ময়মনসিংহ, , ১৯ ফাল্গুন ১৪২৭ অনলাইন সংস্করণ

‘জনসম্পৃক্ত প্রতিষ্ঠান বন্ধ হচ্ছে বিভিন্ন মহলের ইন্ধনে’

  নিজস্ব প্রতিবেদক

  প্রকাশ : 

‘জনসম্পৃক্ত প্রতিষ্ঠান বন্ধ হচ্ছে বিভিন্ন মহলের ইন্ধনে’

রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করা হচ্ছে। জনসম্পৃক্ত এসব প্রতিষ্ঠান বন্ধ হচ্ছে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন মহলের ইন্ধনে।


বলছিলেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন। চিনিকল বন্ধের যে সিদ্ধান্ত সরকার নিতে যাচ্ছে, তারই পরিপ্রেক্ষিতে মতামত জানতে চাওয়া হলে এ কথা বলেন তিনি।


সাবেক এ মন্ত্রী বলেন, আমরা যদি পাটশিল্পের ইতিহাস স্টাডি (পর্যালোচনা) করি, তাহলে দেখব রাষ্ট্র কীভাবে জনবিরোধী অবস্থান নিয়েছে। অথচ পাটের ওপরই দেশের অর্থনীতির ভিত দাঁড়িয়েছে। আমরা বারবার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান রক্ষার দাবি জানিয়েছি। সরকারগুলো জনগণের এ তাগিদ অনুভব করতে ব্যর্থ হয়েছে। অ্যালকোহল এবং স্পিরিট উৎপাদন করে যদি যথাযথ উপায়ে রফতানি করা যেত তাহলেও চিনিশিল্পের আজকের এই দুর্দশা হতো না। অথচ রফতানির ক্ষেত্রে ব্যাপক সম্ভাবনা ছিল চিনিশিল্পজাত এসব পণ্যের। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো পরিকল্পিতভাবে ধ্বংস করা হচ্ছে। জনসম্পৃক্ত এসব প্রতিষ্ঠান বন্ধ হচ্ছে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন মহলের ইন্ধনে।


বাম এ রাজনীতিক বলেন, চিনিশিল্প গড়ে উঠেছে এ দেশের মানুষের কৃষি ব্যবস্থার ওপর ভর করেই। উত্তরাঞ্চলে কৃষি এবং কৃষকের ভাগ্যোন্নয়নে চিনিকলগুলো দীর্ঘদিন থেকে কাজ করে আসছে। অথচ স্বাধীনতার পর থেকেই এসব কারখানার উন্নয়নে রাষ্ট্র অবহেলা করে আসছে। রাষ্ট্রের সঠিক সহযোগিতা পেলে চিনিকলগুলো বিশ্বমানের হতে পারতো। চিনি খাদ্যের মৌলিক উপাদান। হাজার হাজার টন চিনি বাইরে থেকে আমদানি করে চাহিদা পূরণ করা হয়। অথচ সরকার চাইলে সামান্য সহায়তা করেই চিনিশিল্পকে আধুনিক মানের করা যেত। সরকার দুর্বৃত্তায়নের কাছে জিম্মি। অথচ বিএনপি-জামায়াত সরকারের পথ অনুসরণ করবে না বলেই প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল। আমরা আদমজী জুট মিলের কান্না প্রত্যক্ষ করেছি বিএনপি আমলে। সে কান্না ফের শুনতে হচ্ছে।


রাশেদ খান মেনন বলেন, চিনিকলগুলো বন্ধ হলে উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের হাজার হাজার কৃষক দিশেহারা হয়ে পড়বে। হাজার হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে পড়বে। চিনিশিল্প রক্ষা করা রাষ্ট্র, সরকারের দায়। এই দায় এড়াতে পারে না সরকার। সমস্যা কোথায়, কেন লোকসান গুনতে হচ্ছে, তা খুঁজে বের করতে হবে। রাষ্ট্রীয় এসব প্রতিষ্ঠান রক্ষার কথা সংবিধান সংরক্ষণ করে। চিনিকল বন্ধ করা মানে সংবিধানের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা।

  • সর্বশেষ - রাজনীতি