ময়মনসিংহ, , ১৬ আশ্বিন ১৪২৭ অনলাইন সংস্করণ

বাবার জানাজা পড়াতে পারল না হাফেজপুত্র

বাবার জানাজা পড়াতে পারল না হাফেজপুত্র

বাবার ইচ্ছে ছিল ছেলে তার জানাজা পড়াবেন, সেই ইচ্ছাপূরণের জন্য বড় ছেলে মো. শফিকুল ইসলামকে হাফেজ ও মাওলানা পড়ান। সেই ইচ্ছে পূরণ হল না। উচিতপুরের উত্তাল ঢেউ কেড়ে নিল তার জীবন!


বাবা-আমার বাবা, কিছু বলে গেল না, আজ তারই জানাজা পড়াতে হবে আমার'- বাবার এমন আকুতিতে শোকের মাতম চলছে শফিকুল ইসলামের গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলার সহনাটী ইউনিয়নের ধোপাজাঙ্গালিয়া গ্রামের বাড়িতে।


বুধবার সকাল ৬টায় চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র মুসায়েব সামান আম্মার ও তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী মো. জিল জাওয়ান জিবাবীকে নিয়ে শফিকুল ইসলাম উচিতপুরের উদ্দেশে রওনা হন। ময়মনসিংহ থেকে আসা ওস্তাদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে আনন্দ ভ্রমণে যায়।


উপজেলার সহনাটী ইউনিয়নের ধোপাজাঙ্গালিয়া গ্রামের আবুল কালাম আজাদের ২ ছেলে ও ২ কন্যার মধ্যে বড় ছেলে শফিকুল ইসলাম। তিনি ধোপাজাঙ্গালিয়ার দুই মাদ্রাসার মোহতামিম ছিলেন।


নেত্রকোনার মদন উপজেলায় পর্যটন কেন্দ্র মিনি কক্সবাজার নামে খ্যাত উচিতপুরের হাওরে ঘুরতে গিয়ে নৌকাডুবিতে ১৭ জনের প্রাণহানি ঘটে। বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উচিতপুরের সামনে হাওর গোবিন্দশ্রী রাজালীকান্দা নামক স্থানে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ১৭ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। লাশের সারিতে শায়িত বাবা শফিকুল ইসলাম ও পুত্র মুসায়েব সামান আম্মার।


এদিকে পিতা-পুত্রের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শোকের মাতম শুরু হয়। বারবার মূর্ছা যান তার বাবা আবুল কালাম আজাদ।


তিনি আক্ষেপ করে বলেন, আমার ছেলে আমার জানাজা পড়াবে, সেই আশায় হাফেজ মাওলানা পড়িয়েছি। এ আশা কেড়ে নিল উচিতপুরের উত্তাল ঢেউ।

  • সর্বশেষ - মহানগর