ময়মনসিংহ, , ১৪ কার্তিক ১৪২৭ অনলাইন সংস্করণ

ময়মনসিংহ সদর খাদ্য গুদামের ওসি এলএসডি আরিফ রব্বানীর ৪ বছরে ৬ কোটি টাকার সম্পদ

  শাহ মোহাম্মদ রনি

  প্রকাশ : 

ময়মনসিংহ সদর খাদ্য গুদামের ওসি এলএসডি আরিফ রব্বানীর ৪ বছরে ৬ কোটি টাকার সম্পদ

আরিফ রব্বানী। খাদ্য অধিদপ্তরের খাদ্য পরিদর্শক। চাকরির বয়স ৬ বছর ২ মাস ৬ দিন। চাকরি শুরুর ২ বছর পর পর্যন্ত সাদামাটা দিন কাটান চিহ্নিত এই দুর্নীতিবাজ। ভাগ্যের চাকা খোলে ৪ বছর আগে। হঠাৎ পেয়ে যান আলাদিনের আশ্চর্য চেরাগ। মাঝে দেড় মাস বাদ দিয়ে এখন দায়িত্ব পালন করছেন সদর খাদ্য গুদামে। প্রায় ৪ বছরে নামে-বেনামে ৬ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন। ময়মনসিংহ নগরীতে অত্যাধুনিক ২টি ফ্ল্যাট, গ্রামের বাড়ি ফুলপুরের বিহারাঙ্গা এবং শ্বশুর বাড়ি টাঙ্গাইলের ধনবাড়ির মুশুদ্দীতে জমি ক্রয়, স্ত্রীর ৩০ ভরিরও বেশি স্বর্ণালঙ্কার এবং বিভিন্ন ব্যাংক ও ডাকঘরে কোটি টাকা জমা রেখেছেন। সূত্র মতে, দুর্নীতিবাজ আরিফ রব্বানীর অধিকাংশ সম্পদ স্ত্রী ও শ্বশুর বাড়ির সদস্যদের নামে। থাকেন নিজের কেনা ৭০ লাখ টাকার বিশাল ফ্ল্যাটে। স্ত্রী-সন্তান নিয়ে চলাফেরা করেন রাজকীয় স্টাইলে। ময়মনসিংহে বাড়ি হওয়ার পরও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা ভঙ্গ করে গুদামে দায়িত্ব পালন করছেন। অথচ তার সাথে একই পদে চাকরিতে যোগদান করে অনেকেই এখন পর্যন্ত গুদামের দায়িত্ব পাননি। রব্বানীর অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে এর আগেও সংবাদপত্রে খবর প্রকাশিত হয়। বিয়ের সূত্রে কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাককে আত্মীয় পরিচয় দিয়ে ফায়দা লুটেন। সূত্র মতে, ময়মনসিংহে যেক’জন দুর্নীতিবাজ ওসি এলএসডি রয়েছেন তাদের মধ্যে আরিফ রব্বানী অন্যতম। তাকে আস্কারা দিয়ে অতিমাত্রায় অনিয়ম ও দুর্নীতি করতে সহযোগিতা করেন সাবেক জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোঃ জাহাঙ্গীর আলম। মোটা অংক ‘ভোগ’ দিয়ে রব্বানী সব সময় ধরা ছোঁয়ার বাইরে থেকে যান। অনেক সময় তিনি অস্বাভাবিক পরিমাণের ধান ও চাল সংগ্রহ এবং বিল প্রদান করেছেন। ২০১৮ বোরো মৌসুমে সংগ্রহ পুরোটা শেষ না করেই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে তড়িঘড়ি পছন্দের ব্যক্তিকে দায়িত্ব দেওয়ার ঘটনা ঘটান ফুলবাড়িয়া গুদামে। দখল বিক্রি করার মতো। সদর ও ফুলবাড়িয়া খাদ্য গুদামের ডব্লিউকিউএসসি এবং গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র পরীক্ষা করলে অনিয়ম ও দুর্নীতির অনেক প্রমাণ পাওয়া যাবে। তার বিরুদ্ধে উত্তরাঞ্চলসহ মিলারদের কাছ থেকে নিম্নমানের ধান ও চাল সংগ্রহ, বিভিন্ন কর্মসূচির ডিও’র চাল কিনে সংগ্রহ দেখানো, অন্যত্র প্রেরণ এবং বিতরণ করার ক্ষেত্রে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রীর উপহার ত্রাণ এবং ১০ টাকা কেজির খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ডিও’র চাল কিনে চলতি বোরো সংগ্রহ দেখানোর তুঘলকি কারবার চলছিলো জেলার বিভিন্ন খাদ্য গুদামে। খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সারোয়ার মাহমুদ কঠোর হস্তে তা দমন করেন। মুন্সীরহাট এবং আঠারবাড়ি গুদামে প্রায় ১৯ টন ডিও’র চাল কিনে বোরো সংগ্রহ দেখানোর ঘটনায় হাতেনাতে ধরা পড়েন দুর্নীতিবাজ ২ ওসি এলএসডি। পরে গুদাম ২টি সিলগালা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়। দুর্নীতিবাজদের একজন পলাতক। এ ঘটনায় তোলপাড় চলছে।


সূত্র জানায়, মে ও জুন মাসে ময়মনসিংহের কয়েকটি গুদামে বিভিন্ন কর্মসূচির ডিও’র চাল কিনে বোরো সংগ্রহ দেখানোর তুঘলকি কারবার চলে। ১৫ দিনের ব্যবধানে ধোবাউড়ার মুন্সীরহাট এবং ঈশ্বরগঞ্জের আঠারবাড়ি গুদাম থেকে প্রায় ১৯ টন চাল জব্দ করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর উপহার ত্রাণ এবং ১০ টাকা কেজির খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল কিনে বোরো সংগ্রহ দেখিয়ে বিল করার জন্য চালগুলো মজুদ করা হয়েছিলো। সূত্র মতে, আঠারবাড়ির দুর্নীতিবাজ ওসি এলএসডি আশরাফ আলী বোরো সংগ্রহ দেখিয়ে বিল করার জন্য প্রায় ৪ টন চাল গুদামে মজুদ করেন। খবর পেয়ে ২৬ মে বিকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ জাকির হোসেন গুদামে যান। সত্যতা পেয়ে চালগুলো জব্দ করে গুদাম সিলগালা করেন। পরের দিন ২৭ মে সকালে খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সারোয়ার মাহমুদ সরাসরি আঠারবাড়ি গুদামে যান। ঘটনার সত্যতা পেয়ে অধিনস্তদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়ে ঢাকায় ফিরেন। পরে গুদামের বিভিন্ন খামাল পরিমাপ করে চাল কম ও বেশি এবং নিম্নমানের চাল পাওয়া যায়। আশরাফ পালিয়ে যাওয়ায় বিধি অনুযায়ী শামীম-আল-ফারুককে গুদামের দায়িত্ব দেওয়া হয়। কর্তৃপক্ষের নির্দেশে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক এইচ এম কামরুজ্জামান পলাতক ওসি এলএসডিসহ ৪ জনকে আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করেন। ৩০ মে দায়ের করা মামলায় অন্যদের মধ্যে কালোবাজারী মতিউর রহমান মতি ও মিলন মিয়া এবং ফরিদা রাইস মিলের মালিক আবু বক্কর সিদ্দিককে আসামি করা হয়। প্রস্তুতি চলছে বিভাগীয় মামলার। দুর্নীতিবাজ আশরাফকে বরিশাল বিভাগীয় আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে বদলি করা হয়েছিলো। কর্তব্যে অবহেলার কারণে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক এইচ এম কামরুজ্জামানকে সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় এবং ২ নারী দারোয়ানসহ ৬ দারোয়ানকে বরিশালে বদলি করা হয়। দুর্নীতিবাজ আশরাফ এর আগে জামালপুর ও ময়মনসিংহে বহু ঘটনার জন্ম দেন। তার কারণে বেকায়দায় পড়ে জামালপুর ছাড়তে বাধ্য হন সাবেক জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মাহবুবুর রহমান খান। তখন নানানভাবে কলকাঠি নেড়ে জামালপুরে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছিলো। আঠারবাড়ির ঘটনার রেশ না কাটতেই মুন্সীরহাটেও ধরা পড়ে প্রধানমন্ত্রীর উপহার ত্রাণ এবং ১০ টাকা কেজির খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির প্রায় ১৫ টন চাল। মহাপরিচালকের নির্দেশে ৯ জুন মুন্সীরহাট গুদাম পরিদর্শনে যান অতিরিক্ত মহাপরিচালক মোঃ আব্দুল আজিজ মোল্লা। স্টকের চেয়ে প্রায় ১৫ টন চাল বেশি পান। গুদাম সিলগালা করে তিনি ঢাকায় ফিরেন। সূত্র মতে, ডিও ডেলিভারী দেখালেও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এবং খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ডিলারদের কাছ থেকে চাল কিনে রেখেছিলেন ওসি এলএসডি সালাহ উদ্দিন নীরব। চলতি বোরো সংগ্রহ দেখিয়ে বিল করার জন্য চালগুলো মজুদ করা হয়েছিলো। বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার অপচেষ্টা চলছে। মুন্সীরহাট ও আঠারবাড়ির ঘটনায় নড়চড়ে বসেন খাদ্য অধিদপ্তরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। শুরু হয় তোলপাড়।


জানা যায়, আরিফ রব্বানী ০৭-০৫-২০১৪ তারিখে খাদ্য পরিদর্শক হিসেবে শেরপুরের নকলা উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে যোগ দেন। ০৫-০৯-২০১৮ তারিখে ওসি এলএসডি হিসেবে ময়মনসিংহ সদর খাদ্য গুদামে যোগদান করেন। ০২-০৭-২০১৬ থেকে ১৫-০৭-২০১৮ তারিখ পর্যন্ত ফুলবাড়িয়া গুদামে কর্মরত ছিলেন। প্রেম ও সম্পর্কের সূত্র ধরে রব্বানী টাঙ্গাইলের ধনবাড়ির মুশুদ্দীতে বিয়ে করেন। শর্ত অনুযায়ী শ্বশুর তাকে চাকরি পাইয়ে দেন। ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে জড়িত থাকলেও আওয়ামী লীগ নেতা শ্বশুরের বদৌলতে পান চাকরি নামের সোনার হরিণ। এ জন্য তাকে ফুলপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের প্রত্যয়নপত্র যোগাড় করতে হয়। জাতীয় পতাকা ও জাতীয় দিবস মানেন না বিএনপি-জামায়াত জোটের এই সমর্থক। কোনো জাতীয় দিবসেই গুদামে পতাকা উত্তোলন করেন না। ‘ধুরন্দর’ রব্বানী চাকরি শুরুর ২ বছরের মাথায় ১৫ লাখ টাকার বিনিময়ে বিশেষ তদবিরে নাটকীয়ভাবে ফুলবাড়িয়া গুদামের দায়িত্ব নেন। এর আগে খাদ্য পরিদর্শক সমিতির ময়মনসিংহ বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এরশাদুর রহমান খানকে ফুলবাড়িয়া গুদামে বদলি করা হয়েছিলো। তাকে যোগদান করতে বাধা দিয়ে টাকার বিনিময়ে আদেশ বাতিল করে রব্বানী ফুলবাড়িয়া গুদামে আদেশ করান। বিষয়টি তখন সারাদেশে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছিলো। রব্বানী ফুলবাড়িয়ায় যোগদান করেই শুরু করেন অনিয়ম ও দুর্নীতির মহোৎসব। কালোবাজারীদের কাছ থেকে চাল ক্রয় এবং বিক্রি করতে গিয়ে ২ বার জনতা ও প্রশাসনের কাছে ধরা পড়েন। পালিয়ে থেকে মোটা অংক খরচ করে রক্ষা পান। বিভিন্ন বিষয়ে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোঃ দিলোয়ার হোসেনের সাথে দ্বন্দ্বে জড়ান। ফুলবাড়িয়ার দায়িত্ব হস্তান্তরের ১ মাস ২০ দিনের মাথায় রব্বানী ১৬ লাখ টাকার বিনিময়ে সদর এলএসডির দায়িত্ব নেন। ১ বছর ১০ মাস ৮ দিন হলো তিনি সদর এলএসডিতে। ১টি বোরো ও ২টি আমন মৌসুম শেষ করে চলতি বোরো সংগ্রহ করছেন। ফুলবাড়িয়ায় একটি আংশিকসহ ৩টি বোরো এবং ২টি আমন মৌসুমে ধান ও চাল সংগ্রহ করেন। ৪ বছরে ২২,৫৬৪.৮১০ টন চাল এবং ৩,৭০২.৯৬০ টন ধান সংগ্রহ করে ৮৮ কোটি টাকার কাছাকাছি বিল প্রদান করেন। এ সুযোগে অবৈধভাবে কমপক্ষে ৬ কোটি টাকা আয় করেন। তথ্য অনুযায়ী আরিফ রব্বানী ১৩-০৭-২০২০ তারিখ সোমবার পর্যন্ত ২৬,২৬৭.৭৭০ টন ধান ও চাল সংগ্রহ করেন। ফুলবাড়িয়ায় ২০১৬ বোরো মৌসুমে ২,৮৬৭.৩৬০ ধান ও ১,৫১৬ টন সিদ্ধ চাল, ২০১৭ মৌসুমে ১,২১০.৪১০ টন সিদ্ধ ও ১৩৯.৮৬০ টন আতপ, ২০১৮ মৌসুমে ৩,১৩২.৮১০ টন সিদ্ধ ও ১৮০ টন আতপ চাল সংগ্রহ করা হয়। ২০১৬-২০১৭ আমন মৌসুমে ৫৪৬ টন ও ২০১৭-২০১৮ মৌসুমে ১,৪৪০.৯৬০ টন চাল সংগ্রহ হয়। সদরে ২০১৯ বোরো মৌসুমে ৫,৪৮৩.২৮০ টন সিদ্ধ ও ৪৬২.১৫০ টন আতপ, ২০২০ মৌসুমে (চলমান) ৩৬.৬০০ টন ধান, ১,৫২৭.২৭০ টন সিদ্ধ এবং ৩০৩.০৬০ টন আতপ চাল সংগ্রহ করা হয়েছে। ২০১৮-২০১৯ আমন মৌসুমে ৪,৩৬৭.১৬০ টন চাল ও ২০১৯-২০২০ মৌসুমে ৭৯৯ টন ধান ও ২,২৫৫.৮৫০ টন চাল সংগ্রহ করা হয়। সূত্র মতে, রব্বানী ধান ও চাল সংগ্রহের জন্য টন প্রতি ২ থেকে ৭ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ নেন।


সূত্র জানায়, আরিফ রব্বানীর গ্রামের বাড়ি ফুলপুরের রূপসী ইউনিয়নের বিহারাঙ্গায়। তার বাবা মোঃ আব্দুল জব্বার স্বাধীনতা বিরোধী চক্রের অন্যতম নেতা রজব আলী ফকিরের একনিষ্ঠ অনুসারী ছিলেন। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় থেকে ১৯৮০ সাল পর্যন্ত একচ্ছত্র আধিপত্য ছিলো রজব আলী ফকিরের। তার হয়েই সন্ত্রাস এবং লুটপাটে অংশ নিতো রব্বানীর পরিবার। রজব আলী ফকিরের ছেলে বিএনপি-জামায়াত জোটের এমপি শাহ শহীদ সারোয়ারের হয়েও কাজ করেন রব্বানীর বাবা এবং পরিবারের সদস্যরা। রব্বানীরা এলাকায় নিম্নবিত্ত হিসেবে পরিচিত। তবে গত ৪ বছরে তাদের চিত্র পাল্টে গেছে। এখন তারা মধ্যবিত্ত। সূত্র মতে, অবৈধ টাকা আয়ের বিষয়ে রব্বানী তালিকা দিতে কৃষি বিভাগের বিলম্ব, রাজনৈতিক নেতাদের হস্তক্ষেপ এবং ব্যাংক একাউন্টের অজুহাতকে কাজে লাগিয়েছেন। ব্যাংকের বিল বিবরণী, কৃষি অফিসের তালিকা এবং মোবাইলের কললিস্ট পরীক্ষা করলেই অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যাবে। কালোবাজারী সিন্ডিকেট সদর এবং ফুলবাড়িয়া গুদামে প্রকাশ্যে ট্রাকে করে ধান ও চাল সরবরাহ করে। গভীর রাত থেকে সকাল পর্যন্ত এই ২ গুদামে ট্রাক থেকে ধান ও চাল নামানোর দৃশ্য দেখা যায়। ফুলবাড়িয়ায় কৃষকদের কাছ থেকে ধান না কেনায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিলো। অসহায় কৃষকরা ভ্যান ও ট্রলি দিয়ে ধান এনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে বাড়ি ফিরেন। অধিকাংশ ধান গুদামে রিসিভ না করে চাল বানানোর জন্য সরাসরি মিলে পাঠিয়ে রব্বানী মোটা অংক হাতিয়ে নেন। অন্যদিকে রব্বানীর বানানো কল্পকাহিনীর কারণে নিজেদের মধ্যে অবিশ্বাস এবং ভুল বুঝাবুঝির ঘটনাও ঘটছে। বিপক্ষ গ্রুপের নেতা এবং ওসি এলএসডিদের বিরুদ্ধে কলকাঠি নাড়ার পাশাপাশি এখন নিজ গ্রুপের নেতাদের বিরুদ্ধেও কথা বলেন। অভিযোগ সম্পর্কে আরিফ রব্বানী সোমবার দৈনিক জাগ্রত বাংলা’কে বলেন, আমাকে জড়িয়ে মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ করা হয়েছে। আমার পারিবারিক ও চাকরি জীবনের সাথে অভিযোগের কোনো মিল নেই। অপরদিকে গুদামে সরাসরি ওসি এলএসডির পদ না থাকায় ‘বদলি বাণিজ্য সিন্ডিকেট’ কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। একাধিক সিন্ডিকেটের কারণে ইচ্ছে থাকার পরও অনেক খাদ্য পরিদর্শক এবং উপ-খাদ্য পরিদর্শক গুদামে দায়িত্ব পাচ্ছেন না। সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম এখন খাদ্য ভবন ছাড়িয়ে খাদ্যমন্ত্রীর আত্মীয়-স্বজন এবং নির্বাচনী এলাকা পর্যন্ত। এদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন বিভিন্ন জেলার খাদ্য নিয়ন্ত্রক। অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার জন্য জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকরা অনেক সময় অন্যায় আবদার মেনে নিতে বাধ্য হন।

সম্পাদনা: নাসিমুল গনি ইশরাক

  • সর্বশেষ - আলোচিত খবর