ময়মনসিংহ, , ১৭ কার্তিক ১৪২৭ অনলাইন সংস্করণ

পূর্ব লাদাখে ভারত-চীনের নতুন করে উত্তেজনা

  নিজস্ব প্রতিবেদক

  প্রকাশ : 

পূর্ব লাদাখে ভারত-চীনের নতুন করে উত্তেজনা

পূর্ব লাদাখে আবারও চীন এবং ভারতীয় সেনাবাহিনীর মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। ভারতীয় একটি সূত্র জানিয়েছে, ২৯ জুলাই রাত থেকেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। প্যাংগং লেকে ভারতীয় নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় চীনের সেনাবাহিনী ঢুকে পড়ার চেষ্টা করলেই ভারতীয় জওয়ানদের সঙ্গে সংঘর্ষ শুরু হয়।


ভারতীয় সেনাবাহিনীর মুখপাত্র কর্ণেল আমান আনন্দ বলেছেন, প্যাংগং লেকের উত্তরে ঘাঁটি গেড়ে বসেছিল চীনের সেনারা। সেখানে তাদের হাই-স্পিড ইন্টারসেপটার যান ঘোরাফেরা করতে দেখা গেছে। দক্ষিণ অংশ দিয়ে ভারতীয় সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকায় ঢুকে পড়ার চেষ্টা করেছে চীনা সেনারা।


সেখানে চীনা সেনাবাহিনী আগ্রাসী রূপ ধারণ করেছে বলে অভিযোগ করেছে ভারত। গত ২৯ এবং ৩০ আগস্ট রাতে সামরিক পদক্ষেপ নেয় তারা। সোমবার কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চীন প্রথমেই উস্কানিমূলক আচরণ করেছে।


ভারতীয় সেনাবাহিনীর জনসংযোগ কর্মকর্তা কর্নেল আমন আনন্দ বলেন, সামরিক ও কূটনৈতিক স্তরে আলোচনার মাধ্যমে পূর্ব লাদাখে সংঘাত পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে যে ঐকমত্যে পৌঁছানো হয়েছিল, ২৯ এবং ৩০ আগস্ট রাতে চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি (পিএলএ) তা লঙ্ঘন করেছে। ওই অঞ্চলের স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে সেখানে প্ররোচনামূলক সামরিক পদক্ষেপ নিয়েছে তারা।


চীনের পক্ষ থেকে ঠিক কী ধরনের সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে তা পরিষ্কার করেননি কর্নেল আমন আনন্দ। তবে তিনি বলেন, প্যাংগং লেকের দক্ষিণে চীনা বাহিনীর আগ্রাসন প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে ভারতীয় বাহিনী। সেখানে নিজেদের অবস্থান মজবুত করেছে তারা। চীন একতরফা ভাবে পরিস্থিতি বদলানোর চেষ্টা করলেও তা ব্যর্থ হয়েছে।


লাদাখ সীমান্তে নতুন করে এই উত্তেজনার পর দুই দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে বলেও জানিয়েছেন কর্নেল আনন্দ। তিনি বলেন, আলাপ আলোচনার মাধ্যমে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার পাশাপাশি আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ভারতীয় সেনাবাহিনী। লাদাখের পরিস্থিতি নিয়ে ব্রিগেড কমান্ডার স্তরের ফ্ল্যাগ মিটিং চলছে।


প্যাংগং লেকে চীনা বাহিনীর ঘাঁটি গেড়ে বসা নিয়ে বছরের শুরুতেই সীমান্তে যে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল এখনও পর্যন্ত তা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি। দু'দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে পাঁচ দফা বৈঠক হলেও এখনও পর্যন্ত স্থানীয় সমাধানে উপনীত হয়ে পারেনি কোনও পক্ষই। সেই অবস্থাতেই সপ্তাহখানেক আগে চিফ অফ ডিফেন্স স্টাফ জেনারেল বিপিন রাওয়াত জানিয়ে দেন যে, আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সমাধান না এলে সামরিক উপায়েই চীনকে ঠেকাতে হবে। তারপরেই চীন এমন আগ্রাসী পদক্ষেপ নিয়েছে।

  • সর্বশেষ - আন্তর্জাতিক