ময়মনসিংহ, , ২৪ শ্রাবণ ১৪২৭ অনলাইন সংস্করণ

কিশোরীকে ধর্ষণের পর হত্যা করে পাহাড়ের গর্তে ফেলে দেয় ভগ্নীপতি

কিশোরীকে ধর্ষণের পর হত্যা করে পাহাড়ের গর্তে ফেলে দেয় ভগ্নীপতি

নেত্রকোনার দুর্গাপুরে নিখোঁজের একদিন পর আফসানা আক্তার (১৪) নামে এক কিশোরীর লাশ উদ্ধার করা হয়। ওই কিশোরীকে ধর্ষণের পর হত্যা করে পাহাড়ের গর্তে ফেলে দেয় ভগ্নীপতি আবুল কাশেম (২৩)। বুধবার রাতে দুর্গাপুর থানায় দেয়া জবানবন্দিতে আবুল কাশেম এ সব তথ্য দিয়েছে বলে জানান ওসি মিজানুর রহমান।


বৃহস্পতিবার দুপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন আইন, হত্যা ও লাশ গুমের অপরাধে দুর্গাপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়। আদালত জামিন নামঞ্জুর করে তাকে জেলহাজতে প্রেরণ করেন।


বৃহস্পতিবার বিকালে ওসি মিজান যুগান্তরকে বলেন, নিহত আফসানা দুর্গাপুর সদর ইউনিয়নের কালিকাপুর গ্রামের দিনমজুর আবু ছালেকের মেয়ে। সে স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় লেখাপড়া করত। ১ জুলাই সকালে পাহাড়ে কচুর লতি সংগ্রহ করতে গিয়ে সে নিখোঁজ হয়। সম্ভাব্য সবখানে খুঁজেও আফসানাকে না পেয়ে পুলিশকে জানানো হয়।


তিনি বলেন, পরদিন স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর আসে ভারতীয় সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া থেকে প্রায় ২০০ গজ দূরে পাহাড়ের গর্তে মুখে কাপড় গুজা অবস্থায় একটি লাশ পাওয়া গেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ২ জুলাই রাত ৯টার দিকে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। শুক্রবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোনা আধুনিক হাসপাতাল মর্গে পাঠায়।


মেয়েটির বাবা থানায় অভিযোগ করলে পুলিশের ঊর্ধ্বতন মহলের দিক নির্দেশনায় পরিদর্শক (তদন্ত) মীর মাহবুব ও থানার অন্য অফিসারদের সহায়তায় বিভিন্ন তথ্য অনুসন্ধানে বুধবার কিশোরীর ভগ্নীপতি আবুল কাশেমকে গ্রেফতার করা হয়।


পরে জিজ্ঞাসাবাদে কাশেম জানায়, ১ জুলাই দুপুরে আফসানা পাহাড়ে কচুর লতি সংগ্রহ করতে গেলে কাশেম দূর থেকে তা দেখতে পায়। কাছে গিয়ে নানা অজুহাতে শ্যালিকার সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলে। তাকে বিয়ে করে দূরে কোথাও চলে যাবে মর্মে তাকে ধর্ষণ করে। দুপুর গড়িয়ে বিকাল হয়ে গেলে আফসানাকে আপাতত বিয়ে করবে না বলে জানায়। ওই কিশোরী বিষয়টি বুঝতে পেরে ধর্ষণের বিষয়টি বাড়িতে জানাবে বললে গায়ের ওড়না দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। আফসানার মৃত্যু নিশ্চিত হয়ে মুখে কাপড় গুজে লাশ পাহাড়ের গর্তে ফেলে স্থান ত্যাগ করে সে।


  • সর্বশেষ - মহানগর