু নিয়ে বিপাকে খামারিরা
ফাইল ছবি

ময়মনসিংহের সীমান্তবর্তী উপজেলাটির নাম ধোবাউড়া। এই উপজেলার সবচেয়ে নিচু এলাকা পোড়াকান্দুলিয়া ইউনিয়ন। একটু বৃষ্টি হলেই পানি জমে বন্যার সৃষ্টি হয়। ফলে কয়েকদিন একটানা বৃষ্টি হলেই এখানকার নিচু এলাকার মানুষের দুর্ভোগের সীমা থাকে না। অন্যদিকে যারা হাঁস, মুরগিসহ গবাদিপশু পালন করে জীবিকা নির্বাহ করেন তাদের কষ্টটা সবচেয়ে বেশি।

এ বছর জ্যৈষ্ঠমাসেই ভারি বৃষ্টিপাত এবং পাহাড়ি ঢলে পোড়াকান্দুলিয়া ইউনিয়নের বহু গ্রাম পানিতে প্লাবিত হয়েছে। এ অঞ্চলের প্লাবিত হওয়া গ্রামগুলো হলও- পোড়াকান্দুলিয়া, রায়কান্দুলিয়া, হরিণধরা, বহরভিটা, বেতগাছিয়া, কালিনগর, গবিনপুর, আটাম, ঘুঙ্গায়াজুড়ি, আঙ্গরকান্দা, পাতাম, চুরেরভিটা, টেগরিয়া, কাওয়ারকান্দা, বতিহালা ও রাউতি।

এ প্লাবনে বিপাকে পড়েছেন হাঁস, মুরগিসহ গবাদিপশু লালন-পালনকারীরা। রফিক উদ্দিন, একজন হাঁস খামারি। তিনি জানান, তার খামারে এক হাজার ৫০০ হাঁস রয়েছে। এই হাঁসগুলো বিক্রি করেই তাকে সংসার চালাতে হয়। ইতোমধ্যে গ্রামে পানি ডুকে বহু গ্রাম প্লাবিত করেছে। পানি দেখে দুঃশ্চিন্তায় রয়েছেন তিনি। তাড়াহুড়ো করে ৯০০ হাঁস বিক্রি করে দেন। বাকি হাঁসগুলো বিক্রির উপযোগী হয়নি। বন্যার পানির জন্য হাঁসের খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। যার জন্য হাঁসের খাবারও ঠিকমতো দিতে পারছেন না তিনি। ফলে অনেক দুঃশ্চিন্তায় দিনাতিপাত করেছেন।

আনিছুর রহমান, গবাদিপশু পালন করেন। তিনি বলেন, ‘আমার ৬টি গরু রয়েছে। পানিতে গ্রামগুলো প্লাবিত হওয়ার কারণে গবাদিপশুর খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে। নৌকা না থাকায় নিজেও বাজারে যেতে পারছি না। সামনে কোরবানির ঈদ। ভাবছিলাম, চার-পাঁচটা গরু বিক্রি করে কিছু টাকা আয় করব। কিন্তু তা হয় তো এবার হবে না।’ তবুও আশা নিয়ে বসে আছি।’

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, অনেক গ্রামের রাস্তা-ঘাট পানিতে তলিয়ে গেছে। এলাকার বহু মানুষ যাতায়াত করছেন নৌকা দিয়ে। আবার অনেকের নৌকা না থাকায় গৃহবন্দি হয়েছে পড়েছেন।

এলাকাবাসী জানায়, জনপ্রতিনিধিরা রাস্তা ভালোভাবে সংস্কার না করায় এমন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এমন অবস্থায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তরা প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করছেন।

  • সর্বশেষ - মহানগর