ময়মনসিংহ, , ১৫ ফাল্গুন ১৪২৭ অনলাইন সংস্করণ

জোড়া খুনের আসামি মেয়রপ্রার্থী!

  নিজস্ব প্রতিবেদক

  প্রকাশ : 

জোড়া খুনের আসামি মেয়রপ্রার্থী!

গুড়ার আদমদীঘির সান্তাহার পৌরসভা নির্বাচনে মেয়রপ্রার্থী বিএনপির বর্তমান মেয়র তোফাজ্জল হোসেন ভুট্টু জোড়া খুন মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি। আলোচিত সান্তাহার ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি শফিকুল ইসলাম ও অটোরিকশা শ্রমিক নেতা সোহরাব হোসেন সোহাগ হত্যা মামলার এ আসামি তৃতীয়বারের মতো নির্বাচনে অংশ নেয়ায় বিএনপির একাংশের নেতাকর্মীদের মাঝে ক্ষোভ ও হতাশার সৃষ্টি হয়েছে। দল থেকে প্রার্থিতা দেয়ায় কেউ প্রকাশ্যে মন্তব্য করলেও নাম প্রকাশ না করে একাধিক নেতাকর্মী ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।


দ্বিতীয় ধাপে ১৬ জানুয়ারি এ পৌরসভায় ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।


খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তোফাজ্জল হোসেন ভুট্টু ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর রাজনীতিতে সক্রিয় হন। এর আগে তিনি প্রবাসী ছিলেন। দলে আসার পর ভুট্টু পৌর এলাকার বিএনপির ৫ নম্বর ওয়ার্ড কমিটির সদস্য হন। যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী মামলার বর্তমান পলাতক আসামি বগুড়া-৩ আসনের বিএনপির সাবেক সাংসদ আব্দুল মোমিন তালুকদার খোকার সঙ্গে তার সখ্যতা বাড়ে। পরে তাকে ম্যানেজ করে গত ২০১১ সালের পৌরসভা নির্বাচনে প্রথমবারের মতো মনোনয়ন দৌড়ে সাবেক মেয়র ফিরোজ কামরুল হাসানকে পেছনে ফেলে প্রার্থিতা বাগিয়ে নেন ভুট্টু।


ওই নির্বাচনে ভুট্টু আওয়ামী লীগ প্রার্থী গোলাম মোরশেদকে পরাজিত করে মেয়র হন। বছর ঘুরতে না ঘুরতেই তিনি পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদকের পদ পান। তবে ওই কমিটি পরবর্তীতে বিলুপ্তি হওয়ায় এখন পর্যন্ত তিনি আহ্বায়ক কমিটির সদস্য রয়েছেন।


দ্বিতীয়বার গত ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর পৌর নির্বাচনে মেয়র পদে ফের মনোনয়ন দেয়া হয় ভুট্টুকে। সে নির্বাচনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী শ্রমিক লীগ নেতা রাশেদুল ইসলাম রাজাকে পরাজিত করে বিএনপি প্রার্থী তোফাজ্জল হোসেন ভুট্টু মেয়র হন।


২০১৬ সালের ৮ জানুয়ারি দুপুরে কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যা করা হয় আওয়ামী লীগ নেতা রাশেদুল ইসলাম রাজার মেজ ভাই সান্তাহার ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি শফিকুল ইসলামকে। হামলায় গুরুতর আহত অটোরিকশাচালক সোহরাব হোসেন দুদিন পর হাসপাতালে মারা যান। এ জোড়া খুনের মামলায় বিএনপি প্রার্থী ভুট্টুকে হত্যার পরিকল্পনাকারী হিসেবে আসামি করা হয়। পুলিশ তার বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দিয়েছে।


এরমধ্যে ২০১৬ সালের ১১ ডিসেম্বর সোহরাব হোসেন হত্যা মামলার চার্জশিট প্রদান করেন আদমদীঘি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শাহিন রেজা। এই মামলার বাদী হলেন নিহত সোহরাব হোসেনের বাবা আব্দুল খালেক শেখ। আদালতে দাখিল করা চার্জশিটে ৬ নম্বর আসামি হলেন তোফাজ্জল হোসেন ভুট্টু।


বিচারাধীন ওই মামলা থেকে বর্তমানে তিনি জামিনে রয়েছেন। এছাড়া অন্য মামলার বাদী হলেন নিহত শফিকুল ইসলামের বড় ভাই নুর ইসলাম। ২০১৬ সালের ২১ ডিসেম্বর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সান্তাহার পুলিশ ফাঁড়ির এসআই সিদ্ধার্থ সাহা আদালতে চার্জশিট প্রদান করেন। এই মামলাতেও ৬ নম্বর আসামি তোফাজ্জল হোসেন ভুট্টু।


সান্তাহার পৌর নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী (ধানের শীষ) বর্তমান মেয়র তোফাজ্জল হোসেন ভুট্টু জোড়া খুনের ঘটনায় তার বিরুদ্ধে চার্জশিট হওয়ার কথা নিশ্চিত করেন এসআই সিদ্ধার্থ সাহা। তিনি বলেন, মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলকভাবে হত্যা মামলায় তাকে আসামি করা হয়েছে। এ মামলায় তিনি জামিনে আছেন। আদালতের মাধ্যমেই তিনি সত্য প্রমাণ করবেন।


সান্তাহার পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক মেয়র ফিরোজ মো. কামরুল হাসান বলেন, ‘এবারও মনোনয়ন চেয়েছিলাম কিন্তু দল দেয়নি। যারা গতবার মেয়র ছিলেন বিএনপি এবার তাদেরই মনোনয়ন দিয়েছেন। ভুট্টু বিরুদ্ধে আদালতে মামলা থাকলেও দলের স্বার্থে তার জন্য কাজ করতে হচ্ছে।’


বগুড়া জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির যুগ্ম-আহ্বায়ক ফজলুল বারী তালুকদার বেলাল বলেন, ‘জেলা এবং কেন্দ্রের সিদ্ধান্তে মেয়র প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। ভুট্টুর বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আছে সেটি আদালতে বিচারাধীন। আদালত রায় দিলে পরবর্তীতে পদক্ষেপ নেয়া হবে।’

  • সর্বশেষ - সারাদেশ