ময়মনসিংহ, , ১৫ মাঘ ১৪২৭ অনলাইন সংস্করণ

ভিজিডির ৩০ কেজির চালের বস্তায় ৪ কেজিই উধাও

  নিজস্ব প্রতিবেদক

  প্রকাশ : 

ভিজিডির ৩০ কেজির চালের বস্তায় ৪ কেজিই উধাও

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে ভিজিডি কর্মসূচির প্রতি চালের বস্তায় চার কেজি চাল কম দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। তবে সেলাই করা বস্তায় চাল কিভাবে কম হয়- এ নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা।

সম্প্রতি বস্তাপ্রতি চার কেজি চাল কম হওয়ার কিছু ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।

ভিডিওতে দেখা যায়, চার-পাঁচটি করে বস্তা মাপা হচ্ছে। মাপ দেয়া প্রতি বস্তায় চার কেজি করে চাল কম। সেলাই করা বস্তা থেকে চাল কীভাবে উধাও হলো তা বলতে পারছেন না কেউ।

এ বিষয়ে গৌরীপুর উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা সুলতানা বেগম বলেন, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ভিজিডি দুই বছরের কর্মসূচির অধীনে গৌরীপুরে তিন হাজার ২৬ দুস্থ নারী এ সুবিধা পান।

প্রতি মাসে জনপ্রতি ৩০ কেজি করে চাল দেয়া হয়। এর মধ্যে ডৌহাখলা ইউনিয়নের সুবিধাভোগীরা প্রকল্পের শেষ মাসে এসে চার কেজি করে চাল কম দেয়ার অভিযোগ করে এ বিষয়টি শুনেছি।

তিনি বলেন, প্রতি মাসে চাল দেয়ার পরে মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা বরাবর প্রত্যয়নপত্র দেয়ার নিয়ম থাকলেও তা কেউ দেয়নি। চেয়ারম্যানরা নিজেদের ইচ্ছামতো চালিয়ে যাচ্ছেন।

চাল কীভাবে সেলাই করা বস্তায় কম হলো, এ বিষয়টি তিনি জানেন না। তবে চাল কম দিলে দ্বিগুণ ভর্তুকির নিয়ম রয়েছে। এজন্য চিঠি ইস্যু করা হয়েছে। যেন সুবিধাভোগীরা ভর্তুকির চাল পায় বলে জানান তিনি।

স্থানীয় সূত্র থেকে জানা যায়, ২৮ ডিসেম্বর ডৌহাখলা ইউপিতে চাল দেয়ার কথা ছিল। তখন বস্তাপ্রতি চাল কম হওয়ার বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করতে উপভোগকারীরা একটি ডিজিটাল মিটার নিয়ে আসেন পরিষদের গুদামে।

ইউপি সদস্য আবুল কালাম সবার সম্মুখে ওজন দিলে দেখা যায় প্রতি বস্তায় চার কেজি চাল কম রয়েছে।

jagonews24

পরে বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান মারুফকে জানালে তিনি ডৌহাখলা ইউপি পরিদর্শন করে চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম সরকারের সাথে আলোচনা করে সোমবার (৪ জানুয়ারি) সবা উপস্থিতিতে চাল দেয়া হবে বলে জানান তিনি। পরে ওই দিন চাল আনতে গেলে চাল দেয়া হয়নি।

পরে বৃহস্পতিবার (৭ জানুয়ারি) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিজে উপস্থিত হয়ে ৩-৪টি বস্তা মাপলে তাতে ৩০ কেজি করে চাল পাওয়া যায়।

ডৌহাখলা ইউনিয়নের নাজনীন বেগম বলেন, প্রতি মাসে ৩০ কেজি করে চাল দেয়ার কথা। কিন্তু এ মাসে আমরা ১০ থেকে ১২ জন ২৫-২৬ কেজি করে চাল পেয়েছি।

এ বিষয়ে ডৌহাখলা ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম সরকার বলেন, চাল দেয়ার শেষ পর্যায়ে ২৫ জন নির্দিষ্ট দিনে চাল নিতে আসেননি। পরে ওই ২৫ জন চাল নিতে এলে বস্তায় কিছু চাল কম পড়ে। ওই বস্তাগুলো ছেঁড়া হওয়ায় চাল কিছু কম হতে পারে। ডিসেম্বর মাসে মোট ৬৮৬ বস্তা চাল দেয়া হয়েছে।

গৌরীপুর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক বিপ্লব সরকার বলেন, চাল কীভাবে বস্তাপ্রতি ৪-৫ কেজি কম হয়েছে, তা আমার জানা নেই। এ চাল প্যাকেট করেন গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।

এ বিষয়ে গৌরীপুর গুদাম কর্মকর্তা সিদ্ধার্থ শংকর তালুকদার বলেন, চেয়ারম্যান নিজে চাল বুঝে নিয়ে গেছেন, কম হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাসান মারুফ জাগো নিউজকে বলেন, চাল বিতরণের শেষ দিন উপস্থিত ছিলাম। ওই দিন ৩-৪ বস্তা চাল মাপা হলে ৩০ কেজিই পাওয়া যায়। তবে আগে বস্তাপ্রতি ৪-৫ কেজি চাল কম দেয়ার বিষয়টি শুনেছি। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে। সত্যতা পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ বিষয়ে ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক মিজানুর রহমান বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে ঘটনার সত্যতা পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  • সর্বশেষ - ময়মনসিংহ অঞ্চল