ময়মনসিংহ, , ১৫ ফাল্গুন ১৪২৭ অনলাইন সংস্করণ

প্রামাণ্যচিত্রে মুক্তিযোদ্ধা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর জীবন

  নিজস্ব প্রতিবেদক

  প্রকাশ : 

প্রামাণ্যচিত্রে মুক্তিযোদ্ধা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর জীবন

মা, মাটি ও মানুষ- জীবনে এই তিন নিয়েই চলেন মুক্তিযোদ্ধা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। দশ ভাই বোনের মধ্যে সবার বড় জাফরুল্লাহ চৌধুরী। তাই পরিবারে বড় ভাই নামে পরিচিত। পরিবারের গন্ডি ছাড়িয়ে তিনি গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রেরও বড় ভাই নামে পরিচিত। দেশের সেবায় ট্রাস্টি বোর্ড করে ১৯৭২ সালে সাভারে গড়ে তুলেছিলেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র।


শৈশবে মা তাকে শিখিয়েছিলেন গরীব মানুষকে সহায়তা করতে। কারণ উনিশশো তেতাল্লিশের মন্বন্তরের সময় তার মা অগনিত মানুষের দুঃখ দুর্দশা দেখেছেন। ঢাকা মেডিকেল কলেজে পড়ার সময় তিনি ছাত্র ইউনিয়নের তুখোড় ছাত্রনেতা ছিলেন। তখনকার জনপ্রিয় এই ছাত্রনেতা মেডিকেলের সাধারণ শিক্ষার্থীদের অধিকার নিয়ে বরাবরই সোচ্চার ছিলেন।


যে কারণে কলেজ কর্তৃপক্ষ এবং পূর্ব পাকিস্তানের প্রশাসন নানাবিধ মামলায় জড়ায় তাকে। একসময় আউয়ূব খানের সামরিক শাসক তার জীবনকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে। তাই সামরিক শাসকের চোখে ধূলি দিয়ে তিনি লন্ডনে চলে আসেন। সেখানে শুরু হয় আরেক সংগ্রামী জীবন। লন্ডনে অল্পদিনের মধ্যেই দক্ষ তরুণ সার্জন হিসেবে নাম করেন।


বাংলাদেশে এরইমধ্যে শুরু হয়ে যায় মুক্তিযুদ্ধ। তখন ব্রিটিশ সরকার রাষ্ট্রহীন নাগরিক হিসেবে তাকে একটি ছাড়পত্র দিলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে বন্ধু ডা. মুবিনকে নিয়ে ভারতে যান। ভারতে আগরতলার বিশ্রামগঞ্জ এলাকায় যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বাংলাদেশ ফিল্ড হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা হয়েছিল ক্যাপ্টেন আখতার ও দুই নম্বর সেক্টর কমান্ডার মেজর খালেদ মোশাররফের নেতৃত্বে। মুক্তিযুদ্ধের সময় এটি ছিলো বাংলাদেশ সরকারের একমাত্র ফিল্ড হাসপাতাল।


ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী ও ডা. মুবিন ভারতের কলকাতা থেকে সরাসরি চলে আসেন আগরতলার এই বিশ্রামগঞ্জ হাসপাতালে।মুক্তিযুদ্ধের সময় এই বিশ্রামগঞ্জ হাসপাতালে সেবিকা হিসেবে রেশমা, আসমা, ইরা কর, সুলতানা কামাল, খুকুসহ অনেকেই ডাক্তার জাফরুল্লাহ চৌধুরী ও ডা. মুবিনের সাথে কাজ করেছেন।


মুক্তিযুদ্ধ পরবর্তী বাংলাদেশে জাফরুল্লাহ চৌধুরী সাভারে প্রতিষ্ঠিত গণ-স্বাস্থ্য কেন্দ্রের উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ চালিয়ে যান। তিনি এ সময় লক্ষ্য করেন, গরীব মানুষ স্বাস্থ্য কেন্দ্রে চিকিৎসা নিতে এলেও ঔষধ কেনার সামর্থ থাকে না। তাই স্বল্পমূল্যে ঔষধ বিক্রির জন্য তিনি প্রতিষ্ঠা করেন গণ-স্বাস্থ্য ফার্মাসিউটিক্যাল ল্যাব। দেশে তখন কোন ঔষধনীতি ছিল না। ফলে ঔষধ কোম্পানিগুলো ইচ্ছে মত ঔষধের দাম নির্ধারণ করতো। তখন একটি ঔষধ নীতি প্রণয়নের জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সাথে ১৯৭৫ সালে আলোচনাও করেছিলেন তিনি। কিন্তু হঠাৎ করেই ১৫ই আগস্ট ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু স্বপরিবারে নিহত হলে ঔষধ নীতি প্রণয়নের কাজটি বন্ধ হয়ে যায়।


তবে পরবর্তীতে ১৯৮২ সালে ঔষধনীতি প্রণয়নে তৎকালীন এরশাদ সরকারকে বাধ্য করেছিলেন তিনি। বর্তমানে এই গণ-বিশ্ববিদ্যালয়ে আধুনিক বিজ্ঞান চর্চা ও গবেষণার বিষয় সহ মোট ৩৫টি বিষয়ের উপর উচ্চ শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে।


সর্বশেষ ২০২০ সালে বাংলাদেশ যখন মরণব্যাধি কভিড-১৯ নিয়ে দিশেহারা, তখন দেশের মানুষকে রক্ষা করতে করোনা ভাইরাস সনাক্ত করণের জন্য স্বল্পমূল্যে কিট আবিস্কার করে তার প্রতিষ্ঠান।


বর্তমানে দীর্ঘ কর্মময় জীবনের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে আছেন জাফরুল্লাহ। কিন্তু চিন্তা ও মননে এখনো যেন ২৫ বছরের যুবক। এ বয়সেও তাঁর লক্ষ্য একটি ক্যানসার হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা। যেখানে অতি সাধারণ মানুষ ক্যান্সারের চিকিৎসা নিতে পারবে। পুরাতন দেহ ত্যাগ করার পূর্বে আরাধ্য কাজ শেষ করে যেতে চান মুক্তিযোদ্ধা জাফরুল্লাহ চৌধুরী।


তার দীর্ঘ এই পথচলা নিয়ে তৈরি করা হয়েছে প্রামাণ্যচিত্র। এটি দীপ্ত টিভিতে প্রচার হবে ২০ ডিসেম্বর রাত ১১টায়।


কাজী মিডিয়া লিমিটেডের প্রযোজনায় প্রমাণ্যচিত্রটির গবেষণা, পান্ডুলিপি ও পরিচালনা করেছেন রঞ্জন মল্লিক। প্রযোজক ব্রাত্য আমিন ও নির্বাহী প্রযোজক আবু রেজওয়ান ইউরেকা।

  • সর্বশেষ - বিনোদন