ঢাকা, , ৩০ অগ্রহায়ণ ১৪২৬ আপডেট : কিছুক্ষণ আগে

ভেঙে গেল মেননের ওয়ার্কার্স পার্টি

  নিজস্ব প্রতিবেদক

  প্রকাশ : 

ভেঙে গেল মেননের ওয়ার্কার্স পার্টি

যশোর শিল্পকলা একাডেমিতে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির মতাদর্শ রক্ষা সমন্বয় কমিটির জাতীয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ছবি:


রাশেদ খান মেনন ও ফজলে হোসেন বাদশার নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি ভেঙে গেছে। দলের বিদ্রোহী নেতারা বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি (মার্ক্সবাদী) নামে নতুন আরেকটি বাম রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ ঘটিয়েছেন। যশোর জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আজ শনিবার বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির মতাদর্শ রক্ষা সমন্বয় কমিটির জাতীয় সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে নতুন এই দলের আত্মপ্রকাশ ঘটে।

অধিবেশনে নতুন এই দলের ১১ সদস্যবিশিষ্ট কেন্দ্রীয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। দলের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন নূরুল হাসান, সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন ইকবাল কবির। নতুন দলের প্রতীক ‘কাস্তে-হাতুড়ি’। দলের স্লোগান হলো ‘দুনিয়ার মজদুর এক হও’।

আজ সকাল ১০টায় নূরুল হাসানের সভাপতিত্বে জাতীয় সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশন শুরু হয়। অধিবেশনে দেশের ৩২ জেলা থেকে রাশেদ খান মেননের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির ১৩০ জন প্রতিনিধি ও পর্যবেক্ষক উপস্থিত ছিলেন। সারা দিনের আলোচনা শেষে বিকেলে নতুন রাজনৈতিক দলের নাম ঘোষণা করা হয়। নতুন এই দলের উপদেষ্টা হয়েছেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সাবেক সাধারণ সম্পাদক বিমল বিশ্বাস। এ ছাড়া ১০ জন কেন্দ্রীয় বিকল্প সদস্য ও ছয়জনকে সংগঠক মনোনীত করা হয়েছে।

নতুন দলের সাধারণ সম্পাদক ইকবাল কবির বলেন, ‘রাশেদ খান মেনন ও ফজলে হোসেন বাদশা নিজস্ব প্রতীককে আওয়ামী লীগের কাছে বিক্রি করে ওয়ার্কার্স পার্টিকে দেউলিয়া পার্টিতে পরিণত করেছেন। পার্টির নেতৃত্বের নতজানু আপসকামিতা ও একলা চলার নীতির কারণে আমরা দল থেকে বেরিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছি।’

ইকবাল কবির বলেন, ‘বুর্জোয়া, লেজুড়বৃত্তি ও দক্ষিণপন্থী সুবিধাবাদী রাজনীতি পরিহার করে একটি সত্যিকারের বিপ্লবী পার্টি গড়ে তোলা হবে। জাতীয় স্বার্থে তেল-গ্যাস-বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষার সংগ্রামকে বেগবান করা হবে। স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অসাম্প্রদায়িক ধর্মনিরপেক্ষ বাংলাদেশ গড়ে তোলার সংগ্রামকে এগিয়ে নেওয়া হবে।’

সম্মেলনের উদ্বোধনী পর্বের আলোচনায় বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি মুজাহিদুল ইসলামসহ ছয়টি বাম রাজনৈতিক দলের নেতারা অংশ নেন। নেতাদের সবাই বাম ঐক্যের বিকল্প নেই বলে দাবি করেন।