ময়মনসিংহ, , ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ অনলাইন সংস্করণ

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রয়াণ দিবস আজ

  সাহিত্য ডেস্ক

  প্রকাশ : 

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রয়াণ দিবস আজ

ফাইল ছবি

প্রথিতযশা বাঙালি সাহিত্যিক সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রয়াণ দিবস আজ। ২০১২ সালের ২৩ অক্টোবর হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে কলকাতার নিজ বাড়িতে পরলোক গমন করেন নন্দিত এ কথাশিল্পী। মৃত্যুর পূর্ববর্তী চার দশকজুড়ে তিনি ছিলেন বাংলা সাহিত্যের অন্যতম পুরোধা ব্যক্তিত্ব।


সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় ১৯৩৪ সালের ৭ সেপ্টেম্বর মাদারীপুরে কালকিনি উপজেলার কাজীবাকাই গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। চার বছর বয়সে তিনি কলকাতায় যান। ১৯৫৩ সাল থেকে তিনি কৃত্তিবাস কবিতা পত্রিকার সম্পাদনা শুরু করেন। ১৯৫৮ সালে প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘একা এবং কয়েকজন’ প্রকাশিত হয়।


তার বইয়ের সংখ্যা দুই শতাধিক। সাহিত্যের বিভিন্ন ক্ষেত্রে তার সাবলীল বিচরণ থাকলেও কবিতার প্রতিই ছিল তার বেশি টান। কবিতাকে তিনি বর্ণনা করেছেন তার ‘প্রথম ভালোবাসা’ হিসেবে। কবিতাতে কাহিনি বর্ণনার ক্ষেত্রে তার একটি স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য ছিল।


তার উল্লেখযোগ্য কবিতার মাঝে রয়েছে- হঠাৎ নীরার জন্য, ভোর বেলার উপহার, সাদা পৃষ্ঠা তোমার সঙ্গে, সেই মূহুর্তে নীরা, আমার স্বপ্ন, জাগরণ হেমবর্ণ, আমি কিরকম ভাবে বেঁচে আছি, ভালোবাসা খণ্ডকাব্য ইত্যাদি।


সুনীলকে অনেক পাঠক চেনেন একজন উপন্যাসিক হিসেবে। তার প্রথম উপন্যাসের নাম ‘আত্মপ্রকাশ’। ১৯৬৫ সালে দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হওয়া এ উপন্যাস একই সঙ্গে আরেকটি কারণেও উল্লেখযোগ্য। কারণ, দেশ পত্রিকায় এ উপন্যাসের আগে কখনই কোনো নবীণ লেখকের লেখা প্রকাশিত হয়নি।


তার আরও কয়েকটি উপন্যাস হচ্ছে- জমজ কাহিনি, অচেনা মানুষ, ছায়া দর্শন, মধু কাহিনি, আমার স্বপ্ন, আঁধার রাতের অতিথি, অন্য জীবনের সাধ, স্বপ্ন সম্ভব, সুনীলের সাত দিন, রাণী ও অবিনাশ ইত্যাদি।



এরপরই প্রকাশিত হয় তার ইতিহাস নির্ভর উপন্যাস সেই সময়। পলাশীর যুদ্ধ থেকে ১৯০০ সাল পর্যন্ত ইতিহাসের সব বিখ্যাত চরিত্র আর ঘটনা জীবন্ত হয়ে ওঠে এ উপন্যাসে। এটা দুই দশক ধরে সর্বাধিক বিক্রিত বইয়ের একটি ছিল।


১৯৮৫ সালে এ উপন্যাসের জন্য তিনি ‘সাহিত্য আকাদেমি’ পুরস্কার লাভ করেন। একইভাবে তার অন্য দুই উপন্যাস ‘প্রথম আলো’ ও ‘পূর্ব-পশ্চিম’ সর্বাধিক পাঠকপ্রিয়তা পায়।


তিনি ১৯৮২ সালে পান ‘বঙ্কিম পুরস্কার’, আর ১৯৭২ ও ১৯৮৯- এই দু’বছর ভূষিত হন ‘আনন্দ পুরস্কার’ এ।


উপন্যাস ছাড়াও সুনীল ভ্রমণ কাহিনি, শিশুতোষ গল্প ও প্রবন্ধ লিখেছিলেন। তার সাহিত্যিক ছদ্মনাম ছিল নীল লোহিত, সনাতন পাঠক আর নীল উপাধ্যায়। শিশুতোষ গল্পগুলোর মধ্যে তার ‘কাকাবাবু’ সিরিজ সর্বাধিক জনপ্রিয়তা পায়। ১৯৭৪ সালে প্রথম প্রকাশিত হবার পর থেকে ‘কাকাবাবু’ সিরিজের ৩৫টি গল্প প্রকাশিত হয়েছে।


সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় লিখে গিয়েছেন বেশ কয়েকটি নাটক-মালঞ্চমালা, প্রাণের প্রহরী, রাজা-রাণী ও রাজসভায় মাধবী এবং স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতাজী।


সুনীলের সাহিত্যকর্ম থেকে তৈরি হয়েছে বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্র। সত্যজিৎ রায় নির্মাণ করেছিলেন ‘প্রতিদ্বন্দ্বী’ ও ‘অরণ্যের দিন রাত্রি’ নামে দুটি চলচ্চিত্র। ‘কাকাবাবু’ সিরিজের গল্প নিয়ে তৈরি হয়েছে চারটি সিনেমা- সবুজ দ্বীপের রাজা, কাকাবাবু হেরে গেলেন? এক টুকরো চাঁদ, মিশর রহস্য।

  • সর্বশেষ - সাহিত্য