, ১২ বৈশাখ ১৪৩১ অনলাইন সংস্করণ

মেয়ে হওয়ায় স্ত্রীকে ছুরিকাঘাতে হত্যার পর মারা গেলেন স্বামীও

মেয়ে হওয়ায় স্ত্রীকে ছুরিকাঘাতে হত্যার পর মারা গেলেন স্বামীও

জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় কন্যাসন্তান হওয়ায় স্ত্রীকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে হত্যা করে স্বামী। এরপর বিষপানে আত্মহত্যা করেছেন স্বামীও। দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের খড়মা খানপাড়া তেলিপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।


জানা যায়, একই ইউনিয়নের গামারিয়া দক্ষিণপাড়া গ্রামের জয়নাল আবেদীনের ছেলে খোরশেদ আলমের (৩২) সঙ্গে ৪ বছর আগে রুবিনার (২৫) বিয়ে হয়। রুবিনা খড়মা দাখিল মাদ্রাসায় সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করে ঢাকায় স্বামীর সঙ্গে পোশাক কর্মীর কাজ করতেন।


নিহতের বাবা ইদ্রিস আলী জানান, বিয়ের পর যৌতুকের জন্য তার মেয়েকে নির্যাতন করেছে তার স্বামী। ৪০ দিন আগে তার একটি কন্যাসন্তান হয়। কন্যাসন্তান হওয়ার পর প্রায়ই বিভিন্ন ভাষায় গালিগালাজ ও নির্যাতন করে খোরশেদ।


রুবিনার স্বজনরা জানান, কন্যাসন্তান প্রসবের পর থেকেই রুবিনা তার পিতার বাড়িতে অবস্থান করেছে। রোববার রাতে রুবিনার বাবার বাড়িতে খাবার খায় খোরশেদ। এ সময় কাছে পেয়ে রুবিনার পেটে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে সে।


পরে স্বামী খোরশেদ আলম বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। ছুরি দিয়ে আঘাত ও বিষপানের দৃশ্যটি খোরশেদ নিজেই ভিডিওচিত্র ধারণ করে।


গুরুতর আহত রুবিনা ও খোরশেদকে দেওয়ানগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া হয়। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক থাকায় চিকিৎসকরা ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার ভোর ৪টার দিকে রুবিনা মারা যান। এরপর বুধবার মারা যান খোরশেদ।


দেওয়ানগঞ্জ মডেল থানার ওসি এমএম ময়নুল ইসলাম জানান, রুবিনা ও খোরশেদ আলমের লাশ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে ময়নাতদন্ত হয়েছে। এ ব্যাপারে মামলা হয়েছে।

  • সর্বশেষ - মহানগর