ময়মনসিংহ, , ২৮ আষাঢ় ১৪২৭ অনলাইন সংস্করণ

একাত্তরের এই দিনে

  অনলাইন ডেস্ক

  প্রকাশ : 

একাত্তরের এই দিনে

ফাইল ছবি

১৯৭১ সালের ডিসেম্বর মাস। মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিরোধ যুদ্ধ প্রবল আকার ধারণ করে। দেশের সব স্থান থেকে ভেসে আসতে থাকে পাক-হানাদারদের পরাজয়ের সংবাদ। 

স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের উদ্দীপনামূলক গান আর চরমপত্র মুক্তিযুদ্ধের সেই কঠিন সময়ে এদেশবাসীকে উদ্দীপিত করে রাখছিল সব সময়। একাত্তরের আজকের এই দিনে (২ ডিসেম্বর ১৯৭১) মুক্তিযোদ্ধারা নরসিংদীর ঘোড়াশালে প্রবল আক্রমণ চালিয়ে ২৭ জন পাকিস্তানী সেনাকে হত্যা করেন। মুক্তিবাহিনী তাদের অবস্থান সুদৃঢ় করে তিন দিক থেকে শত্রুকে আক্রমণ করলে পাকবাহিনী আজমপুর রেলওয়ে স্টেশন ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। 

চট্টগ্রামে মুক্তিবাহিনীর গেরিলারা ফটিকছড়ি, রাউজান ও আনোয়ারার অধিকাংশ স্থান শত্রুমুক্ত করেন। ১৯৭১ সালের এই দিনে পাক কমান্ডার মোছলেহ উদ্দিন ময়মনসিংহের ভালুকা থেকে একদল রাজাকার সঙ্গে নিয়ে কাঁঠালি গ্রামে লুটপাট এবং অগ্নিসংযোগ করতে এলে মুক্তিবাহিনীর সেকশন কামান্ডার গিয়াসউদ্দিন এবং ৩ নং সেকশন কমান্ডার আবদুল ওয়াহেদের নেতৃত্বে পরিচালিত অতর্কিত আক্রমণে ৩ জন পাক-হানাদার, ৭ জন রাজাকার নিহত হয় এবং ৭ জন পাকসৈন্য আহত হয়। পরে পাক-হানাদাররা মৃতদেহগুলো নিয়ে পালিয়ে যায়।

পাকিস্তান চাচ্ছিলো ভারতের পশ্চিম সীমান্তে অবস্থিত বিমানবন্দরগুলোতে আক্রমণ চালাতে। এজন্য তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে সহযোগিতা আশা করছিল। কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তখন পর্যন্ত ছিল দ্বিধান্বিত। এদিন পাকিস্তান পিপলস পার্টি ও পাকিস্তান জামায়াতে ইসলামীর পূর্ব পাকিস্তান শাখার নেতৃবৃন্দ পাকিস্তানের অখণ্ডতা রক্ষার লক্ষ্যে অবিলম্বে পশ্চিম পাকিস্তানে সীমান্ত থেকে ভারত আক্রমণ করার জন্য প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়ার প্রতি আবেদন জানান।