ময়মনসিংহ, , ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৭ অনলাইন সংস্করণ

মাদকসহ কনস্টেবল ধরা, ডোপ টেস্ট করা হবে থানার সবার

  নিজস্ব প্রতিবেদক

  প্রকাশ : 

মাদকসহ কনস্টেবল ধরা, ডোপ টেস্ট করা হবে থানার সবার

পাবনার ঈশ্বরদী রেলওয়ে থানার সব পুলিশ সদস্যের ডোপ টেস্ট করা হচ্ছে। রেলওয়ে থানার এক কনস্টেবল মাদক নিয়ে ধরা পড়ায় এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। রেলওয়ে পাকশী বিভাগের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাইম উল ইসলাম রোববার (৮ নভেম্বর) রাতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।


পাকশী রেল বিভাগ সূত্রে জানা যায়, রেলওয়ে পাকশী বিভাগীয় পুলিশ সুপার কার্যালয় ও ঈশ্বরদী রেলওয়ে থানার সব পুলিশ সদস্যকে ডোপ টেস্টের আওতায় আনা হচ্ছে। এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে ঈশ্বরদী রেলওয়ে থানা পুলিশের এক কনস্টেবল (কম্পিউটার অপারেটর) নাইম হোসেনের ব্যক্তিগত বাক্স থেকে ২৫ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করার পর। মাদকের সঙ্গে জড়িত থাকার অপরাধে কনস্টেবল নাইমের বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলা করা হয়েছে। তাকে গ্রেফতার করে এরই মধ্যে পাবনা জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।


রেলওয়ে পাকশী বিভাগীয় পুলিশ সুপার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত বুধবার (৪ নভেম্বর) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাজশাহী থেকে ঢালারচর অভিমুখী ‘ঢালারচর এক্সপ্রেস’ ট্রেনে অভিযান চালিয়ে ২৬৪ বোতল ফেনসিডিলসহ দুই মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করে রেল পুলিশ। এরপর ঈশ্বরদী রেলওয়ে থানা পুলিশ ২৬৪ বোতল ফেনসিডিলসহ দুই মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। পুলিশ কনস্টেবল নাইম ২৬৪ বোতল ফেনসিডিলের মধ্যে থেকে ২৫ বোতল সুকৌশলে নিজের জন্য লুকিয়ে ফেলেন। তিনি সেটি রাখেন তার ব্যক্তিগত বাক্সে। এরপর গ্রেফতার দুই মাদক ব্যবসায়ীকে ২৩৯ বোতল ফেনসিডিলসহ আদালতে পাঠানো হয়।


এদিকে ফেনসিডিল লুকিয়ে রাখার বিষয়টি দেখে ফেলেন কনস্টেবল নাইমের এক সহকর্মী। তিনি পাকশী রেলওয়ে পুলিশ সুপার শাহাব উদ্দিনকে বিষয়টি জানান। তখন পুলিশ সুপার শাহাব উদ্দিনের নির্দেশে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাইম উল ইসলাম বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ঘটনাস্থলে গিয়ে কনস্টেবল নাইমের ব্যক্তিগত বাক্স থেকে ২৫ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করেন। একই সঙ্গে নাইমকে আটক করে রাতভর জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে তার বিরুদ্ধে থানায় মাদক আইনে মামলা করে শুক্রবার (৬ নভেম্বর) শুক্রবার কারাগারে পাঠানো হয়।


রেলওয়ের পাকশী বিভাগীয় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নাইম উল ইসলাম জানান, মাদকের ব্যাপারে রেলওয়ে পুলিশের ডিআইজিসহ সবাই জিরো টলারেন্স নীতিতে রয়েছেন। মাদক বা মাদকসেবীর সঙ্গে কোনো আপস নেই। কনস্টেবল নাইম মারাত্মক অপরাধ করেছেন।


তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় গোটা রেলওয়ে পুলিশ বিব্রতকর অবস্থায় পড়েছে। তাই পুরো রেলওয়ে পুলিশকে মাদকমুক্ত রাখতে খুব শিগগিরই তাদের ডোপ টেস্টের আওতায় আনা হবে।


  • সর্বশেষ - সারাদেশ