, ১২ আশ্বিন ১৪২৮ অনলাইন সংস্করণ

গফরগাঁও খারুয়া বড়াইল স্কুলের প্রধান শিক্ষক বীনার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের মামলা দায়ের

  বিশেষ প্রতিবেদক

  প্রকাশ : 

গফরগাঁও খারুয়া বড়াইল স্কুলের প্রধান শিক্ষক বীনার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের মামলা দায়ের

ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ের খারুয়া বড়াইল উচ্চ বিদ্যালয়ের বিতর্কিত প্রধান শিক্ষক বীনা দেবনাথের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। তিনি একই স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক মমতাজ বেগমের এমপিওভুক্তির জন্য ৩ লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছেন। সময় পেরিয়ে গেলেও কাঙ্খিত এমপিওভুক্তি এবং টাকা ফেরত না দিয়ে টালবাহানা শুরু করলে সম্প্রতি ময়মনসিংহের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আলোচিত এ মামলাটি দায়ের করা হয়। এর আগে টাকা উদ্ধারের বিষয়ে নিয়ম অনুযায়ী ৭ দিনের সময় দিয়ে দুর্নীতিবাজ প্রধান শিক্ষক বীনা দেবনাথকে লিগ্যাল নোটিশ প্রদান করা হয়। ঘুষের ৩ লাখ টাকা লেনদেনের স্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে। মামলা দায়েরের আগে এবং পরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হলেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। কর্তৃপক্ষের কেউ কেউ উপরন্তু বিতর্কিত প্রধান শিক্ষককে শেল্টার দিচ্ছেন। চাকরিবিধি অনুযায়ী সরকারি সুবিধা নেওয়া কোনো ব্যক্তি ফৌজদারী মামলায় জড়ালে তাকে প্রতিষ্ঠান থেকে সাময়িক বরখাস্ত করার নিয়ম রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আবেদনের প্রেক্ষিতে মামলা দায়েরের বিষয়টি জানলেও সোমবার এ খবর লেখার সময় পর্যন্ত বীনা দেবনাথের বিষয়ে প্রয়োজনীয় কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। এ ঘটনায় মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের কতিপয় কর্মকর্তার কর্মকাণ্ড নিয়ে বিরূপ মন্তব্য পাওয়া গেছে।

জানা যায়, ২৩-১০-২০১৯ তারিখে ৩৭.০৪৭.০০০০.০০.০০২.০০২.২০১৯.২৮৫ নম্বর স্মারকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় গফরগাঁওয়ের খারুয়া বড়াইল উচ্চ বিদ্যালয় এমপিওভুক্ত করে। এর পরই প্রধান শিক্ষকের আসল রূপ প্রকাশ পেতে থাকে। সুযোগ পেয়ে যোগ্যতা সম্পন্ন শিক্ষকদের কাছ থেকে শিক্ষক এমপিওভুক্ত করার জন্য খরচের কথা বলে টাকা নেওয়া শুরু করেন। একইভাবে সহকারী প্রধান শিক্ষক মমতাজ বেগমকে এমপিওভুক্ত করার জন্য তার স্বামীর কাছ থেকে ৩ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়া হয়। টাকা নিয়েও রহস্যজনক কারণে এমপিওভুক্তির আবেদন ওয়েবসাইটে আপলোড করা হয়নি। বিষয়টি জানাজানি হলে পরিস্থিতি জটিল হতে থাকে। প্রধান শিক্ষক এমপিওভুক্তির আবেদনে সাক্ষর করেও তা মন্ত্রণালয়ের সাইটে আপলোড না করায় বেকে বসেন মমতাজ বেগমের স্বামী মোঃ সহিদ উল্যাহ। সূত্র মতে, মমতাজ বেগম নিয়োগবিধি পূর্ণ করে ১০-১১-২০০৪ তারিখের নিয়োগপত্র অনুযায়ী ২১-১১-২০০৪ তারিখে খারুয়া বড়াইল উচ্চ বিদ্যালয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে যোগদান করেন। একটানা ১৬ বছর সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে স্কুলটিতে কর্মরত থেকে শিক্ষক নিবন্ধন নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হওয়ায় মমতাজ বেগম ও তার স্বামী মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়েন। উল্টো প্রধান শিক্ষকের হুমকির কারণে পরিবারটি বর্তমানে আতঙ্কিত অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে।

অভিযোগে জানা যায়, খারুয়া বড়াইল উচ্চ বিদ্যালয় এমপিওভুক্ত হওয়ার আগেই প্রধান শিক্ষক বীনা দেবনাথ সহকারী প্রধান শিক্ষক মমতাজ বেগমের নিবন্ধনের (এমপিওভুক্তি) জন্য ৩ লাখ টাকা খরচ দাবি করেন। বিষয়টি নিয়ে সহিদ উল্যাহ কয়েকবার প্রধান শিক্ষকের সাথে খোলামেলা কথা বলেন। সম্মান এবং দীর্ঘদিনের শ্রমের কথা ভেবে ০৬-১১-২০১৯ তারিখে প্রধান শিক্ষকের অফিসে বসে ২ লাখ এবং ২২-০৭-২০২০ তারিখে প্রধান শিক্ষকের গফরগাঁও উপজেলা সদরের শিবগঞ্জের বাসায় আরও ১ লাখ টাকা প্রদান করেন। প্রধান শিক্ষক ০৭-১১-২০২০ তারিখে তার নামে রেজিস্ট্রেশন করা গ্রামীণফোনের মোবাইল সিমকার্ড থেকে কল করে খরচের জন্য আরও ১ লাখ টাকা দাবি করেন। নতুন করে টাকা দিতে অস্বীকার করার পরই মমতাজ বেগম ও তার স্বামীর সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয়। ১৫ লাখ টাকা নিয়ে নতুন সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগের কথা বলে হুমকিও দেন দুর্নীতিবাজ প্রধান শিক্ষক। কয়েকবার আলোচনা করেও বিষয়টির কোনো সুরাহা না পেয়ে মমতাজ বেগমের স্বামী আইনের আশ্রয় নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেন।

সূত্র জানায়, ২২-১১-২০২০ তারিখে ময়মনসিংহ জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্য এ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলী বীনা দেবনাথকে লিগ্যাল নোটিশ প্রদান করেন। ৭ দিনের সময় বেধে দিয়ে খরচের কথা বলে নেওয়া ঘুষের ৩ লাখ টাকা ফেরত চাওয়া হয়। অন্যথায় ফৌজদারি কার্যবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়েরের কথা জানানো হয়। সময় পেরিয়ে গেলেও কোনো প্রকার যোগাযোগ এবং টাকা ফেরত না পাওয়ায় ১৪-১২-২০২০ তারিখে ময়মনসিংহের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বীনা দেবনাথকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়। বিজ্ঞ বিচারক মামলাটি আমলে নিয়ে কার্যক্রমের জন্য পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করেন। আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে বিষয়টি জানিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ০৩-০১-২০২১ তারিখে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বরাবর আবেদন করা হয়। অনুলিপি দেওয়া হয় সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের। অভিযোগের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক বীনা দেবনাথের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেন নি।


  • সর্বশেষ - আলোচিত খবর