ময়মনসিংহ, , ১৫ ফাল্গুন ১৪২৭ অনলাইন সংস্করণ

শখ থেকেই শুদ্ধাহারের পথচলা

  নিজস্ব প্রতিবেদক

  প্রকাশ : 

শখ থেকেই শুদ্ধাহারের পথচলা

ইসরাত জাহান চৈতী

শুদ্ধাহার নাম শুনলেই কেমন বিশুদ্ধ আহার বা খাবারের কথা মনে হয়। ‘আহার হোক শুদ্ধ’ প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে বর্তমানের ভেজাল খাবারের ভিড়ে ঘরে তৈরি বিশুদ্ধ, হালাল ও মানসম্মত খাবারের জোগান দেয় শুদ্ধাহার। চাইলে এর যেকোনো খাবার পেতে পারেন ঘরে বসেই। এর মালিকের ইচ্ছা, ক্রেতাদের ভেজালমুক্ত খারাব পৌঁছে দেওয়া।

বলছি শুদ্ধাহারের মালিক আসিয়া আফরিন শিমির কথা। শিমি নামেই সর্বাধিক পরিচিত তিনি। বন্ধুমহল থেকে শুরু করে সব ক্ষেত্রে প্রাণচঞ্চল মানুষটি পড়ালেখা শেষ করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে। দেশে প্রচলিত সব চাকরি যেন টানতো না তাকে। চাকরি নির্বাচনে আছে নিজস্ব পছন্দ। তার ওপর করোনার হানা চাকরি পাওয়া যেন সোনার হরিণ সমতুল্য করে তুলেছে।

jagonews24

তাই ভাবলেন, ঘরে বসে চাকরি খোঁজার পাশাপাশি কিছু একটা করা যাক। যদিও অনেক আগে থেকেই ইচ্ছা ছিল কিছু একটা করবেন নিজ উদ্যোগে। তাই করোনার সংকটের এ সময়কে কাজে লাগান। চিন্তা করে দেখলেন, ছোট থেকেই রান্নার প্রতি প্রবল ঝোঁক তার। ভালোবাসেন রান্না করে খাওয়াতে। বেশি খুশি হন তার রান্না করা খাবার কেউ তৃপ্তি নিয়ে খেলে।

করোনার ভয়াল থাবায় যখন গৃহবন্দি দশা। হাপিয়ে উঠেছে জনজীবন। ঠিক তখনই শিমির হাত ধরে যাত্রা শুরু করলো শুদ্ধাহার নামের ভেজালমুক্ত ঘরে তৈরি খাবারের এক পেজ। শখ থেকে আয় করে যদি অন্য শখ পূরণ হয় তাহলে মন্দ কোথায়! এ ভাবনা থেকে কাজ শুরু। কোনো পূর্বপ্রস্তুতি ছাড়াই ১৭ সেপ্টেম্বর হঠাৎ পেজ খুলে যাত্রা শুরু করলো শুদ্ধাহার। শুরুতে ঘানিতে ভাঙা খাঁটি সরিষার তেল ও মসলা নিয়ে যাত্রা শুরু করেন। পরে যুক্ত করেন রান্না করা খাবারের আইটেম, আচার ও স্টিলের তৈরি গ্যাস ওভেন।

jagonews24

বর্তমানে পিৎজা, পাস্তা, বার্গার, মমো, মিষ্টি, পায়েসসহ সব ধরনের ফাস্টফুড জাতীয় খাবার ও আচার পাওয়া যায় তার পেজে। শিমির তৈরি স্টিলের গ্যাস ওভেন ইতোমধ্যে পৌঁছে গেছে দেশের ৩৪টি জেলায়। এ ছাড়া তার খাবারের গুণগত মান নিয়ে ক্রেতারা সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন বারবার। তাই তো তার ক্রেতাদের একটি বড় অংশ রিপিটেড ক্লায়েন্ট। বর্তমানে পুরো ঢাকা শহরে শুদ্ধাহারের খাবার পৌঁছে দিতে কাজ করছেন তিনি।

শুদ্ধাহারের বর্তমান পরিস্থিতি ও পেজটির নাম সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, অনেক ভালো সাড়া পাচ্ছি। শুরুতে ভাবিনি এত দ্রুত বেশি সংখ্যক লোকের কাছে পৌঁছে যাবে আমার রান্না করা খাবার। আর আমার পেজের নামটি বাবার দেওয়া। মূলত এতসব ভেজাল পণ্যের ভিড়ে মানুষের কাছে হালাল ও বিশুদ্ধ খাবার পৌঁছে দেওয়াকে উদ্দেশ্য করেই নামটি বেছে নেওয়া। এ ছাড়া খাবারের পরিচ্ছন্নতা ও মানের ব্যাপারে শুরু থেকেই যথেষ্ট সচেতন আমরা।’

jagonews24

এত সাড়া পাওয়ার পরও এ উদ্যোগ গ্রহণ করাতে শুনতে হয়েছে নানা জনের নানা ধরনের কথা। এত পড়াশোনার পর চাকরি না করে কেন করছেন এ ব্যবসা। এর ভবিষ্যৎ কী! যদি রান্না-বান্নাই করতে হয়, তাহলে পড়ালেখার কী দরকার ছিল ইত্যাদি প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয় তাকে। তবুও দমে যাননি তিনি। এর পেছনে বড় কারণ পরিবারের সাপোর্ট। পরিবারের প্রতিটি সদস্য শুরু থেকে বিভিন্নভাবে পাশে ছিলেন এবং আছেন। তাই তো আশেপাশের মানুষের কটাক্ষ শোনার পরও আপন গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে। ক্রেতাদের আস্থা ও ভরসার প্রতীক হয়ে উঠছে শিমির খাবারের পেজটি।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি জানান, শুদ্ধাহার নিয়ে বড় স্বপ্ন আছে তার। আপাতত ব্যস্ত আছেন শুদ্ধাহার নিয়েই। ভবিষ্যতে সামনে এগিয়ে যেতে চান। অন্যান্য পণ্যের পাশাপাশি তার তৈরি স্পেশ্যাল নলেন গুড়ের বিন্নি পায়েস আর মিষ্টি নিয়ে বহু দূর যাওয়ার ইচ্ছা। এটি পেজ থেকে একটি ব্র্যান্ডে পরিণত হবে। সারাদেশে ছড়িয়ে যাবে এর পণ্য- এমনই স্বপ্ন দেখেন শিমি।

লেখক: শিক্ষার্থী, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়।

  • সর্বশেষ - লাইফ স্টাইল