ময়মনসিংহ, , ১১ কার্তিক ১৪২৭ অনলাইন সংস্করণ

হৃদয়ের কাছে মুশফিকই সবচেয়ে বড় আশা-ভরসার স্থল

  স্পোর্টস ডেস্ক

  প্রকাশ : 

হৃদয়ের কাছে মুশফিকই সবচেয়ে বড় আশা-ভরসার স্থল

এবারের বিসিবি প্রেসিডেন্টস কাপে এখন পর্যন্ত তিনটি হাফ সেঞ্চুরি হয়েছে। যার তিনটিই হয়েছে নাজমুল হোসেন শান্ত আর মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ একাদশের ম্যাচে।


আসরের প্রথম হাফ সেঞ্চুরিয়ান হলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ১১ অক্টোবর শেরে বাংলায় নাজমুল হোসেন শান্তর দলের বিপক্ষে প্রথম হাফ সেঞ্চুরি করেছেন রিয়াদ বাহিনীর অধিনায়ক নিজে। কিন্তু তার সে হাফ সেঞ্চুরি কাজে আসেনি। অধিনায়ক রিয়াদের হাফ সেঞ্চুরি আর অভিজ্ঞ ইমরুল কায়েসের ৪০ রানের ইনিংস দুটির ওপর ভর করে ১৯৬ রানের মাঝারি স্কোর গড়েও কুলিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি।


জোড়া অর্ধশতক উপহার দিয়ে দল জিতিয়েছেন দুই তরুণ তৌাহিদ হৃদয় আর ইরফান শুক্কুর। তাদের ১০৫ রানের জুটির ওপর ভর করে ৪ উইকেটের ব্যবধানে জয় পায় নাজমুল হোসেন শান্তর দল। ৬২ বলে ৫২ রানের ম্যাচ জেতানো ইনিংস খেলে ম্যাচ সেরা তৌহিদ হৃদয়।


ছিলেন বিশ্ব যুব ক্রিকেটে শিরোপা বিজয়ী জুনিয়র টাইগারদের অন্যতম ব্যাটিং নির্ভরতা। বিসিবি প্রেসিডেন্টস কাপেও নিজ দলের হয়ে প্রথম ম্যাচে তৌহিদ হৃদয় খেলেছেন এক বুক সাহস ও অবিচল আস্থায়। স্লো উইকেট আর প্রতিপক্ষ বোলারদের মাপা বোলিং- কোনোটাই তার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। দলকে জয়ের খুব কাছে নিয়ে তারপর আউট হন হৃদয়।


আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) তামিম বাহিনীর বিপক্ষে খেলার আগে তাই তৌহিদ হৃদয় আলোচনায়। অনেকদিন পর মাঠে ফেরা এবং রান করা- দুটি সুখময় অনুভুতি তার মধ্যে। হৃদয় তাই চনমনে।


তার ভাষায়, ‘আলহামদুলিল্লাহ, অনেক ভালো লাগছে। অনেক সময় পর আমরা মাঠে ফিরেছি এবং এ রকম একটা বড় টুর্নামেন্ট ভালো খেলতে পেরেছি প্রথম ম্যাচটা।’


তবে মানছেন শুরুতে নার্ভাস ছিলেন। ‘একটু নার্ভাস ছিলাম। যেহেতু অনেক দিন পর একটা ভালো সুযগ এসেছে। চেষ্টা করছি কিভাবে কাজে লাগানো যায় ম্যাচগুলো। তবে লক্ষ্য-পরিকল্পনা সফল হওয়ার একটা অন্যরকম ভাললাগাও আছে ভিতরে। যে প্ল্যান নিয়ে নেমেছি সেটা প্রয়োগ করতে পেরে ভালো লাগছে।’


প্রথম ম্যাচে দল জেতানো ব্যাটিং আর পুরস্কার হিসেবে ম্যাচ সেরা পারফরমার, এরপরও তৌহিদ হৃদয় তাকিয়ে অগ্রজপ্রতিম মুশফিকুর রহীমের দিকে। তার আশা, জায়গামত মুশফিক ভাই’ই হবেন ত্রাতা এবং তিনি আছেন বলেই পুরো দল বাড়তি আত্মবিশ্ববাসী।


মিস্টার ডিপেন্ডেবল মুশফিককে নিজ দলের প্রধান ব্যাটিং স্তম্ভ হিসেবে মূল্যায়ন করে হৃদয় বলেন, ‘আমাদের দলে বাংলাদেশের সবচেয়ে অভিজ্ঞ ও ভালো ব্যাটসম্যান মুশফিক ভাই আছে। উনি বাংলাদেশের ডিপেন্ডেবল খ্যাত, উনি দলে থাকা মানে আমরা বাড়তি আত্মবিশ্বাস পাই। আশা করি মুশফিক ভাই তাড়াতাড়ি ভালো ইনিংস খেলবেন। উনাকে নিয়ে বলার কিছু নাই। যেহেতু বড় প্লেয়ার। বড় ম্যাচেই রান করবেন, ইনশাআল্লাহ আমরাও ভালো কিছু করবো।’


নিজ দলের গ্রাউন্ড ফিল্ডিংটাকে বড় শক্তি হিসেবে অভিহিত করে হৃদয় বলেন, ‘আমাদের দলের সবচেয়ে ভালো দিক যদি বলি তাহলে ফিল্ডিংটা অনেক ভালো। সবাই অনেক অ্যাক্টিভ থাকে। সবাই নিজের সেরাটা দিয়ে বল সেভ করার চেষ্টা করে। আর সবাই নিজের দিকটায় অনেক সচেতন, আমাদের দলটা অনেক তরুণ।’


বৃহস্পতিবারের ম্যাচ তামিম একাদশের বিপক্ষে। ওই ম্যাচসহ সব খেলাকে চ্যালেঞ্জিং বলে মন্তব্য হৃদয়ের। তিনি বলেন, ‘তারা (তামিম বাহিনী) অনেক কঠিন দল, মোস্তাফিজ ভাই আছে অনেক ভালো ভালো বোলার আছে ওখানে। আসলে আমরা আমাদের নিজের দিকটাই ফোকাস রাখছি। আশা করি নিজেরা মাঠে গিয়ে প্রয়োগ করতে পারবো। আমাদের যে ভুলগুলো হয়েছে টপ অর্ডারে ও ছোট ছোট ভুলগুলো পরের ম্যাচে কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করবো।’

  • সর্বশেষ - খেলাধুলা