ময়মনসিংহ, , ১৯ ফাল্গুন ১৪২৭ অনলাইন সংস্করণ

ফসলের মাঠে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি এঁকেছেন যিনি

ফসলের মাঠে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি এঁকেছেন যিনি

সম্প্রতি বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ফসলের মাঠে লালশাক ও সরিষাশাক দিয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, স্মৃতিসৌধ, নৌকা, শাপলা ও মুজিব শতবর্ষের প্রতিকৃতি কৃষক আব্দুল কাদিরের সৃষ্টি না। ওই প্রতিকৃতি মাজহারুল ইসলাম নামে এক চিত্রশিল্পী এঁকেছেন বলে জানা গেছে।

চিত্রশিল্পী মো. মাজহারুল ইসলাম ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার আঠারবাড়ি বাজারের এমার্ট আর্ট’র একজন চিত্রশিল্পী। তিনি নিজের হাতে ময়মনসিংহ জেলার ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার পাড়া খালবলা গ্রামের কৃষক আব্দুল কাদিরের ফসলের মাঠে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, স্মৃতিসৌধ, নৌকা, শাপলার প্রতিকৃতির আঁকেন। পরে আর্ট করা অংশে তার দেখানো মতে লালশাক ও সরিষাশাকের বীজ বপন করলে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, স্মৃতিসৌধ, নৌকা, শাপলা ও মুজিব শতবর্ষ ফসলের জমিতে ফুটে ওঠে।

চিত্রশিল্পী মো. মাজহারুল ইসলাম ফসলের মাঠে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি আঁকছেন এমন একটি ভিডিও চিত্র হাতে এসেছে। ওই ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, আব্দুল কাদিরের চাষ করা জমিতে মাজহারুল ইসলাম জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, স্মৃতিসৌধ, নৌকা ও শাপলা তৈরির প্রাথমিক আর্ট জমিতে তৈরি করছেন। এ সময় কৃষক আব্দুল কাদিরসহ স্থানীয়রা ফসলের মাঠে চিত্রশিল্পী মাজহারুল ইসলামের আঁকা প্রতিকৃতির কাজ দাঁড়িয়ে দেখছেন।

jagonews24

এদিকে মাজহারুল ইসলাম গত ১৫ ডিসেম্বর ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক বরাবর কৃষক আব্দুল কাদিরের বিরুদ্ধে ভুল তথ্য প্রদান প্রসঙ্গে একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন বলেও দাবি করেন তিনি। যদিও ওই অভিযোগে জেলা প্রশাসকের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর রিসিভ করার কোনো স্বাক্ষর নেই।

ওই অভিযোগে মাজহারুল ইসলাম অভিযোগ করেন, গত ১ ডিসেম্বর ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার পাড়াখালবলা গ্রামের কৃষক আব্দুল কাদিরের কৃষি ফসলের মাঠে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, স্মৃতিসৌধ, নৌকা, শাপলা ও মুজিব শতবর্ষের প্রতিকৃতি তিনি তার সহকারী সাদেককে নিয়ে নিজের হাতে তৈরি করেছেন।

ওই সময়ের ছবি ও ভিডিও তার হাতে আছে উল্লেখ্য করে লেখেন, কিন্তু কৃষক আব্দুল কাদির তার তৈরি করা প্রতিকৃতি নিজের নামে বিভিন্ন গণমাধ্যমে চালিয়ে দিচ্ছেন।

এ বিষয়ে চিত্রশিল্পী মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, আঠারবাড়ি বাজারের এমার্ট আর্টে নৌবাহিনীতে কর্মরত জহিরুল ইসলাম ছোটন নামে একজন নিয়মিত চলাফেরা করতেন। সেই সুবাদে জহিরুল ইসলাম তাকে (মাজহারুল ইসলাম) কৃষক আব্দুল কাদিরের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন।

এরই প্রেক্ষিতে কৃষক আব্দুল কাদিরের কৃষি জমিতে বিনা পারিশ্রমিকে মাজহারুল ইসলাম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, স্মৃতিসৌধ, নৌকা, শাপলা ও মুজিব শতবর্ষ প্রতিকৃতি আঁকেন। পরে তার দেখানো মতে লালশাক ও সরিষাশাকের বীজ বপন করলে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি তৈরি হয়।

Mymensing-0

কৃষক আব্দুল কাদির

তখন আব্দুল কাদিরের সঙ্গে তার কথা ছিল, যদি এই চিত্রকর্ম মিডিয়ায় আসে তাহলে তাকে নিয়ে প্রকাশ করবেন। কিন্তু আব্দুল কাদির তা না করে আমার চিত্র কর্ম তার নিজের নামে চালিয়ে দেন।

পরে বিষয়টি আমি টেলিভিশন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখে আব্দুল কাদিরের সঙ্গে দেখা করলে সে আমার সঙ্গে বিভিন্ন তালবাহানা করে।

এ বিষয়ে কৃষক আব্দুল কাদিরের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি খুব অসুস্থ। এ বিষয়ে আমি এখন কিছু বলতে পারব না। পরে কথা হবে বলে তিনি সংযোগ কেটে দেন।

প্রসঙ্গত, গত ১৪ ডিসেম্বর ময়মনসিংহ জেলার ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার পাড়া খালবলা গ্রামের কৃষক আব্দুল কাদিরের কৃষি ফসলের মাঠে লালশাক ও সরিষাশাক দিয়ে তৈরি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, স্মৃতিসৌধ, নৌকা, জাতীয় ফুল শাপলা ও মুজিব শতবর্ষ আঁকা ছবি ফেসবুকে ভাইরাল হয়। পরে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে এগুলো আব্দুল কাদির ও পাড়াখালবলা ক্লাবের তৈরি বলে প্রচার হয়। এরপর থেকেই আব্দুল কাদিরকে বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ নগদ টাকায় পুরস্কৃত করার ঘোষণা দেন।

  • সর্বশেষ - ময়মনসিংহ অঞ্চল