ময়মনসিংহ, , ১৯ ফাল্গুন ১৪২৭ অনলাইন সংস্করণ

জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে রোগীর মৃত্যু নিয়ে তুলকালাম

জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে রোগীর মৃত্যু নিয়ে তুলকালাম

রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় চিকিৎসকের অবহেলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে রোগীর স্বজনের সঙ্গে চিকিৎসক ও ইন্টার্ন চিকিৎসকদের মধ্যে হাতাহাতি, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।


শুক্রবার (২৫ ডিসেম্বর) বিকেল ৩টায় জামালপুরের শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ক্যাম্পাসে এ ঘটনা ঘটে।


সংঘর্ষে ডা. চিরঞ্জিৎ, ডা. হাবিবুল্লাহ, কর্মচারী কিরন, রোগীর স্বজন শহিদুল্লাহ (৪০), জিহাদ (২০) ও সাইদুরসহ ১০ জন আহত হয়েছেন।


চিকিৎসক আহতের খবরে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। রোগীর স্বজনদের সঙ্গে তারা সংর্ঘষে জড়িয়ে পড়েন। দু’পক্ষের দফায় দফায় সংঘর্ষে হাসপাতাল ক্যাম্পাস রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পুলিশ লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।


এ সময় ঘটনাস্থল থেকে সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. লুৎফর রহমানসহ সাত ইন্টার্ন চিকিৎসককে আটক করে নিয়ে যায় সদর থানা পুলিশ। এ ঘটনায় রোগীর স্বজন ও হাসপাতালের চিকিৎসক-কর্মচারীদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।


নিহত রোগীর ভাতিজা সাইদুর বলেন, ‌‘শহরের ইকবালপুর জামে মসজিদে আমার চাচি করিমন নেছা (৫৫) জুমার নামাজ পড়তে যান। মসজিদের নির্মাণাধীন দ্বিতীয় তলায় দেয়াল ভেবে কাপড়ের পর্দায় হেলান দিতে গিয়ে নিচে পড়ে গুরুতর আহত হন। স্বজন ও স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেয়। পরে জরুরি বিভাগে ফেলে রাখা হয় তাকে।’


তিনি বলেন, ‘সময়ক্ষেপণ করে কর্তব্যরত চিকিৎসক চিরঞ্জিত ডক্টরস রুম থেকে বেরিয়ে এসে রোগী দেখে মৃত ঘোষণা করেন।সময়মতো রোগী দেখা এবং অক্সিজেন দিলে আমার চাচি মারা যেত না। হাসপাতাল থেকে ফেরার পথে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা আমার ওপর হামলা করে। আমাকে তারা মারধর করেছে। আমার মোটরসাইকেল ভাঙচুর করেছে।’


হাসপাতালের প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রোগী মৃত্যুতে চিকিৎসকের অবহেলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে জরুরি বিভাগে রোগীর স্বজন ও চিকিৎসক-কর্মচারীদের মধ্যে তর্কবিতর্ক শুরু হয়। এক পর্যায়ে হাসপাতাল ভাঙচুর, হাতাহাতি ও মারপিটের ঘটনা ঘটে। এ সময় ডা. চিরঞ্জিত, ইন্টার্ন ডা. হাবিবুল্লাহ, কর্মচারী কিরন, রোগীর স্বজন শহিদুল্লাহ ও জিহাদ আহত হন।


এ খবর ছড়িয়ে পড়লে রোগীর স্বজন ও ইন্টার্ন চিকিৎসকরা উপস্থিত হন। দু’পক্ষের মধ্যে ধাওয়া, পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ চলে দফায় দফায়। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে হাসপাতাল ক্যাম্পাস রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। উত্তেজিত ইন্টার্ন চিকিৎসকরা হামলা চালিয়ে রোগীর স্বজন সাইদুরকে বেধড়ক মারধর ও মোটরসাইকেল ভাঙচুর করেন। এ সময় পুলিশ লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।


ঘটনাস্থল থেকে সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. লুৎফর রহমানসহ সাত ইন্টার্ন চিকিৎসককে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। আটকের ঘণ্টাখানেক পর তাদের ছেড়ে দেয়া হয়।


এ বিষয়ে আহত কর্তব্যরত চিকিৎসক চিরঞ্জিত বলেন, ‘রোগীর মৃত্যুতে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ সঠিক নয়। আমি যথাসময়ে রোগীকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মৃত ঘোষণা করি। কিছু বুঝে না ওঠার আগেই রোগীর স্বজনরা আমার ওপর হামলা চালিয়ে ইমার্জেন্সির আসবাবপত্র ভাঙচুর করে।’


হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. ফেরদৌস হাসান বলেন, ‘চিকিৎসকের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগটি সঠিক নয়। দু’পক্ষের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝিতে অনাকাঙ্ক্ষিত এ ঘটনা ঘটেছে। আমরা সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করছি।’


জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম খান বলেন, ‘জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে একজন রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল। পরিস্থিতি শান্ত করতে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একজন চিকিৎসকসহ সাত ইন্টার্ন চিকিৎসককে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। কিন্তু কারো কোনো অভিযোগ না থাকায় আটকদের ছেড়ে দেয়া হয়েছে। বিষয়টি স্থানীয় নেতৃবৃন্দের মাধ্যমে সমঝোতা করা হয়েছে।’

  • সর্বশেষ - ময়মনসিংহ অঞ্চল