ময়মনসিংহ, , ১৯ ফাল্গুন ১৪২৭ অনলাইন সংস্করণ

এক পদে ৪ সন্তানকে প্রার্থী বানিয়ে গভীর রাতে পরীক্ষার আয়োজন

এক পদে ৪ সন্তানকে প্রার্থী বানিয়ে গভীর রাতে পরীক্ষার আয়োজন
আলিম মাদরাসায় সহকারী লাইব্রেরিয়ান পদে লোক নিতে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয় 

ময়মনসিংহের নান্দাইলের রসুলপুর আলিম মাদরাসার অধ্যক্ষ রফিকুল ইসলামের চাকরির মেয়াদ শেষ আগামী ৩১ ডিসেম্বর। ওই মাদরাসায় সহকারী লাইব্রেরিয়ান পদে একজনকে নিয়োগ দেয়া হবে। হাতে সময় কম থাকায় নিজের সন্তানকে ওই পদে চাকরি পাইয়ে দিতে গভীর রাতে পরীক্ষার আয়োজন করেন রফিকুল ইসলাম। তবে এলাকাবাসী বিষয়টি টের পেয়ে যায়।

গত শুক্রবার গভীর রাতে নান্দাইলে এ ঘটনা ঘটে। এদিন ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার মাদরাসার অধ্যক্ষের যোগসাজশে রাতের আঁধারে নিয়োগ নিতে এসে এলাকাবাসীর হাতে ধরা পড়েন মাদরাসা শিক্ষা অধিদফতরের পরিদর্শক বাদশা মিয়া।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় একটি পত্রিকায় মাদরাসার লাইব্রেরিয়ান পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হয়। তবে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হলেও তেমন প্রচার হয়নি। এদিকে আগামী ৩১ ডিসেম্বর অবসরে যাবেন মাদরাসাটির অধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম। তাই চাকরি থেকে অবসরে যাওয়ার মাত্র ছয় দিন আগে গত শুক্রবার নিজের মেয়েকে চাকরি পাইয়ে দিতে গভীর রাতে চারজনের পরীক্ষার আয়োজন করেন তিনি। প্রার্থীদের চারজনই রফিকুল ইসলামের ছেলেমেয়ে (তিন ছেলে ও এক মেয়ে)।

এদিন রাত ১২টার দিকে কেন্দ্রে প্রবেশ করেন প্রার্থীরা। সেখানে মাদরাসা পরিচালনা পরিষদের বেশ কয়েকজন সদস্য ছাড়াও একাধিক শিক্ষক ছিলেন। পরীক্ষা শুরু হওয়ার প্রায় ৩০ মিনিট পরে আসেন মাদরাসা শিক্ষা অধিদফতরের পরিদর্শক বাদশা মিয়া।

তিনি শুক্রবার রাতে একটি সাদা প্রাইভেটকারে মাদরাসায় প্রবেশ করলে এলাকার অনেকের চোখে পড়ে। পরে ঘটনাটি জানতে পেরে লোকজন ছুটে এলে গা ঢাকা দেয়ার চেষ্টা করেন বাদশা মিয়া। এক পর্যায়ে স্থানীয়দের তোপের মুখে তিনি বলেন, ‘ঢাকা থেকে রওনা হওয়ার সময় গাড়িটি নষ্ট হয়ে যায়। তাই আসতে দেরি হয়েছে।’ এ জন্য তিনি স্থানীয়দের কাছে ক্ষমা চেয়ে দ্রুত এলাকা ছাড়েন।

এ বিষয়ে জানতে পরদিন শনিবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে বাদশা মিয়া ওই ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘অধ্যক্ষ রফিকুল ইসলামের ফাঁদে পড়ে তিনি মাদরাসায় গিয়েছিলেন, যা আদৌ ঠিক হয়নি।’

মাদরাসা পরিচালনা কমিটির সদস্য তারা মিয়া বলেন, ‘হুজুরের (অধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম) চাকরি শেষ। তাই নিজের ছেলেকে চাকরিটা দিতেই এই ব্যবস্থা করেছেন তিনি।’

jagonews24

মাদরাসা শিক্ষা অধিদফতরের পরিদর্শক বাদশা মিয়া

এ বিষয়ে মাদরাসার অধ্যক্ষ রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমার চাকরির মেয়াদ শেষ। তাই রাতেই এ ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে সবই নিয়মের মধ্যে হয়েছে।’

মাদরাসা পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি হাবিবুর রহমান বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। যেহেতু রাতের আঁধারে পরীক্ষা নেয়া হয়েছে, তাই এসব ব্যাপারে আমার জানার কথাও না।’

এ বিষয়ে নান্দাইল উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রোকন উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘মাদরাসার আলিম পর্যায়ের নিয়োগ কমিটিতে তাদের কোনো প্রতিনিধি থাকেন না। তাছাড়া বিষয়টি মাদরাসার কর্তৃপক্ষ বিষয়টি আমাকে জানায়নি।’

নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. এরশাদ উদ্দিন বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই। এ বিষয়ে কেউ কোনো অভিযোগ করেননি। তাছাড়া মাদরাসার নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়টি তাদের এখতিয়ারও নেই বলে জানান তিনি।

  • সর্বশেষ - ময়মনসিংহ অঞ্চল