ময়মনসিংহ, , ৩০ শ্রাবণ ১৪২৭ অনলাইন সংস্করণ

প্রধানমন্ত্রীর সবুজায়নের ডাক, পৃথিবীর জন্য উদাহরণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

  প্রকাশ : 

প্রধানমন্ত্রীর সবুজায়নের ডাক, পৃথিবীর জন্য উদাহরণ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সবুজায়নের যে ডাক দিয়ে পরিবেশ রক্ষার কাজ করে যাচ্ছেন তা পৃথিবীর জন্য একটি উদাহরণ। পৃথিবীর অনেক দেশ ও মানুষ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে হুমকির মুখে। একমাত্র সুষ্ঠু পরিবেশ ও প্রকৃতিই এ থেকে মানুষকে রক্ষা করতে পারে।


বৃহস্পতিবার আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ উপ-কমিটির আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘মুজিববর্ষে বাংলাদেশ : বৃক্ষরোপণে বিশুদ্ধ হোক পরিবেশ’ শীর্ষক ওয়েবিনারে অংশ নিয়ে বক্তারা এসব কথা বলেন।


বক্তারা বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশে পরিবেশ রক্ষায় নেতৃত্ব দেয়ার পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী এ আহ্বান ছড়িয়ে দিয়েছেন। তার এ আহ্বানকে ধারণ করে দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণ করে প্রশংসনীয় কাজ করে যাচ্ছে আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক উপ-কমিটি।


ওয়েবিনার সঞ্চালনা করেন আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন। কমিটির চেয়ারম্যান ড. খন্দকার বজলুল হকের সভাপতিত্বে এতে জুমের মাধ্যমে অংশ নেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কর্নেল (অব.) ফারুক খান, তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, ডা. মো. হাবিবে মিল্লাত এমপি, বাংলাদেশ সেন্টার ফর অ্যাডভান্স স্ট্যাডিজের নির্বাহী পরিচালক ড. আতিক রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্যোগবিজ্ঞান ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের পরিচালক ড. অধ্যাপক মাহবুবা নাসরিন, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ এম আমিন উদ্দিন প্রমুখ।


আলোচনায় অংশ নিয়ে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কর্নেল ফারুক খান বলেন, শুধু গাছ লাগালে চলবে না, গাছ রক্ষা করতে হবে। কোভিড-১৯ এর সময়ে প্রমাণিত হয়েছে পরিবেশের সব থেকে বড় ক্ষতি করি আমরা।


তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক লক্ষ্য স্পষ্ট। তিনি পরিষ্কার করে বলেছেন আমরা পরিবেশ রক্ষায় যা করার করছি এবং যা প্রয়োজ করব। আমাদের যারা বিশেষজ্ঞ রয়েছেন তাদের কাছ থেকে আরও বেশি বেশি করে অভিজ্ঞতা নিতে হবে। আমি আহ্বান জানাব তাদের এগিয়ে আসার। পাশাপাশি জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মঞ্চে পরিবেশ নিয়ে যে কাজ করেছি সে কার্যক্রমগুলো বেশি করে তুলে ধরতে হবে। যেন বাংলাদেশ পরিবেশ রক্ষায় একটি রোল মডেল হিসেবে স্বীকৃতি পায়।


তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান উপকূল রক্ষায় বনায়ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছিলেন। এরপর যারা ক্ষমতা দখল করেছিল বিএনপি-জামায়াতের মতো দলগুলো তারা পরিবেশ নিয়ে কখনও ভাবেনি। জননেত্রী শেখ হাসিনা আবার ক্ষমতায় এলে পরিবেশকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন, প্রতিবছর একটি আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে গাছ লাগানো শুরু করেন। ডাক দেন এমনকি এটা শুধু আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ থাকে না। সারাদেশে তার কার্যক্রম ছড়িয়ে দেয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী এটাকে এতটাই গুরুত্ব দিয়েছেন যে আমাদের যে ডেল্টা প্লান সেখানেও বৃক্ষরোপণকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।


তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সবুজায়নের ডাক পৃথিবীব্যাপী সাড়া ফেলেছে। দেশে যেমন তার দৃঢ় ও সুযোগ্য নেতৃত্বে পরিবেশ রক্ষার জন্য কাজ হচ্ছে তেমনি বিশ্বও তা গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে। তার এসব উদ্যোগ বিশ্বে স্বীকৃতিও পেয়েছে। এর উৎকৃষ্ট প্রমাণ হলো পরিবেশ রক্ষায় অবদানের কারণে তার একাধিক পুরস্কার।


তিনি বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের সব উপাদান বাংলাদেশে দৃশ্যমান। পরিবেশ রক্ষায় ২০১৫ সালে জাতিসংঘের সর্বোচ্চ পুরস্কার ‘চ্যাম্পিয়ন অব দ্য আর্থ’ পুরস্কারে তিনি মনোনীত হয়েছেন। ১৯৮১ সালে শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পর ১৯৮৩ সাল থেকে দুই বছরব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করে আসছেন। বৃক্ষরোপণকে তিনি একটি সামাজিক আন্দোলনে রূপান্তর করেছেন।


করোনাভাইরাসের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে প্রকৃতির অবস্থা তুলে ধরে আওয়ামী লীগের সাবেক বন ও পরিবেশবিষয়ক এ সম্পাদক বলেন, এখনকার যে প্রকৃতি সে প্রকৃতি অনেক নির্মোহ-নির্মল। কারণ এই সময়ে প্রকৃতি তার আপন নিজস্বতায় বিকশিত হতে পারছে। এটি প্রমাণ করে আমরা স্বাভাবিক অবস্থায় প্রকৃতির ওপর এ রকম অত্যাচার করি।

  • সর্বশেষ - রাজনীতি