ময়মনসিংহ, , ১৬ আশ্বিন ১৪২৭ অনলাইন সংস্করণ

হাওরে আরও এক লাশ উদ্ধার, মোট নিহত ১৮

  নিজস্ব প্রতিবেদক

  প্রকাশ : 

হাওরে আরও এক লাশ উদ্ধার, মোট নিহত ১৮

নেত্রকোনার মদন উপজেলায় পর্যটনকেন্দ্র উচিতপুরের হাওরে ঘুরতে গিয়ে নৌকাডুবির ঘটনায় আরও একজনের লাশ উদ্ধার হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ১৮ জনের লাশ উদ্ধার করা হলো।


বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে মদন উপজেলার গোবিন্দশ্রী ইউনিয়নের পশ্চিমপাড়া রাজালীকান্দার এলাকার পেছনে রাকিব (২০) নামে ওই যুবকের মরদেহ ভেসে উঠলে এলাকাবাসী উদ্ধার করেন।


মৃত রাকিব ময়মনসিংহ সদর উপজেলার কোনাবাড়ী গ্রামের সিকতা ইউনিয়নের শফিকুল ইসলামের ছেলে। তিনি আটপাড়া উপজেলার তেলিগাতী টেঙ্গা জামিয়া আরাবিয়া মাদরাসার হেফজ বিভাগের শিক্ষক ছিলেন। এর আগে বুধবার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে মদনের উচিতপুরের সামনের হাওর গোবিন্দশ্রী রাজালীকান্দা নামক স্থানে এ নৌকাডুবির ঘটনা ঘটে।


এদিকে এ ঘটনা তদন্তে বুধবার রাতে মদন নির্বাহী কর্মকর্তা বুলবুল আহমেদ তালুকদারকে প্রধান করে চার সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ফখরুল হাসান চৌধুরী, ওসি মো. রমিজুল হক ও ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার আহমেদুল হক। আগামী সাত দিনের মধ্যে তাদের তদন্তের প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য বলা হয়েছে।


উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বুলবুল আহমেদ তালুকদার জানান, নিখোঁজ রাকিব নামে আরও একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ১৮ জনে।


উল্লেখ্য, বুধবার দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলার গোবিন্দশ্রী এলাকায় ৪৮ পর্যটক নিয়ে একটি নৌকা ডুবে যায়। ৩০ জন সাঁতরে তীরে উঠতে পারলেও অন্যরা উঠতে পারেননি। ফায়ার সার্ভিসকর্মীরা ১৭ জনের মরদেহ উদ্ধার করেন। বৃহস্পতিবার সকালে আরও একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।


নিহতদের মধ্যে এক পরিবারের আটজন রয়েছেন। তারা হলেন- ময়মনসিংহ সদর উপজেলার ৫ নম্বর সিরতা ইউনিয়নের কোনাপাড়া গ্রামের মারকাজুস সুন্নাহ মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান শিক্ষক মাহফুজুর রহমান মেয়াজ উদ্দিন (৪৫), তার বড় ছেলে মাহবুবুর রহমান আসিফ (১৭), ছোট ছেলে মাহমুদুর রহমান (১৪), ভাগনে রেজাউল করিম (১৮), ভাতিজা মো. জুবায়ের হোসাইন (১৯) ও মো. মুজাহিদ মিয়া (১৪)। তারা সবাই মারকাজুস সুন্নাহ মাদরাসার হেফজ বিভাগের শিক্ষার্থী। মাহফুজুর রহমান মেয়াজ উদ্দিনের ভাতিজি লুবনা আক্তার (১০) ও জুলফা আক্তার (৭) ইসরাহুল বানাত মহিলা মাদরাসার শিক্ষার্থী।


এছাড়া একই জেলার ইসা মিয়া (৪৫), সাইফুল ইসলাম (৩০), হামিদুল ইসলাম (৩৫), আজাহারুল ইসলাম (৩৫), শফিকুর রহমান (৪০) ও তার ছেলে সামান (১০), ইসা মিয়ার ছেলে শামীম হাসান (১০), ফজর আলীর ছেলে মুজাহিদ (১৭) ও তালেব হোসেনের ছেলে শহিদুল ইসলামের (৪০) মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

  • সর্বশেষ - মহানগর