ময়মনসিংহ, , ৩ আশ্বিন ১৪২৭ অনলাইন সংস্করণ

শেরপুরে বন্যার পানি এখন বিনোদনের মাধ্যম!

শেরপুরে বন্যার পানি এখন বিনোদনের মাধ্যম!

শেরপুর-জামালপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের পোড়াদোকান ডাইভারশনের বন্যার পানি এখন শেরপুরের কিছু সংখ্যক মানুষের বিনোদনের অন্যতম মাধ্যমে পরিণত হয়েছে। করোনার মহামারীর এই সময়েও ওই বন্যার পানি দেখতে সকাল-বিকাল নামছে নারী-শিশুসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষের ঢল। বন্যার পানির প্রবল স্রোতে অঘটনের সম্ভাবনা থাকলেও সেদিকে কারও খেয়াল নেই।


বন্যার পানির কারণে শেরপুর থেকে জামালপুর হয়ে উত্তরবঙ্গের সড়ক যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। চরাঞ্চলের মানুষের বাড়ি-ঘরে উঠেছে পানি। তলিয়ে গেছে এখন ক্ষেতে থাকা বীজতলা, সবজি,পাট ও আউশ ধান। হাজার হাজার মানুষ রয়েছে পানিবন্দি। এসব কষ্টের কথা জানার পরেও বন্যার পানিতে কিছু সংখ্যক মানুষের আনন্দ, ফুর্তি ও বিনোদনের যেন বান ডেকেছে।


শুক্রবার থেকে শেরপুর-জামালপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের পোড়াদোকান ডাইভারশনের ওপর দিয়ে প্রবল বেগে বন্যার পানি প্রবাহিত হওয়ায় শেরপুর-জামালপুর সড়ক সরাসরি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। শনিবার ও রোববার ওই ডাইভারশন ও আশেপাশের এলাকা বন্যার অথৈই পানিতে সয়লাব হয়ে যায়।


বন্যায় মানুষের কষ্ট ও দুর্ভোগ হলেও সে সব উপেক্ষা করে শনিবার থেকেই বন্যার পানির সৌন্দর্য উপভোগ করতে শেরপুর জেলার বিভিন্ন প্রান্তের সব নারী ও শিশুসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ হুমড়ি খেয়ে পড়েছেন। করোনার মহামারীর এই সময়ে করোনা মানুষের কোন বাধা হতে পারেনি। প্রতিদিন সকালে ও বিকালে পোড়াদোকান এলাকায় থাকছে মানুষের কোলাহল মুখর।


বন্যার পানির প্রবল স্রোতের মধ্যেই কেউ সাঁতার কাটছে, কেউ বন্যার পানিতে হাঁটছেন, আবার কেউ ইচ্ছে করেই বন্যার পানিতে ভিজে একাকার হচ্ছেন। অনেকেই দল বেধে নৌকায় করে বন্যার পানিতে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। বন্যার পানিতে নেমে সেলফি তোলার অহরহ ব্যাপার তো রয়েছেই।


বন্যার পানিতে বিনোদিত হতে আসা মানুষের জন্য নৌকা ভ্রমণের জন্য মাঝিরা ভালই দুপয়সা কামাচ্ছেন। বন্যার পানি দেখতে আসা মানুষের ভিড় দেখে ওই এলাকায় গড়ে উঠেছে ফুসকা ও চটপটির দোকান। সেখানেও বেচা কেনা চলছে দেদারসে।


এদিকে বন্যার পানি দেখতে আসা সব শ্রেণি পেশার লোকজন করোনার কথা যেন ভুলেই গেছেন। এখানে স্বাস্থ্য বিধির কোনো বালই নেই। সামাজিক দূরত্ব বলে কিছু নেই। হাতে গোনা দুই একজন ছাড়া মাস্ক পর্যন্ত পড়ছেন না কেউ। করোনাভাইরাস ও বন্যায় মানুষের কষ্টের কথা মাথায় থাকলেও বন্যার পানিতে বিনোদিত হতে পেরে তৃপ্ত ও খুশি সবাই।


পানি দেখতে আসা শেরপুর টাউনের জুলহাস বলেন, শেরপুর-জামালপুর সড়কের পোড়াদোকান ডাইভারশনে পানি আসলেও কিছুসংখ্যক মানুষের জন্য তা বিনোদনের মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে। শেরপুরের অনেক মানুষ পানি দেখার জন্য আসছে এবং আনন্দ করছে। বন্যার পানি কিছু লোকের জন্য দুর্ভোগের কারণও হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের বাড়ি-ঘর, ফসলাদি ডুবে গেছে।


বন্যার পানি দেখার সময় শেরপুর টাউনের আবদুর রহমান বাবু বলেন, এই ডাইভারশনে প্রচুর পানি আসছে। যার জন্যে যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে গেছে। এখানে শহর থেকে প্রচুর লোক আসছে বন্যার পানি দেখার জন্য। সকাল, বিকাল ও সন্ধ্যায় বিভিন্ন বয়সের নারী, পুরুষ, বৃদ্ধ ও শিশুদের ভিড় দেখা যাচ্ছে। সামাজিক দূরত্ব মানা হচ্ছে ঠিকই। শহরের বিনোদনের জন্য তেমন সুযোগ না থাকায় মানুষ এখানে এসে আনন্দ ফুর্তি করে বিনোদনও পাচ্ছে।

  • সর্বশেষ - মহানগর