ময়মনসিংহ, , ১০ আশ্বিন ১৪২৭ অনলাইন সংস্করণ

‘কালো বলে কেউ পাশে বসতো না’

  স্পোর্টস ডেস্ক

  প্রকাশ : 

‘কালো বলে কেউ পাশে বসতো না’

যুক্তরাষ্ট্রে জর্জ ফ্লয়েড হত্যার পর একে একে বেরিয়ে আসছে ক্রীড়াঙ্গনের বর্ণবিদ্বেষী আচরণের নানান ঘটনা। বিশেষ করে আফ্রিকা অঞ্চলের খেলোয়াড়দের সইতে হয়েছে সতীর্থদের নানান অবহেলা ও বিরূপ আচরণ। যার মধ্যে অন্যতম দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক পেসার মাখায়া এনটিনি।


১৯৯৮ থেকে ২০১১ পর্যন্ত প্রোটিয়া জার্সি গায়ে ১০১ টেস্ট, ১৭৩ ওয়ানডে ১০ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন এনটিনি। বল হাতে টেস্টে ৩৯০, ওয়ানডে ২৬৬ ও টি-টোয়েন্টিতে ৬ উইকেট শিকার তার সাফল্যমণ্ডিত ক্যারিয়ারের সাক্ষ্যই দেয়। তবু বর্ণবাদের হাত থেকে রেহাই পাননি কেপ প্রোভিন্সের এ ক্রিকেটার।


দক্ষিণ আফ্রিকান ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশনের সঙ্গে আলাপে এনটিনি জানিয়েছেন, খেলোয়াড়ি জীবনে তিনি ছিলেন খুবই একাকী। কেননা দলের কেউই তাকে কোন কিছুর জন্য ডাকতো না কিংবা কোন পরিকল্পনার অংশও বানাতো না। এমনকি কৃষ্ণাঙ্গ হওয়ায় নাশতার টেবিলেও এনটিনির পাশে কেউ বসতো না।


এনটিনি বলেছেন, ‘তখন একাকীত্ব ছিল আমার সবসময়ের সঙ্গী। কেউ আমাকে ডিনারের জন্য ডাকতো না। সতীর্থরা আমার সামনেই নানান পরিকল্পনা করতো কিন্তু আমাকে রাখতো না। এমনকি সকালে নাশতার টেবিলে যখন যেতাম, তখন কেউ আমার পাশে বসতো না।’


এমনকি দলের সঙ্গে দূরত্বটা যেন বড় কিছুর কারণ না হয়, তাই টিম বাসেও উঠতেন না এনটিনি। বরং টিম বাসের ড্রাইভারের কাছে দিয়ে দিতেন নিজের কিট ব্যাগ এবং দৌড়ে যেতেন মাঠে। ফেরার সময়ও থাকত এই একই রুটিন।


তিনি বলেন, ‘আমরা একই জার্সি পরি, একই জাতীয় সঙ্গীত গাই, তবু আমাকে এসব সহ্য করতে হয়েছে। আমি টিম বাসের ড্রাইভারের কাছে নিজের ব্যাগ দিয়ে দিতাম এবং নিজে দৌড়ে মাঠে যেতাম। পরের ফেরার সময়ও একই কাজ। আমি দৌড়ে দৌড়ে ফিরতাম। কেউ জানত না আমি এমনটা কেন করতাম, কাউকে কখনও বুঝতে দেইনি বিষয়টা।’


‘আমি আসলে নিজের একাকীত্বের বিরুদ্ধে লড়ছিলাম। কারণ আমি যদি বাসের শেষে বসতাম, তাহলে তারা সবাই সামনের দিকে চলে যেতো। আমরা যখন জিততাম, তখন সবাই উল্লাস করতো কিন্তু হেরে গেলেই সবার আগে আমাকে দোষ দেয়া দেতো। আমার ছেলে থান্ডোও একই অবস্থায় পড়ে। সে অনূর্ধ্ব-১৯ ক্যাম্পে যাওয়াই বন্ধ করে দিয়েছিল।’

  • সর্বশেষ - খেলাধুলা