ময়মনসিংহ, , ১৩ কার্তিক ১৪২৭ অনলাইন সংস্করণ

রায়হানের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ীদের বিচারের সম্মুখীন হতে হবে

  নিজস্ব প্রতিবেদক

  প্রকাশ : 

রায়হানের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ীদের বিচারের সম্মুখীন হতে হবে

সিলেট মহানগর পুলিশের (এসএমপি) বন্দরবাজার ফাঁড়িতে পুলিশের নির্যাতনে রায়হান উদ্দিনের (৩৫) মৃত্যুর ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের বিচারের সম্মুখীন হতে হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।


বুধবার (১৪ অক্টোবর) সচিবালয়ে নিজ দফতরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা জানান।


সিলেটের বন্দরবাজার ফাঁড়িতে পুলিশের নির্যাতনে রায়হান উদ্দিনের মৃত্যুর বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সিলেটের ঘটনাটি এখন তদন্তে রয়েছে। সেখানে যে ঘটনাটি ঘটেছে তা মিডিয়ায় প্রচার হয়েছে। আমরাও দেখেছি। কোতোয়ালি থানাধীন কাস্টঘর এলাকা থেকে রায়হানকে ধরে আনা হয়েছিল। হঠাৎ করে সকাল ৬টার দিকে অসুস্থ বোধ করলে তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।’


তিনি বলেন, ‘তার ময়নাতদন্ত হচ্ছে কিংবা হবে- সেই অনুযায়ী এবং তার স্ত্রী যে মামলা করেছেন সবগুলো আমলে নিয়ে সুষ্ঠু তদন্ত হবে। তদন্ত অনুযায়ী অবশ্যই দায়ীদের বিচারের সম্মুখীন হতে হবে। এ বিষয়ে পিবিআইকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। পিবিআই যাতে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের চিহ্নিত করতে পারে।’


মঙ্গলবার ঢাকার নবাবগঞ্জ থানা হাজতের টয়লেট থেকে হত্যা মামলার আসামি মো. মামুন হোসেনের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। পরিবারের দাবি তাকে হত্যা করা হয়েছে।


এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আসামি বাথরুমে গিয়ে নিজের লুঙ্গি দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। এটা ভালো করে তদন্তের মাধ্যমে আমরা দেখব। হাজতখানার ভেতরে সে কীভাবে মারা গেল সেটা দেখার বিষয়। দেখার বিষয় কেন সে আত্মহত্যা করল, তাকে কেউ প্ররোচিত করেছে কিনা! সবগুলোই আমরা দেখব। ৩৫ বছর বয়স্ক এক নারীর লাশ পাওয়া গেছে, যিনি আত্মহত্যা করেছেন, এর মধ্যে পারিবারিক গন্ধও পাওয়া যাচ্ছে। কাজেই আমরা কিছু বলার আগে তদন্তটা শেষ হোক তারপর সব কিছু জানানো হবে।’


আইন সংশোধন করে ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ড করা হয়েছে। কিন্তু মামলার তদন্ত, চার্জশিট দিতে বিলম্বের কারণে বিচারে দীর্ঘসূত্রতা হয়- এ বিষয়ে আসাদুজ্জামান খান বলেন, ‘আপনারা বলছিলেন ধর্ষণ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে। আমরা কয়েকটি ঘটনাও দেখেছি। কয়েকটি দুর্ঘটনা এমনভাবে ঘটেছে যে এটা সবার চোখে পড়েছে। সেজন্যই প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড করা হয়েছে। বিচারের ব্যবস্থাটা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে নয়। বিচার বিভাগ সম্পূর্ণ স্বাধীন। বিচার সুষ্ঠু হওয়ার জন্য যেটা প্রয়োজন সঠিক তদন্ত, সেটা আমাদের। আমাদের যেটা করার আমরা করছি।’


তিনি বলেন, ‘পুলিশ তদন্তের পর আমরা নানাভাবে এগুলো দেখি। কোনো কোনো ক্ষেত্রে যদি আমরা মনে করি সঠিকভাবে তদন্ত করার জন্য পিবিআইকে দেয়া উচিত, আমরা সেই কাজটিও করছি। মোট কথা তদন্ত যতখানি নিরপেক্ষভাবে করা যায়, সে কাজটিই আমরা করছি, সেই কাজটিই আমরা করব। তাড়াতাড়ি বিচার হওয়ার বিষয়টি আমাদের হাতে নয়। আদালত সিদ্ধান্ত নেবেন। তারাও আপনাদের জানিয়েছেন, এসব ক্ষেত্রে তারা বিচারের ব্যবস্থা তাড়াতাড়ি করবেন।’


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এসিড নিক্ষেপ একটা রেগুলার প্র্যাকটিসের মতো হয়ে গিয়েছিল। এক্ষেত্রে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করলাম। একটি দুটি রায়ও যখন ঘোষিত হলো, সেই জায়গাটিতে কিন্তু কমে গেছে। আমরা সেটাই মনে করি সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান মৃত্যুদণ্ড হোক এবং এটা কমে যাক। এ নির্যাতন থেকে নারীরা যাতে মুক্ত হয় সেজন্য এ ব্যবস্থাটা করা হয়েছে।’

  • সর্বশেষ - জাতীয়