ময়মনসিংহ, , ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ অনলাইন সংস্করণ

অবশেষে কারাগারেই ঠাঁই হলো ভুয়া ম্যাজিস্ট্রেটের

অবশেষে কারাগারেই ঠাঁই হলো ভুয়া ম্যাজিস্ট্রেটের

কারাগারে এসেছিলেন একজন কয়েদীকে দেখতে। নিজেকে ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয় দিয়ে জোর করে ভেতরে প্রবেশ করতেও চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু শেষে ধরা পড়ে কারাগারেই ঠাঁই হলো তার।


ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয় দেয়া মো. জুয়েল খান (৩৬) সদর উপজেলার সাতপাটি গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে।


নেত্রকোনা জেলা কারাগার ও প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, জুয়েল মিয়া বৃহস্পতিবার বিকেলে নেত্রকোনা জেলা কারাগারের ফটকে এসে কারারক্ষীদের কাছে নিজেকে ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে পরিচয় দেন। তিনি তার পরিচিত এক কয়েদীকে দেখতে ভেতরে প্রবেশ করতে চান। এ সময় কারারক্ষী তাকে বাধা দেন।


পরে তিনি চড়াও হয়ে কারারক্ষীকে দেখে নেয়ার হুঁমকি দেন। এ সময় জেলা কারাগারের সুপার আব্দুল কুদ্দুস এসে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি নিজেকে বিসিএস ৩৫তম ব্যাচের কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দেন। বর্তমানে ঢাকা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে কর্মরত বলে জানিয়ে একটি ভিজিটিং কার্ডও ধরিয়ে দেন।


বিষয়টি সন্দেহ হলে জেলা সুপার তার কক্ষে জুয়েল খানকে বসিয়ে রেখে নেত্রকোনার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. আব্দুল্লাহ আল মাহমুদকে বিষয়টি অবহিত করেন। পরে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এসে জিজ্ঞাসাবাদ করলে জুয়েল খান তখন ঢাকার ধামরাইয়ের অ্যাসিলেন্ড হিসেবে পরিচয় দেন।


এ সময় সেখানে খোঁজ নিলে বিষয়টি স্পষ্ট হয় এবং জুয়েল খানকে পুলিশ আটক করে নেত্রকোনা মডেল থানায় নিয়ে যায়।


পরে ডেপুটি জেলার সিরাজুল সালেদিন বাদী হয়ে সন্ধ্যায় জুয়েলের নামে প্রতারণার মামলা করেন। শুক্রবার সকালে পুলিশ তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়।


নেত্রকোনা জেলা কারাগারের সুপার আব্দুল কুদ্দুস বলেন, জুয়েল খান নামের ওই যুবক নিজেকে কখনো অ্যাসিলেন্ড, কখনো ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয় দিয়ে প্রতারণা করে আসছিলেন। বৃহস্পতিবার তিনি ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয় দিয়ে জোর করে কারাগারে প্রবেশ করতে চাচ্ছিলেন। পরে পুলিশ তাকে আটক করে। আদালতের নির্দেশে কিছুক্ষণ আগে তাকে কারাগারে রাখা হয়েছে।

  • সর্বশেষ - মহানগর