ময়মনসিংহ, , ১৫ কার্তিক ১৪২৭ অনলাইন সংস্করণ

‘জিয়া-খালেদা দুজনই হত্যার রাজনীতির পথে হেঁটেছেন’

  নিজস্ব প্রতিবেদক

  প্রকাশ : 

‘জিয়া-খালেদা দুজনই হত্যার রাজনীতির পথে হেঁটেছেন’

ফাইল ছবি

বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সমালোচনা করে তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘জেনারেল জিয়া ও বেগম জিয়া দুজনেই হত্যার রাজনীতির পথে হেঁটেছেন।’


সোমবার (২৪ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে ‘জাতীয় শোক দিবস ও ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার বিচারের রায় কার্যকর করার দাবিতে’ আওয়ামী হকার্স লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় মন্ত্রী এ কথা বলেন।


বক্তব্যের শুরুতেই তথ্যমন্ত্রী ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ঘাতকের বুলেটে প্রাণ হারানো জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, তার পরিবারের সদস্য এবং ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় প্রাণ হারানো আইভি রহমানসহ অন্যদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং তাদের আত্মার শান্তি কামনা করেন। এর আগে সকালে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে বনানী কবরস্থানে আইভি রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন হাছান মাহমুদ।


‘১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ড এবং ২০০৪ সালের ২১ আগস্টের হত্যাকাণ্ড একই সূত্রে গাঁথা’ উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘দেশি-বিদেশি অপশক্তি ও একাত্তরের পরাজিত শক্তি যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা চায়নি এবং যারা বঙ্গবন্ধুকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়েছিল তারাই ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করেছিল। একইভাবে ২০০৪ সালেও যারা জননেত্রী শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হয়েছিল তারাই তাকে চিরতরে সরিয়ে দেয়ার লক্ষ্যে এবং আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করার উদ্দেশ্যে গ্রেনেড হামলা চালিয়েছিল।’


আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ইতিহাস তুলে ধরে বলেন, ‘আপনারা লক্ষ্য করে দেখুন ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট শুধু বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়নি, তার পরিবারের সদস্যদেরও হত্যা করা হয়েছে। এমনকি ১০ বছরের শিশু শেখ রাসেল, শেখ ফজলুল হক মণি, শেখ আবু নাছের এবং আব্দুর রব সেরনিয়াবাত যিনি বঙ্গবন্ধুর ভগ্নিপতি ও মন্ত্রিসভার মন্ত্রী ছিলেন, তাকেও হত্যা করা হয়েছে। অর্থাৎ আওয়ামী লীগকে নেতৃত্বশূন্য করা, দেশকে আবার পরাধীনতার দিকে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্যেই বঙ্গবন্ধুকে সেদিন হত্যা করা হয়েছিল। এই হত্যাকাণ্ডের মূল কুশীলব খন্দকার মোশতাক এবং জিয়াউর রহমান।’


‘২১ আগস্টের হত্যাকাণ্ডের মূল কুশীলব, পরিকল্পনাকারী এবং পরিচালনাকারী জিয়াউর রহমানের পুত্র তারেক রহমান। অর্থাৎ দুই হত্যাকাণ্ডেই একই পরিবার যুক্ত এবং আজকে এই কথাগুলো দিবালোকের মতো সত্য এবং স্পষ্ট’ বলেন ড. হাছান মাহমুদ।


তিনি বলেন, ‘২১ আগস্টের হত্যাকাণ্ডের জন্য তারেক রহমানের বিচার হয়েছে, যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছে। কিন্তু বেগম খালেদা জিয়া তো তখন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। বেগম জিয়ার জ্ঞাতসারে ও অনুমোদনে তারেক রহমানের পরিচালনায় ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা হয়েছিল। এজন্য আজকে যখন দাবি উঠেছে, বেগম খালেদা জিয়াকেও হুকুমের আসামি হিসেবে বিচারের আওতায় আনা প্রয়োজন, তখন বিএনপির নেতারা আবোল-তাবোল বলা শুরু করেছেন। তাদের একটি বক্তব্য হচ্ছে যে, বিএনপিকে নিশ্চিহ্ন করার জন্য নাকি ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের মিটিংয়ে গ্রেনেড হামলা পরিচালনা করা হয়েছিল! এই কথা শুনে পাগলও হাসে।’


‘আজকে জনগণের দাবি হচ্ছে শুধু তারেক রহমানের বিচার হলে হবে না, বেগম খালেদা জিয়াকেও ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার আসামি করতে’ বলেন তথ্যমন্ত্রী।


তিনি বলেন, ‘জিয়াউর রহমান যেমন হত্যার পথ বেছে নিয়েছিলেন, বঙ্গবন্ধু হত্যার অন্যতম কুশীলব ছিলেন, সেই পথ থেকে বেগম খালেদা জিয়াও ফিরে আসতে পারেননি। বেগম খালেদা জিয়াও তার ক্ষমতাকে নিষ্কণ্টক করার জন্য এবং তার ক্ষমতাকে ভবিষ্যতে চিরস্থায়ী করার লক্ষ্যেই ২১ আগস্ট জননেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে তার পুত্রের মাধ্যমে গ্রেনেড হামলা পরিচালনা করেছিলেন। এটিই হচ্ছে বাস্তবতা।’


আওয়ামী হকার্স লীগের সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক জাকারিয়া হানিফের সভাপতিত্বে কমিটির যুগ্ম-আহ্বায়ক মো. জাহেদ আলীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম নাদেল, ঢাকা দক্ষিণ মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ মান্নাফী। বিশেষ বক্তা ছিলেন আওয়ামী হকার্স লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য মো. শাহিন আহমেদ। এছাড়া মানিক লাল ঘোষ বক্তব্য রাখেন।

  • সর্বশেষ - রাজনীতি