ময়মনসিংহ, , ৮ বৈশাখ ১৪২৮ অনলাইন সংস্করণ

তাহলে পশ্চিম রেলের তেল চুরি করে কারা?

  নিজস্ব প্রতিবেদক

  প্রকাশ : 

তাহলে পশ্চিম রেলের তেল চুরি করে কারা?
দিন-দুপুরে লরিতে তেল লোড করার সময় হাতেনাতে ধরা পড়ে তিনজন

রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকা ওয়াগনে লরি ভিড়িয়ে দিন-দুপুরে তেল চুরি হচ্ছিল। লরিতে তেল লোড করার সময় সেখানে সরদার পেট্রোলিয়াম এজেন্সির মালিক রবিউল সরদারের ম্যানেজার রতন কুমার ভদ্র উপস্থিত ছিলেন বলে এ ঘটনায় করা মামলায় অভিযোগ করা হয়েছিল। রবিউলকেও এ মামলায় আসামি করা হয়। পরবর্তীতে তেল চুরির ঘটনায় সম্পৃক্ততা নেই জানিয়ে তাদেরকে অভিযোগপত্র থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়।

পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ে রেলের তেল চুরির ঘটনা নিয়মিত। কোনোভাবেই এটা বন্ধ হচ্ছে না। পাওয়ার কার, ডিপো ও রেলের ইঞ্জিন থেকে নিয়মিত তেল চুরির ঘটনা ঘটে।

তেল চুরির সঙ্গে স্টেশন মাস্টার, ডিপো ইনচার্জ, গার্ড, ট্রেনচালক ছাড়াও সক্রিয় একাধিক সিন্ডিকেট জড়িত আছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে মাঝে মাঝে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী (আরএনবি) ছাড়াও র‌্যাব তেল উদ্ধার ও মালামালসহ গ্রেফতার করা হলেও চোর সিন্ডিকেটের তৎপরতা বন্ধ হয়নি।

গত ২৩ এপ্রিল দুপুরে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে তেল চুরির ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে করা মামলার ৭ নম্বর আসামি ছিলেন রবিউল সরদার। কিন্তু মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) পরিদর্শক আহসান হাবীব এ ঘটনায় তার সম্পৃক্ততা খুঁজে পাননি জানিয়ে তাকে অব্যাহতি দেন।

যদিও এ কাণ্ডে গ্রেফতার রেলওয়ের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. আবুল হাসান তেল চুরিতে রবিউলের সম্পৃক্ততার বিষয়টি জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেন। কিন্তু স্বীকারোক্তি আমলে না নিয়েই রবিউলকে অভিযোগপত্র থেকে অব্যাহতি দেন আহসান হাবীব।

এদিন রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকা ওয়াগনে লরি ভিড়িয়ে তেল চুরির সময় হাতেনাতে ধরা পড়েন তিনজন। লরিতে তেল লোড করার সময় সেখানে রবিউল সরদারের ম্যানেজার রতন কুমার ভদ্র উপস্থিত ছিলেন। ঘটনাস্থলে থাকা সিসি ক্যামেরায় তার উপস্থিতিও পাওয়া যায়। কিন্তু তাকেও অভিযোগপত্র থেকে বাদ দিয়েছেন তদন্তকারী কর্মকর্তা।

প্রায় সাড়ে ১১ হাজার লিটার তেল চুরি হলেও অভিযোগপত্রে চুরি দেখানো হয়েছে ৬ হাজার ৯২৫ লিটার। যার মূল্য দেখানো হয়েছে ৪ লাখ ৫৪ হাজার ৫৫৭ টাকা। ঘটনা ধামাচাপা দিতে তেল চুরির মাত্র দুই দিনের মাথায় অভিযোগপত্র দাখিল করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে তড়িঘড়ি করে বদলি নিয়ে পাকশী আরএনবি ট্রেনিং সেন্টারে চলে যান তিনি।

আহসান হাবীবের বিরুদ্ধে কয়েক লাখ টাকা ঘুষ নিয়ে তেল চুরির মামলা থেকে রবিউল সরদার ও তার ম্যানেজারকে অব্যাহতি দেয়ার অভিযোগ ওঠে। পরে বিষয়টি অস্বীকার করেন তিনি।

আহসান হাবীবের দাবি, সরেজমিনে তদন্ত এবং অনুসন্ধানে যা পাওয়া গেছে অভিযোগপত্রে সেটিই উল্লেখ আছে। এ ঘটনায় সম্পৃক্ততা না থাকায় রবিউল সরদার ও রতন কুমার ভদ্রকে অভিযোগপত্র থেকে বাদ দেয়া হয়েছে।

jagonews24

রবিউল ইসলাম সরদার ও তার ম্যানেজার রতন কুমার ভদ্র

পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের চিফ কমান্ডেন্ট অফিসার আশাবুল ইসলাম বলেন, ঘটনাস্থলে লরির মালিক রবিউল ইসলাম উপস্থিত না থাকায় তাকে অভিযোগপত্রে আনা হয়নি। তার ম্যানেজার রতন কুমার ভদ্রকে কেন আনা হয়নি তা জানা নেই। এ সময় অভিযোগপত্র ‘বাস্তবসম্মত’ বলেও দাবি করেন চিফ কমান্ডেন্ট অফিসার। এছাড়া পরিদর্শক আহসান হাবীবের বদলি রুটিন অনুযায়ী হয়েছে বলেও দাবি তার।

তেল চুরিকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করে রবিউল ইসলাম সরদার দাবি করেন, এ ঘটনায় তার ন্যূনতম সম্পৃক্ততা নেই। সেদিন ঘটনাস্থলে তার ম্যানেজার রতন কুমার ভদ্রও উপস্থিত ছিলেন না। কেউ তার বিরুদ্ধে মিথ্যা দোষারোপ করছেন। তদন্তকারী কর্মকর্তাকে প্রভাবিত করার অভিযোগও অস্বীকার করেন রবিউল।

তবে তেল চুরিতে রবিউল সরদারের সম্পৃক্ততা স্বীকার করেন পশ্চিম রেলের চিফ ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার (সিইই) মো. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, তেল চুরির সম্পৃক্ততায় ট্যাংক লরি মালিকের বেরিয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কিন্তু এটি আরএনবির বিষয়, তাই এখানে আমাদের কোনো করণীয় নেই। তাছাড়া তেল চুরির বিষয়টি একটি বড় ঘটনা। এ জন্যই রেল কর্তৃপক্ষকে দ্রুত প্রতিবেদন দাখিল করতে হয়েছে।

  • সর্বশেষ - সারাদেশ